তিস্তায় ভাঙ্গনের কোলাহল

dimla

মাজহারুল ইসলাম লিটন, ডিমলা প্রতিনিধি: ভারী বর্ষন ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি শনিবার বিপদ সীমার ২০ সেন্টিমিটার উপড় দিয়ে প্রবাহিত হলেও। কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে আজ রবিবার পানির প্রবাহ কমে তিস্তা এখন বইছে ২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় নতুন করে ভাঙ্গন নিয়েছে ভয়ঙ্কর রুপ।

তিস্তার বন্যা ও প্রবল ভাঙ্গনে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী গ্রামটি লন্ডভন্ড হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪ টি) জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

এদিকে তিস্তার বন্যায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি, জলঢাকা উপজেলার, গোলমুন্ড, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী তিস্তা নদী বেষ্টিত এলাকার ১৫টি চর ও গ্রামের ১০ হাজার পরিবার পড়েছে বন্যার পরে ভাঙ্গনের কবলে। শুক্রবার চরখাড়িবাড়ির ১৭টি পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। শত শত পরিবার ঘর বাড়ি ভেঙ্গে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছে। ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখড়িবাড়িতে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত এক হাজার মিটার দীর্ঘ বালির বাঁধের বেশির ভাগ ধ্বসে গেছে এবং টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ী মধ্য সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভাঙ্গনের কবলে পরে দুটি ক্লাশ রুম ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে।

টেপাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম সাহিন। পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আবদুল লতিফ খান বলেন, ঝাড়সিংশ্বের ও ছাতনাই গ্রামের সহস্রাধিক পরিবারের বসতভিটায় বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। খগাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন বলেন, কিসামত ছাতনাই ও দোহলপাড়া গ্রামের ৫ শতাধিক পরিবার বন্যার কবলে পড়েছে। এসব পরিবারের শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানায়, আজ রবিবার তিস্তার পানি বিপদ সীমার ২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রাবাহিত হচ্ছে। এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ২ হাজার ৫শ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল ও শুকনো খাবারের জন্য ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও। তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।