চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে

mitu_hotta

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি- চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম (মিতু) হত্যায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার আনোয়ার ও ওয়াসিম নামে দুই আসামিকে আদালতে তোলা হয়েছে। আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই দুই আসামিকে চট্টগ্রাম আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে এনে রাখা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. কামরুজ্জামান জানান, দুই আসামিকে আদালতে আনা হয়েছে। এর বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে আজ বেলা তিনটায় নগর পুলিশ কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সেখানে মাহমুদা হত্যা নিয়ে নগর পুলিশ কমিশনার মো. ইকবার বাহার সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে (রাত ১টা) শ্বশুরের ঢাকার বাসা থেকে পুলিশের একটি টিম বাবুল আক্তারকে মিন্টো রোডের ডিবি অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এসপি বাবুল আক্তার বনশ্রীর ভূঁইয়াপাড়ার বাসায় ফেরেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ জুন চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে শিশু সন্তানের সামনে কুপিয়ে ও গুলি করে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার নিজে বাদি হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরের দিন ভোরে নগরীর বাদুরতলা বড় গ্যারেজ এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর পুলিশ দাবি করে বাবুল আক্তারের জঙ্গিবিরোধী ভূমিকার কারণেই তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সারাদেশে শুরু হয় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হয় কমপক্ষে ৬ জঙ্গি।

মিতু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিআই)। তবে মামলার মূল তদন্তে আছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। যদিও সবগুলো সংস্থা মিলে এখনও তেমন কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি।