৭ম শ্রেণীর ছাত্রী অপহরণ: অপহরণকারীর শাস্তি জুতা পেটা

kidnap

আলমগীর হোসেন, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার টানসূত্রাপুর এলাকা থেকে স্বর্ণালী আক্তার (১৪) ৭ম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রী অপহরণ হয়েছে। পরে গ্রাম্য শালিশে অপহরণকারীকে জুতা পেটা করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বিচারের আশায় ওই ছাত্রীর বাবা কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অপহরণের শিকার ওই ছাত্রী কালিয়াকৈর উপজেলার টান সূত্রাপুর এলাকার মোঃ আফজাল হোসেন এর মেয়ে এবং কালিয়াকৈর মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার সোরহাব হোসেনের বখাটে ছেলে রতন মিয়া (২২) ওই ছাত্রীকে স্কুলে যাওয়া আসার পথে বিরক্ত করতো এবং প্রেম নিবেদন করতো। প্রেম প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে তাকে হুমকি দিত ওই বখাটে। এরই জের ধরে গত ১৮ জুন ওই ছাত্রী তার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে আসার পাথে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা বখাটে রতন, একই এলাকার চাঁন মিয়ার ছেলে জসিম, ছোবহান এর ছেলে আজিবর হোসেন তাকে জোড়পূর্বক একটি সিএনজিতে তোলে নিয়ে যায়।

ওই ছাত্রীর পিতা আফজাল হোসেন জানায়, অপহরণের পরের দিন দুপুরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর বাজার থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন। পরে বিষয়টি ওই ছাত্রীর বাবা এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদেরকে জানালে তারা একটি শালিশ বৈঠক বসে। শালিশ বৈঠকে অপহরণকারী রতনকে জুতাপেটা করা হয়।

অপহরণের শাস্তি শুধুমাত্র জুতা পেটা এটা মেনে না নিয়ে ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুক্তি মাহামুদ অপহরণকারি রতনকে ধরে ফেলে এবং অজ্ঞাত কারণে তাকে আবার ছেড়ে দেয়। এছাড়া আসামীরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোড়াফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছেনা।

অভিযোগের পর থেকে বখাটে রতন ও তার বাবাসহ শালিশ বৈঠকের মাতব্বর ও সূত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সোলাইমান মিন্টু ওই ছাত্রীর বাবাকে অভিযোগ উঠিয়ে নেয়ার জন্য নানা ভয়ভীতিসহ হুমকি দিয়ে আসছে। ফলে ওই পরিবারটি এখন নিরাপত্তহীনতার কারণে এলাকা ছাড়া। কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুক্তি মাহামুদ আসামী ছেড়ে দেয়া বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। আর অপহরণকারী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিষয়টি সঠিক নয়।