নিউইয়র্কের রাস্তায় বাঙালি ট্রাফিক পুলিশ !

29bangladeপ্রবাসের কথা ডেস্ক: পুলিশের ইউনিফর্ম গায়ে চাপিয়ে, হাতে ছোট একটি মেশিন নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন বাঙালি ট্রাফিক কর্মী। নিউইয়র্কের যে কোনো এলাকার রাস্তায় হাঁটলেই নজরে পড়বে এমন দৃশ্য। তাঁদের চোখ বিভিন্ন গাড়ির ড্যাশ বোর্ডে, যেখানে নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য থাকে।

তাঁদের আরেকটা চোখ পার্কিং মিটারের দিকে। পার্ক করা গাড়ি ঠিকমতো পার্কিং বিল দিয়েছে কি না, উদ্দেশ্য সেটা দেখা। বেআইনি কিছুর প্রমাণ মিললেই খসখস করে টিকিট লিখে দেবেন। জরিমানার পরিমাণ অপরাধের মাত্রার ওপর নির্ভর করে, তা ৩০ থেকে ১৫০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

নিউইয়র্ক পুলিশে এখন কমপক্ষে এক হাজার বাংলাদেশি কাজ করছেন। তাঁদের অধিকাংশই ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করেন, যাঁদের পোশাকি নাম ‘ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট’। এই শহরে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালনকারী মোট জনবল ২ হাজার ৬০০। অর্থাৎ শহরের ট্রাফিক পুলিশের এক-তৃতীয়াংশের বেশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। শুধু এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট নয়, পদোন্নতি পেয়ে অনেকে সুপারভাইজার হয়েছেন। কেউ কেউ পরীক্ষা দিয়ে ডিটেকটিভ হিসেবেও দায়িত্ব পেয়েছেন।

তিন বছর আগে নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক দীর্ঘ প্রতিবেদনে পুলিশ দপ্তরে বাঙালিদের এই হিসাবটা দেওয়া হয়েছিল। এতে দেখা যাচ্ছে, প্রায় এক কোটি লোকের এই শহরে বাঙালির সংখ্যা লাখ খানেক হবে। ৫১ হাজার জনবলের পুলিশ দপ্তরে ৩৪ হাজার অফিসার, যাঁরা ইউনিফর্ম গায়ে চাপিয়ে সারা শহরে টহল দেন। শহরে বাংলাদেশিদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার বড়জোর ১ শতাংশ। অথচ ট্রাফিক পুলিশে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। ট্রাফিক এজেন্ট ইউনিয়নের সভাপতি রবার্ট কাসসার পত্রিকাটিকে এই হিসাব দিয়েছিলেন।

নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছিল, একসময় বাঙালি বলতে বোঝাত ট্যাক্সি ড্রাইভার, কিন্তু এখন তাঁদের প্রধান পরিচয় ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট। কিন্তু কী করে এত বাঙালি ঢুকলেন ট্রাফিক বিভাগে?

নিউইয়র্ক পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সুপারভাইজার খান শওকতের কাছে এর একটা সহজ ব্যাখ্যা আছে। তিনি বললেন, ‘সরকারি চাকরির মধ্যে এই একটা কাজ মার্কিন নাগরিক না হলেও মেলে। আপনি যদি বৈধ অভিবাসী হোন, আপনার যদি গ্রিনকার্ড থাকে, আর ন্যূনতম হাইস্কুল পাসের সার্টিফিকেট থাকে, তাহলে চাকরির আবেদন করতে পারবেন।’