নীলফামারীতে ৫০০ টাকায় বন্ধুর কাছে স্ত্রীকে বন্ধক দিয়ে বিপাকে স্বামী !

223403

মোঃ মহিবুল্লাহ্ আকাশ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে নিজের প্রেমিকা (কথিত স্ত্রী) কে বন্ধুর কাছে বন্ধক রাখার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামের রিকশাভ্যানের চালক লিটন আলী ওরফে ফকির (২৮) । তিনি চট্টগ্রামে বিয়ে করে দীর্ঘদিন সেই স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করেন। সে সংসারে তার এক সন্তানও রয়েছে। মাঝখানে হঠাৎ আগের স্ত্রী-সন্তান রেখে পালিয়ে আসেন সৈয়দপুরে। এখানে এসে প্রথম স্ত্রীর অগোচরে বিয়ে করেন। সংসারও শুরু করেন। দুই মাস পর প্রথম স্ত্রী বাড়ি আসবে জেনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। উপায় হিসেবে বের করেন, নববধূকে কারও কাছে কিছু সময়ের জন্য রেখে দেওয়া। তা-ও টাকার বিনিময়ে। আর এতেই বেধেছে বিপত্তি। বেঁকে বসেছেন স্ত্রী। স্বামীর কাছে ফিরবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। শুধু তা-ই নয় বন্ধক গ্রহীতাকে বিয়ে করবেন বলেও জানিয়েছেন। ওদিকে বিপত্নীক বন্ধকগ্রহীতাও এ বিয়েতে রাজি। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব বেধেছে স্বামী ও বন্ধকগ্রহীতার মধ্যে।

নববিবাহিত স্ত্রীকে বন্ধক রেখে বিপাকে পড়েছেন রিকশাভ্যানের চালক লিটন আলী ওরফে ফকির (২৮)।

লিটন আলী জানান, দুমাস আগে প্রেম করে বিয়ে করেন তিনি পাশের নীলফামারী সদর উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের শুকানপুকুর গ্রামের শিল্পী আখতারকে (১৯)। লিটন এর আগে চট্টগ্রামে রিকশাভ্যান চালাতেন। তাঁর স্ত্রী-সন্তান সেখানেই বসবাস করছেন। প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে তিনি বিয়ে করেন শিল্পীকে।

লিটন জানান, প্রথম স্ত্রী চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে আসছেন, এ খবরে দিশেহারা হয়ে পড়েন। কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। পরে শিল্পীর বাবার বাড়ি এলাকার বাসিন্দা বিপত্নীক কাঠমিস্ত্রি ওলেমান মিয়ার (৩২) কাছে তিনি নববধূকে মাত্র ৫০০ টাকায় বন্ধক রাখেন। কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে আগের স্ত্রী না আসায় তিন দিনের মাথায় গতকাল শুক্রবার রাতে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে যান তিনি।

লিটন জানান, বউ তো ফিরে এলই না, বরং তাঁকে নানা রকম হুমকি ধমকি দেওয়া হয়েছে। অনেক অনুরোধ করলে শিল্পী তাঁকে সাফ জানিয়ে দেন, যে ব্যক্তি স্ত্রীকে বন্ধক রাখে, সে কেমন স্বামী? তাই তিনি বন্ধকগ্রহীতার সঙ্গেই থাকতে চান। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ তোলপাড় শুরু হয়েছে।

শিল্পী বেগমের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমি কোনোভাবেই লিটনের কাছে ফিরে যাব না।’

বন্ধকগ্রহীতা ওলেমান বলেন, ‘আমি শিল্পীকে বিয়ে করব। ওকে ছাড়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

এলাকার নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য আফজাল হোসেন বলেন, ‘লিটনের অপরাধ অমার্জনীয়। আর শিল্পী যা করেছে, তা-ও ঠিক হয়নি। বিয়ে না করে শিল্পী কীভাবে ওলেমানের বাড়িতে আছেন, তা আমার বোধগম্য নয়।’

কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। ঘটনাটি শুনে আমি বিস্মিত হয়েছি।’

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ নিয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখব।’