বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর উপর অত্যাচার চলছেই, এবার সাবেক ছিটবাসীর রাস্তা দখল !

index

মোঃ মহিবুল্লাহ্ আকাশ, স্টাফ করেসপন্ডেন্টঃ ‘ও সাংবাদিক বেটা, হামরা কি মানুষ নোহাই? হামার (আমাদের) কি বাঁচার অধিকার নাই? যেলা (যখন) ছিটমহল আছিল সেলাও (তখনও) হামার উপর নির্যাতন চলছিল, এলা বাংলাদ্যাশ হুইছে এলাও নির্যাতন চাইলছে। নির্যাতন থাকি হামার কুনো (কোন) রেহাই নাই?

নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার পাশ্ববর্তী বালাপাড়া খাগড়াবাড়ী সাবেক ছিটমহল বাসিন্দাদের আকুতি এটি। ছিটমহল বিলুপ্ত হওয়ার পর নতুন বাংলাদেশীরা এখন কেমন আছে তা দেখতে সরেজমিনে গেলে এই প্রতিবেদকের কাছে শত-শত মানুষের হাহাকার মাখা দুঃখ-দুর্দশার কথা উঠে আসে।

জানা যায়, বালাপাড়া খাগড়াবাড়ী মৌজার পাইকার পাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন ডাকুয়াপাড়া হয়ে ডোমার-দেবীগঞ্জ রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, রাস্তার পাশের জমির মালিক রাস্তাটি তাদের মালিকানাধীন জমির উপর আছে দাবি করে যাতায়াতের রাস্তাটি কেটে রাস্তার উপরে বসতবাড়ী তৈরি করেছে।

এতে ভোগান্তিতে পড়েছে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা হাজারো মানুষ। ভূক্তভোগী ব্যবসায়ী রতন ইসলাম জানান, এই রাস্তা দিয়ে আমরা প্রায় ২৫/৩০ বছর যাবৎ চলাচল করে আসছি। আমাদের গ্রামসহ আশপাশের ২/৩টি গ্রামের সহস্রাধিক লোকজন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে অন্তত শতাধিক শিক্ষার্থী।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাস্তাটি কেটে দেওয়ার ফলে শিশুরা বিদ্যালয়ে ঠিক মতো যেতে পারছে না। রাস্তা ব্যবহার করলে আমাদের বাড়ী-ঘর আগুনে পুড়ে দেওয়ারও হুমকি দেন শাহীন ডাকুয়া ও রাজ্জাক ডাকুয়া।

পাইকারপাড়ার আরেক ব্যবসায়ী মানিক অভিযোগ করে বলেন, আস্তার (রাস্তা) মালিক হামাক বেলে মারিবে আস্তা দিয়া হাটিলে। ঘরবাড়ীত আগুন ধরি দিবে।

স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর প্রশ্নের জবাবে মানিক বলেন, হামরা গরীব মানষি। হামার টাকা পাইসা নাই। থানা-পুলিশ নাকি ওমারে।

দিনমজুর টেপু জানান, সহিদুল চেয়ারম্যানোক কইছি, ওমরা কি ব্যবস্থা নিবে দেখি।

এ ব্যাপারে চিরাহাটি ইউপি চেয়ারম্যান সহিদুল আলমের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

অভিযুক্ত কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের চান্দাখানা গ্রামের শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক ডাকুয়ার সাথে এব্যাপারে কথা হলে তিনি জানান, রাস্তাটি আমাদের তিন শরিকের জমির উপর দিয়ে গেছে। জমির প্রয়োজনে আমরা রাস্তাটি কেটেছি। এতো বড় যাতায়াতের রাস্তা তো আমরা দিতে পারবো না। জমির আরেক মালিক সাদাকাত ত্বাহা শাহীন ডাকুয়া যিনি রাস্তা কেটে বাড়ী তুলেছেন তিনি বলেন, আমরা ওদেরকে রাস্তা দেব না। পারলে ওরা মামলা করুক।

নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, সরকারী জরিপ খানাপুরী তথ্য ও নকশা জরিপে রাস্তাটি রয়েছে। আমরা গরীব মানুষ হওয়ায় আমাদের উপড় আক্রোশমূলক এ কাজগুলো তারা করছে।

এ বিষয়ে সাবেক ছিট নাগরিক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হাসিবুল ইসলাম রিজু বলেন, রাস্তাটি অনেক পুরোনো। মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে রাজ্জাকদের এটি কেটে বাড়ী করা উচিত হয়নি। আশা করছি প্রশাসন এর ব্যবস্থা নেবে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জমির মালিক আব্দুর রাজ্জাক ডাকুয়া, শাহীন ডাকুয়ার সঙ্গীয় ১৫/২০জন মিলে চলাচলের প্রায় ৩’শ মিটার উক্ত রাস্তাটি কেটে জমিতে পরিনত করেছে।

এই প্রতিবেদক ছবি তুলতে গেলে জমির মালিক শাহীন ও বিএনপি-র ভাড়াটে নেতা রেয়াজুল ইসলাম জুলু এই প্রতিবেদকের উপর চড়াও হয়।