শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের দলিল প্রস্তাবিত ‘শিক্ষা আইন-২০১৬’ অবিলম্বে বাতিল কর

sikkha-aian-batil-koro

সময়ের কণ্ঠস্বর – শিক্ষানীতি-২০১০ এর আলোকে প্রণীত হচ্ছে শিক্ষা আইন-২০১৬। ইতোমধ্যে শিক্ষানীতি-২০১০ বাস্তবায়নের ফলে শিক্ষার সর্বস্তরে বাণিজ্যিকীকরণ-বেসরকারিকরণ-সাম্প্রদায়িকীকরণ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন ঘটেছে। ফলে সেই নীতি বাস্তবায়নের জন্য যে আইন প্রণীত হয়েছে তা কতটুকু শিক্ষার অধিকার রক্ষা করবে তা সহজেই অনুমেয় বলছিলেন   সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্নেহাদ্রি চক্রবর্ত্তী রিন্টু । 

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট এর উদ্যোগে ২৪ জুন ’১৬ বিকাল ৪ টায় এক কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নগর শাখার সভাপতি রেজাউর রহমান রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মীসভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্নেহাদ্রি চক্রবর্ত্তী রিন্টু।

তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জীবনের নিরাপত্তাহীনতাসহ গণতান্ত্রিক অধিকারহীনতায় জনগণকে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর আলোকে প্রণীত হচ্ছে শিক্ষা আইন-২০১৬। শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট এমন ছাত্র- শিক্ষক- বুদ্ধিজীবী- রাজনৈতিক কর্মী- অভিভাবক তো নয়ই এমনকি দেশের ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি গণতান্ত্রিক ধারার ছাত্র সংগঠনগুলোর মতামত না নিয়েই চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রণীত হয়েছে প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন-২০১৬। ইতোমধ্যে শিক্ষানীতি-২০১০ বাস্তবায়নের ফলে শিক্ষার সর্বস্তরে বাণিজ্যিকীকরণ-বেসরকারিকরণ-সাম্প্রদায়িকীকরণ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন ঘটেছে। ফলে সেই নীতি বাস্তবায়নের জন্য যে আইন প্রণীত হয়েছে তা কতটুকু শিক্ষার অধিকার রক্ষা করবে তা সহজেই অনুমেয়। যেমন, শিক্ষা আইনে বলা হয়েছে ‘আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক ’ শিক্ষাদানের কথা। বাংলাদেশে এখনও প্রায় ২২ হাজার গ্রামে কোনো সরকারি স্কুল নেই। শিক্ষার আওতায় আসতে পারে না প্রায় ১০ ভাগ শিশু। প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়া অর্ধেক শিশু পঞ্চম শ্রেণীতেই ঝরে যাচ্ছে। শিক্ষা আইনে বলা হয়েছে ‘সকল শিশুর জন্য বৈষম্যহীন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করিবে…” বাস্তবে দেশে প্রাথমিক স্তরেই প্রায় ১৩ ধরনের স্কুল আছে। এর মধ্যে এমন স্কুলও আছে যেখানে প্রথম শ্রেণীর ভর্তি ফি ১০ লাখ ৩ হাজার টাকা। বাৎসারিক টিউশন ফি ছাড়া অন্যান্য ফি লাগে ১৭ লাখ ২১ হাজার টাকা (বারিধারায় অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল)। স্কুল স্তরে গাইড-বই নিষিদ্ধ করার কথা বললেও সহায়ক পুস্তিকার নামে গাইড বইয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কোচিং বাণিজ্য বন্ধের কথা বলা হয়েছে কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আনুষঙ্গিক আয়োজন নেই। ফলে এ কথাও শেষ পর্যন্ত বাগাড়ম্বরে পরিণত হবে।

কিছুদিন আগে সরকার বাজেট ঘোষণা করেছে। আমাদের সংগঠনসহ অন্যান্য বাম সংগঠনগুলো শুরু থেকেই ইউনেস্কো কর্তৃক প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের ২৫% শিক্ষা খাতে বরাদ্দের দাবি করে এসেছে। কিন্তু এই বাজেটেও সেই দাবির প্রতিফলন আমরা দেখতে পাইনি।

ফলে এখন ছাত্র সমাজকে উন্নত নীতি-নৈতিকতার ভিত্তিতে শিক্ষা ধ্বংসের দলিল ‘শিক্ষা আইন ২০১৬’ সহ শিক্ষার সকল সংকট নিরসনের জন্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতৃত্বে তীব্র ছাত্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।