বহুল কাঙ্ক্ষিত মেট্রোরেল ও বিআরটি নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

hasina
ফাইল ফটো

সময়ের কণ্ঠস্বর- রাজধানীবাসীর বহুল কাঙ্ক্ষিত মেট্রোরেল ও বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) নির্মাণযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে মেগা এ দুটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন তিনি। পরে দেশ ও জাতির উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৬ প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রথম মেট্রোরেলের ভূমি উন্নয়ন কাজ এবং বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের আওতায় গাজীপুর বাস ডিপোর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন হলো এ অনুষ্ঠানে।

বাস্তবায়নাধীন উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এ মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য হবে ২০.১ কিলোমিটার। এটি উত্তরা থেকে শুরু হয়ে পল্লবী-রোকেয়া সরণির পশ্চিম পাশ দিয়ে খামারবাড়ী-ফার্মগেট-হোটেল সোনারগাঁও-শাহবাগ- টিএসসি-দোয়েল চত্বর-তোপখানা রোড হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত যাবে।

মেট্রোরেল চালু হলে ঘণ্টায় উভয়দিক থেকে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা যাবে। আর বাস্তবায়নাধীন বিআরটিএ লাইন দিয়ে গাজীপুর থেকে এয়ারপোর্ট সড়কে ঘণ্টায় ২৫ হাজার যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে।

মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা লাগবে, যার ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা দেবে জাপানের আন্তার্জাতিক সাহায্য সংস্থা জাইকা। বাকি ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা জোগাবে সরকার। ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জাইকার সঙ্গে চুক্তি সই করেছে সরকার।

মেট্রোরেলের ১৬টি স্টেশন হবে উত্তরা (উত্তর), উত্তরা (সেন্টার), উত্তরা (দক্ষিণ), পল্লবী, মিরপুর ১১, মিরপুর-১০ নম্বর, কাজীপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেইট, সোনারগাঁও, জাতীয় জাদুঘর, দোয়েল চত্বর, জাতীয় স্টেডিয়াম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এলাকায়।

টঙ্গী ও উত্তরার সঙ্গে ঢাকা মহানগরীর যাতায়াত সহজতর করতে বিআরটি রুট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিআরটি একটি উন্নতমানের বাসভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে যাত্রীরা কম সময়ে, নিরাপদে ও আরামদায়কভাবে যাতায়াত করতে পারবে। বিআরটি ব্যবস্থায় সংরক্ষিত লেনে উন্নত যাত্রী সেবার লক্ষ্য নিয়ে বাস চলাচল করবে।

এরই মধ্যে বিআরটির প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ হয়েছে। বাস্তবায়ন কাজও শুরু হয়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বিআরটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পটি গাজীপুর টার্মিনাল থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত সাড়ে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ। বিআরটি রুটে থাকবে ২৫টি স্টেশন, নির্মাণ করা হবে ছয়টি ফ্লাইওভার। উত্তরা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার থাকবে এলিভেটেড (ওপর দিয়ে) বিআরটি লেন। ১৬ কিলোমিটার থাকবে সমতল বা এট গ্রেড। ১৮ মিটার দীর্ঘ ১০০টি আর্টিকুলেটেড বাস চলাচল করবে এ পথে। বাসগুলোয় ভাড়া আদায়ে থাকবে ইলেক্ট্রনিক স্মার্ট কার্ড।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং ঢাকা বিআরটি কোম্পানি লিমিটেড। এটি বাস্তবায়নে প্রায় ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। যার অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা এবং গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাসিলিটি।