চলনবিলে পাট কাটা-ধোয়ায় ব্যস্ত কৃষকরা

Tarash Pic-26-06-16-1

আশরাফুল ইসলাম রনি, তাড়াশ(সিরাজগঞ্জ) থেকে: চলতি পাট মৌসুমে চলনবিলে পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও পাটকাঠি থেকে পাট ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। অন্য বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম কম হওয়ায় হতাশায় কৃষক।

জানা যায়, চলতি বছরে চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা পাট কেটে তা বিভিন্ন জলাশয়ে জাগ দিচ্ছেন। চাষিরা পাট কেটে নদী, নালা, খাল, বিল ও ডোবায় জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং হাটে-বাজারে বিক্রিসহ সব মিলিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার কোথাও কোথাও দেখা গেছে, নারী-পুরুষের অংশ গ্রহণে পাট ছাড়ানোর কাজ চলছে। অনেক স্থানে খরচ বাঁচাতে রিবোন রেটিং পদ্ধতিতে আশ ছাড়ানোর জন্য কৃষি বিভাগ কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করলেও কৃষকরা তাতে আগ্রহ নয়।

কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা যায়, চলনবিল এলাকার সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, সলঙ্গা উল্লাপাড়া, পাবনার ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর ও নাটোরে গুরুদাশপুর, বড়াইগ্রাম, সিংড়া উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম জমিতে পাট চাষ হয়েছে। পাট চাষের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম থাকায় অনেক স্থানে চাষ কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও ফলন ভালো হয়েছে। ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরাও কিছুটা খুশি হলেও অন্য বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম অনেক কম হওয়ায় কৃষক হতাশায় পড়েছে। তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ও গুল্টা হাট-বাজারে ভালো মানের পাটের মূল্য ১৫‘শ টাকা মণ ও নিম্ন মানের পাটের মূল্য ১২‘শ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। এতে ন্যায্য মূল্য নিয়ে পাট চাষীরা সংশয় প্রকাশ করছে। বর্তমান বাজারে পাটের যে দাম তাতে কৃষকের পাট চাষের খরচ উঠছে না।

গুরুদাশপুর উপজেলার রানীগ্রামের পাট চাষী মোঃ নওশের আলী জানান, ১০বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। পাটও ভালো হয়েছে। তবে অন্য বছরের তুলনায় দাম কম হওয়ায় লোকসানে পরতে হবে।

তাড়াশ উপজেলার চর-হামকুড়িয়া গ্রামের পাট চাষী ফরিদুল ইসলাম বলেন, ৩ বিঘা জমিতে পাট আবাদ করছিলাম। দাম কমের কারণে না কেটে পাট জমিতেই ফেলে রেখেছি।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম জানান, এ বছরে লক্ষমাত্রার চেয়ে অনেক কম হারে পাঠ চাষ হয়েছে। পাটের ফলনও হয়েছে বাম্পার।