কি কি সুবিধা থাকছে স্বপ্নের মেট্রোরেলে?

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক – রাজধানীবাসীর বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের মেট্রোরেল প্রকল্পের নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রথম মেট্রোরেল প্রকল্পের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন আজ। কর্মকর্তার বলছেন, উত্তরা থেকে মিরপুর হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের মোট ১৬ টি স্টেশন থাকবে।

মেট্রোরেল চালু হলে ঢাকার উত্তরা থেকে ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল পর্যন্ত পৌছাতে নাকি ৩৮ মিনিটের মতো লাগবে। আজ সেই আশার বানী শোনানেল স্বয়ং সরকার প্রধান।

মেট্রোরেল মূলত পল্লবী হয় রোকেয়া সরণি ধরে এগুবে। শাহবাগ, টিএসসি হয়ে চলে যাবে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত। এর মাঝে ঢাকার ব্যস্ততম ফার্মগেট এলাকায় থাকবে মেট্রোরেলের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন।

মেট্রোরেলের রুটে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মোট ১৬টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত থাকবে ৯টি স্টেশন। এগুলো হচ্ছে- উত্তরা নর্থ, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা সাউথ, পল্লবী, মিরপুর সাড়ে ১১ নাম্বার, মিরপুর-১০ নাম্বার, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া এবং আগারগাঁও।

দ্বিতীয় পর্যায়ে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত থাকবে ৭টি স্টেশন। এগুলো হচ্ছে- বিজয়সরণি, ফার্মগেট, কাওরানবাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (টিএসসি), বাংলাদেশ সচিবালয় এবং মতিঝিল শাপলাচত্বর। প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রম উদ্বোধনের পর শুরু হবে পাইলিংয়ের কাজ।

mettro-rel

মেট্রোরেলের ঘণ্টায় গতি হবে গড়ে ৩২ কিলোমিটার (সর্বোচ্চ ১শ’ কিলোমিটার)। এই রুটে চলাচল করবে মোট ১৪টি ট্রেন। প্রতিটিতে ৬টি করে বগি থাকবে। প্রতিটি ট্রেনে ৯৪২ জন যাত্রী বসে এবং ৭৫৪ জন দাঁড়িয়ে যাতায়াত করবে। প্রতি ৪ মিনিট পরপর ট্রেন ছেড়ে যাবে।

সূত্র জানায়, পুরো ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে মেট্রোরেল বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। বাকি ৫ হাজার ৪শ’ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।

মেট্রোরেলে ২৪ টি ট্রেন প্রতি ঘণ্টায় আপ ও ডাউন রুটে ৬০ হাজার যাত্রী আনা নেয়া করতে সক্ষম হবে বলে দাবি করছেন কর্মকর্তারা। সবকিছু ঠিকঠাক গেলে ২০১৯ সালের মধ্যে আগারগাও পর্যন্ত এর কাজ শেষ হবে বলে আজ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

আর বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত কাজ শেষ করার পরিকল্পনা এর পরের বছরের মধ্যে। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে জাপানের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা জাইকা দিচ্ছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা।

ঢাকার রাস্তায় যানজটে নাকানি চুবানি খেতে হয় শহরের বাসিন্দাদের। পাবলিক ট্রান্সপোর্টের অভাবে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীদের। সিএনজি অটোরিকশা চালকদের হাতে জিম্মিও হতে হয়। এখন মেট্রোরেল চালু হয়ে গেলে এসব দুর্ভোগ থেকে আপাতত নিস্তার মিলবে ঢাকাবাসীদের।