কাশ্মীরে হামলায় আট ভারতীয় পুলিশ কর্মকর্তা নিহত

antorjatik-desk

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- গুলি ছোড়ার প্রশিক্ষণ সেরে ফেরার সময়ে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় কাশ্মীরে ভারতীয় আট পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছে। শনিবার প্রাদেশিক রাজধানী শ্রীনগর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে এ হামলা হয়। পাল্টা হামলায় নিহত হয়েছে দুই বিচ্ছিন্নতাবাদী। খবর- ভয়েস অব আমেরিকা, আনন্দবাজার পত্রিকা

পুলওয়ামা জেলার পাম্পোরের ফ্রেস্তবালে এ দিন গুলি ছোড়ার প্রশিক্ষণ সেরে একটি বাসে চড়ে ফিরছিলেন ৫৮ জন সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) জওয়ান। উল্টো দিক থেকে আসা একটি গাড়ি থেকে হঠাৎ নেমে গুলি ছুড়তে শুরু করে দুই বিচ্ছিন্নতাবাদী। প্রথমে নিহত হন বাসের চালক। তার পরে বাস লক্ষ করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।

এমন ক্ষেত্রে জওয়ান ভর্তি বাসের সামনে থাকে বাহিনীর ‘রোড ওপেনিং পার্টি’। সড়কে কোনো বিপদের সম্ভাবনা আছে কিনা তা দেখাই ‘রোড ওপেনিং পার্টিতে’ থাকা জওয়ানদের কাজ। এ দিন হামলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই দলে থাকা জওয়ানরা পাল্টা গুলিবর্ষণ শুরু করেন। তাতেই নিহত হয় দুই বিচ্ছিন্নতাবাদী।

এর পরে আহত জওয়ানদের সেনার বেস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সিআরপিএফের তরফে জানানো হয়েছে, পাঁচ জনকে হাসপাতালে আনার পরেই মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। পরে মারা যান আরো তিন জন। আহতের সংখ্যা ১৮।

ঘটনাস্থলে যান সিআরপিএফের আইজি নলিন প্রভাত ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিজি কে রাজেন্দ্র। আরো ২ বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনীর হাত এড়িয়ে পালিয়ে গিয়েছে বলে সন্দেহ গোয়েন্দাদের। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে যৌথ বাহিনী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহকে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট দেন সিআরপিএফের ডিজি কে দুর্গাপ্রসাদ। তাকে আগামীকাল কাশ্মীর যেতেও নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

নিহত দুই বিচ্ছিন্নতাবাদী পাকিস্তানি বলে ধারণা গোয়েন্দাদের। পাক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা হামলার দায় স্বীকারও করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রের মতে, গ্রীষ্মকালে উপত্যকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ বাড়া নতুন কিছু নয়। এখন বাহিনীর উপরে হামলা চালিয়ে আতঙ্ক বজায় রাখার দিকে জোর দিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। সে ক্ষেত্রে সহজে হামলা চালিয়ে অনেক প্রাণহানি ঘটানো যায় এমন লক্ষ্যবস্তুই বেছে নিচ্ছে তারা।

গোয়েন্দাদের মতে, ২০১৩ সালে মনমোহন সিংয়ের কাশ্মীর সফরের সময়ে প্রথম এই কায়দায় হামলা চালানো হয়। হায়দরপোরা-শ্রীনগর সড়কে সেনার কনভয়ে সেই হানায় ৮ জন জওয়ান নিহত হন। চলতি মাসের গোড়ায় কাশ্মীরের বিজবেহরা এলাকায় বিএসএফের বাসেও একই কায়দায় হামলা হয়েছে। তাতে প্রাণ হারান দু’জন জওয়ান।