সৈয়দপুরে পাঁচশত টাকার বিনিময়ে বউ বন্ধক

bou-bondhok

নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর সৈয়দপুরের পল্লীতে এক নববধুকে তার স্বামি ৫শ টাকার বিনিময়ে পর পুরুষের কাছে বন্ধক রেখেছে। পরে তিন দিন পর তার স্বামী বন্ধকী স্ত্রীকে ফেরত আনতে গিয়ে উভয়ের মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের ঘটনাটি চাউর হলে এ নিয়ে ওই এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটছে উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউপিতে।

জানা যায়, ভ্যান চালক লিটন আলী ওরফে ফকির সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চওড়া বাজারের সংলগ্ন তেলিপাড়ার বাবর আলীর পুত্র। দুই মাস আগে ভালোবেসে শিল্পী আখতারকে (১৯) বিয়ে করে নিজ বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করে। শিল্পী আখতারের বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের শুকান পুকুর এলাকায়।

প্রতিবেশীদের অজান্তে গত বুধবার (২২ জুন) স্ত্রী শিল্পীকে ৫শ টাকার বিনিময়ে তার পিত্রালয়ের পাশের গ্রাম নাটুয়া পাড়ার কাঠুরিয়া ওলেমান মিয়ার (৩২) কাছে বন্ধক রাখে লিটন। তিন দিন পর শুক্রবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় লিটন বন্ধক গ্রহিতা ওলেমানের কাছ থেকে স্ত্রী শিল্পীকে ফেরত আনতে গিয়ে ঘটে যায় বিপত্তি। শিল্পী তার স্বামী লিটনের ঘরে ফেরত না এসে বন্ধক গ্রহিতাকে স্বামী হিসেবে গ্রহন করার দৃঢ় সংকল্প করায় ত্রিমুখী দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। আর তখনই ঘটনাটি এলাকায় চাউর হয়ে পড়ে।

শুক্রবার রাত ১২টার দিকে চওড়া বাজারে দেখা মেলে লিটন হোসেনের। তিনি সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, শিল্পী আখতার আমার সাথে প্রায় দুই মাস থেকে ঘর সংসার করছে। সৈয়দপুর শহরের অদূরে ঢেলাপীরে তার পূর্বের স্বামী রয়েছে। স্বামী তাকে (শিল্পী) নির্যাতন করতো বলে সে আমার সাথে সম্পর্ক তৈরী করে আমার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তবে আমি তাকে বিয়ে করিনি। তবে সে ৫শ টাকার বিনিময়ে পর পুরুষ ওলেমানের হাতে তুলে দেয়ার কথা স্বীকার করে।

অন্য একটি সূত্র জানায়, লিটন খারাপ প্রকৃতি যুবক। সে ইতিমধ্যে বিয়ের নামে এ ধরনের অনেক ঘটনা ঘটিয়েছে। সে চট্টগ্রামে ভ্যান চালাতো। সেখানে স্ত্রী-সন্তান সহ বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। ইউপি নির্বাচনের সময় স্ত্রী-সন্তান রেখে বাড়িতে আসে। আগামী ২-১ দিনের মধ্যে স্ত্রী-সন্তান গ্রামের বাড়িতে আসার কথা রয়েছে। আর তাই কৌশলে বিপত্মীক কাঠুরিয়া ওলেমানের হাতে তুলে দেয় শিল্পীকে।

কাশিরাম ইউনিয়নের নব নির্বাচিত ইউপি সদস্য আফজাল হোসেন জানান, লিটন এলাকায় প্রচার করেছিল সে শিল্পীকে বিয়ে করে বসবাস করছে। কিন্তু এখন সে বলছে বিয়ে করিনি। তাহলে বিবাহ বহির্ভূত এমন কাজ করায় সে অমার্জনীয় অপরাধ করেছে।

এ বিষয়ে নারী নেত্রী কামরুন নাহার ইরা বলেন, স্ত্রীকে বন্ধক কিংবা টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেয়ার এখতিয়ার স্বামী বা অন্য কাহারো নাই। তিনি এ ঘটনাটির বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

‘সার্চ’ মানবাধিকার সোসাইটি বাংলাদেশর কেন্দ্রীয় কমিটির কার্য্যনির্বাহী সদস্য সামিনুর রহমান জানান, লিভ টুগেদার জঘন্যতম একটি অপরাধ। তিনি আইন প্রয়োগকারী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। কথা হয় নীলফামারী জজ কোটের আইনজীবি মোঃ ওবায়দুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, বিনিময়ের মাধ্যমে স্ত্রীকে অন্যের হাতে তুলে দেয়া গুরুতর অপরাধ। তাছাড়া প্রথম স্বামী কর্তৃক স্ত্রী তালাক প্রাপ্ত না হলে কোন অবস্থাতেই আবারো কাবিননামা হবে না।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিরুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে এখনও অবগত নন। তবে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।