ফুলবাড়ীর মার্কেট ঈদের সাজে সেজেছে, পুরোপুরি জমেনি কেনাকাটা

মোস্তাফিজুর রহমান সুমন, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর দোকানগুলো সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে, কিন্তু ঈদ ঘনিয়ে আসলেও এখনও কেনাকাটা পুরোপুরি জমে উঠেনি।

অন্যান্য বছর যেমন রমজানের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বাজারে কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়, এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। ২০ রোজা অতিবাহিত হচ্ছে অথচ এখনো ফুলবাড়ীর মার্কেটগুলোতে ঈদের কেনাকাটায় তেমন ভিড় দেখা যায়নি। তবে কাটা কাপড়ের দোকানে রোজার প্রথম সপ্তাহ থেকেই কেনাকাটা শুরু হয়েছে। বর্তমানে পৌর বাজারের সব ধরনের দোকানে বেচাকেনা পুরোদমে শুরু না হলেও ধীরে ধীরে অবস্থা ভালোর দিকে এগুচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

অথচ অন্যান্য বছর এ সময়টায় ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম থাকতো শহরের বিপণী-বিতানগুলো। গত বছরের তুলনায় এবার কাপড় জুতাসহ সব রকমের আইটেমের দাম বেশি বলে ভুক্তভোগী ক্রেতা সাধারণ অভিমত প্রকাশ করেছেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্রেতা একেবারেই কম থাকে, তবে ইফতারির পর থেকে দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে।

কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং ফুলবাড়ী ও আশেপাশের এলাকায় পুরোদমে রোপা আমন চাষ শুরু না হওয়ার ফলে দিনমজুরদের হাতে এবার টাকা-পয়সা নেই বলে অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে। আবার বে-সরকারী প্রতিষ্ঠাগুলোর সময়মত বেতন-বোনাস না থাকায় মানুষজন এখনও ঈদের কেনাকাটায় মনোযোগ দিতে পারেনি, আর তাই দোকানগুলোতে ক্রেতাদের তেমন ভিড় নেই বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।

এবার ফুলবাড়ী বাজারে শাড়ী, থ্রি-পিস, সালোয়ার, কামিজ, জিন্স প্যান্ট, টি-শার্ট প্রভৃতি কাপড়ের আইটেমসহ রয়েছে রকমারি জুতা স্যান্ডেলের সমাহার। বাচ্চাদের কাপড়ের মধ্যে গত বছরের আকর্ষণীয় ডিজাই ও বাহারী কাপড়ের সমাহারতো আছেই আবার নিত্য নতুন নামের চমক রয়েছে অনেক আইটেমের কাপড়ে। তবে উঠতি বয়সের তরুন-তরুনীরা ভারতিয় টিভি সিরিয়াল ‘‘হোম টেক্স’’ থ্রিপিস ক্রয়ে পাগল হয়ে উঠেছে। এই থ্রিপিস ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও এবার বাজারে এসেছে গাউনের জামা, ফ্লোর টার্চ, তানশী থ্রিপিস, পাজোসহ বাহারী ডিজাইনের পোশাক।

eid-fulbari

বে তরুন-তরুনীরা এবার গাউনের জামার প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছে। তবে দাম বেশি হওয়ায় এই সব পোশাক সব ধরণের ক্রেতা কিনতে পারছেন না বলে আফসোস করে ফিরে যাচ্ছেন । ১ বছরের শিশু থেকে ১২/১৪ বয়রের বাচ্চাদের ১ সেট পোষাক বিক্রি হচ্ছে ৮’শ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। পাঞ্জাবীর দোশানগুলোতে পাঞ্জাবীর পাশাপাশি ট্রাউজারর ও চুড়িদার পায়জামা বিক্রি হচ্ছে বেশি। এবার পাঞ্জাবীর বাজারে সুতি পাঞ্জাবীর চাহিদা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাঞ্জাবীর মধ্যে পুষ্পকলি, জিপসী, অক্টপাস, মাসাকশালী প্রভৃতির চাহিদা রয়েছে।

র্পূর্বাশা গার্মেন্টেসের মালিশ আশিফ নজরুল জানান, এখনও পুরোদমে বেচাকেনা শুরু না হলেও ক্রমান্বয়ে বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। ক্রেতারা মার্কেটে এসে বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক এবং মূল্য দেখে তাদের বাজেটের সাথে মিলিয়ে নিচ্ছেন। আবার কোন কোন ক্রেতা বাজেটের তোয়াক্কা না করে পয়ন্দ হলেই কিনছেন তার পছন্দের পোশাক। তবে দাম বেশি হওয়ায় ফ্যাশন পাব্ধাবী ও রেডিমেট ফ্যাশন পোষাকের বিক্রি কম হচ্ছে।

পৌর বাজারের জুতার দোকান সৌখিন সু-হাউজের মালিক, ফুলবাড়ী থানা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মোঃ মানিক সরকার বলেন, দেরিতে হলের ফুলবাড়ীতে ঈদের বাজারে ক্রমেই জমে উঠছে। ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে দেখছেন এবং তুলনা মূলক কম দামের স্যান্ডেল স্ ুবেশী কিনছেন । তবে ক্রেতারা জানান দাম বেশি হওয়ায় পছন্দ হওয়া সত্ত্বেও মনের মত স্যান্ডেল কেনা সম্ভব হচ্ছে না। সাধ্যের মধ্যে একটু কম দামে স্যান্ডেল কিনেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। পৌর বাজারের আধুনিক মানের সু-স্যান্ডেলের দোশানগুলোর মধ্যে রয়েছে, পাদুকা বিপুনী বিতান, পায়ে পায়ে সু-হাউজ,ফাহমিদ সু-গ্যালারী, বাটা সু-গ্যালারী, জাহাঙ্গীর সু হাউস।

ফুলবাড়ীর ২টি অভিজাত টেইলার্স ভিআইপি ও বেনিসন তাদের অর্ডার এখনও অব্যাহত রেখেছে। অথচ গত বছর এ সময় অর্ডার নেয়া বন্ধ ছিল। শাড়ী কাপড়ের দোকানের মধ্যে রমনী শাড়ী ঘর, মনেরেখ শাড়ী ঘর, বধু সাজ এই ৩টি দোকানে বেশি ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে এখানেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। কারণ ক্রেতাদেরকে এই সব দোকানেও আক্ষেপ করে বলতে শোনা গেছে সব কাপড়ের দাম বেশি, সাধ আছে সাধ্য নাই। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারী মার্কেটে দাম বেশি হওয়ায় সবখানেই এর প্রভাব পড়েছে । নূন্যতম লাভেই আমরা বেচা-বিক্রি করার চেষ্টা করছি। এবার ফুলবাড়ী বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে তরুন-তরুনীদের ভিড়ই বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে । বিশেষ করে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় তরুন-তরুনীরা সন্ধ্যার পর দল বেধে দোকানগুলোতে কেনাকাটা করতে আসছে ।