‘চাহিদার তুলনায় বর্তমানে গ্যাসের উৎপাদন কম’

Nosru

সময়ের কণ্ঠস্বর- চাহিদার তুলনায় গ্যাসের উৎপাদন বর্তমানে কিছুটা কম বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। আজ রবিবার সংসদে বেগম সালমা ইসলামের (ঢাকা-১) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গত কয়েক বছরে গ্যাসের উৎপাদন যথেষ্ট বৃদ্ধি পেলেও গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হচ্ছে না।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে গ্যাস চাহিদা দৈনিক ৩২০০ মিলিয়ন ঘটফুটের অধিক এবং এর বিপরীতে দৈনিক গড়ে প্রায় ২৭৪০ মিলিযন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্যাসের বিদ্যমান অবস্থায় নতুন এলাকায় নেটওয়ার্ক বর্ধিত না করে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত কমিটির মাধ্যমে শিল্প খাতে সীমিত হারে গ্যাস সংযোগ দেয়া হচ্ছে।

সরকারি দলের সদস্য গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ ঘাটতি রোধ করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার আওতায় ২০২১ সালে ২৪ হাজার মেগাওয়াট, ২০৩০ সালে ৪০ হাজার মেগাওয়াট ও ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও মোট সঞ্চালন লাইনের পরিমাণ ২০২১ সালের মধ্যে ১৯ হাজার সার্কিট কিলোমিটার এ উন্নীত করার পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সকল অবিদ্যুৎতায়িত গ্রামগুলো পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছানোর লক্ষ্যে আরো ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন নির্মাণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি রোধে ও অবৈধ সংযোগ বন্ধে মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিম্নলিখিত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সংস্কার কর্মসূচির আওতায় প্রয়োজনানুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো উন্নয়নের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার লক্ষ্যে সংস্থা ও কোম্পানিসমূহ কর্তৃক এপিএ (এনুয়াল পারফরমেন্স এগ্রিমেন্ট) কেপিআই বাস্তবায়ন করা, অবৈধ সংযোগ বন্ধের লক্ষ্যে সংস্থা ও কোম্পানিসমূহ কর্তৃক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

নসরুল হামিদ বলেন, জনসাধারণের মাঝে বিদ্যুতের অপচয় রোধ অথবা বিদ্যুৎ চুরি সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা এবং লিফট লেট বিতরণ, মোটিভেশনের মাধ্যমে গ্রাহক উদ্বুদ্ধকরণ সভা পরিচালনা করা এবং সতর্ক বার্তা প্রচার অব্যাহত রাখা, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধের ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা, অপরাধ বিবেচনা করে আর্থিক জরিমানা অথবা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হচ্ছে।