অনলাইন মিডিয়ার উপর চটেছেন ডিএমপি কমিশনার

dmp

নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর– স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে চৌকস পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারকে জড়িতে কয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রচার করায় এবার বেশ চটেছেন ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া। বিতর্কিত সংবাদ প্রচারকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘মিডিয়া কেন এ ধরনের খবর প্রচার করে, তা আমার জানা নাই।’

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর ধোলাইপাড়ে ওয়ারি জোনের উপকমিশনারের উদ্যোগে ঈদ বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘মিডিয়ায় অনেক কিছুই প্রচার করা হয়। এর সব সত্য বা সব মিথ্যা তা নয়। মিতু হত্যাকাণ্ডে একটি মামলা হয়েছে, কয়েকজন গ্রেফতার আছে। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটিও উদ্ধার হয়েছে। তারপরও বাবুল আক্তারকে নিয়ে মিডিয়া কেন এ ধরনের খবর প্রচার করে?’

গভীররাতে বাসা থেকে নিয়ে গিয়ে বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘স্ত্রী হত্যা মামলার বাদী বাবুল আক্তার নিজেই একজন অন্যতম প্রধান সাক্ষী। তাই তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আর সিএমপি এটা করেছে। এখানে আইন মেনেই সব করা হয়েছে।’

শুক্রবার গভীররাতে বনশ্রী ভূঁইয়াপাড়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবুল আক্তারকে নিয়ে গিয়ে পুলিশ মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে শনিবার বিকালে তাকে শ্বশুর বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়। দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টা তার সঙ্গে পরিবার যোগাযোগ করতে না পারলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

স্ত্রী হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে- এমন গুঞ্জনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বাবুল আক্তার ফোনে পাল্টা প্রশ্ন করেন, “এগুলো কে বলল?” তিনি বলেন, “আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। যারা তদন্ত করছেন, তারা বিভিন্ন বিষয়ে আমার সাথে আলোচনা করেছেন।”

উল্লেখ্য, গত ৫ জুন চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে শিশু সন্তানের সামনে কুপিয়ে ও গুলি করে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার নিজে বাদি হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরের দিন ভোরে নগরীর বাদুরতলা বড় গ্যারেজ এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর পুলিশ দাবি করে বাবুল আক্তারের জঙ্গিবিরোধী ভূমিকার কারণেই তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সারাদেশে শুরু হয় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হয় কমপক্ষে ৬ জঙ্গি।