নাজাতের দশক শুরু, জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি থেকে মুক্তি লাভের এখনই শ্রেষ্ঠ সময় !

ইসলাম ডেস্ক: রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজানুল মোবারক আল্লাহর বিশেষ করুণা ও দয়ার অপার সুযোগ এবং সমাজের পাপী-তাপী সব মানুষের জন্য এক অনাবিল শান্তি ও চিরস্থায়ী মুক্তির দিশারি। পবিত্র রমজানের তৃতীয় ও শেষ দশক অর্থাৎ নাজাতের ১০ দিন শুরু হল আজ থেকে। এর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটল রহমত ও মাগফিরাতের ২০ দিনের। গত ২০ দিনের মধ্যে প্রথম দশক ছিল রহমতের এবং দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের। শেষের দশককে ইতকুম মিনাননার তথা নাজাতের দশক বলা হয়।এ দশক মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। কারণ, এ দশকেই রয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রজনী লাইলাতুল ক্বদর। যার গুরুত্ব বোঝাতে আল্লাহ তাআলা মানবজাতির উদ্দেশে পরিপূর্ণ একটি সুরা নাজিল করেছেন।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সেই সফল। এবং পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতীত কিছুই নয়। (আল ইমরান-১৮৫)

najater ses dosokতাই শেষ দশকের প্রত্যেক রাতে মুমিন বান্দার তিনটি একান্ত করণীয় রয়েছে, যা তুলে ধরা হলো :

সুরা ইখলাছ পড়া

তিনবার সুরা ইখলাছ তিলাওয়াত করা। কেউ যদি তিনবার সুরা ইখলাছ তিলাওয়াত করে, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে সম্পূর্ণ কুরআন তিলাওয়াতে সাওয়াব দান করবেন।
একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কি এক রাতে (শোবার সময়) এক-তৃতীয়াংশ (১০ পারা) কুরআন পড়তে পারবে? সাহাবাগণ আরজ করলেন, এটা কেমন করে সম্ভব? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, কুল হুয়াল্লাহু আহাদ (সুরা ইখলাছ) কুরআনের এক তৃতীয়াংশ। (বুখারি ও মুসলিম)

এশা ও ফজর নামাজ জামাআতে আদায়

এশা এবং ফজর নামাজ জামাআতের সঙ্গে আদায় করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি এশার নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করলো, সে যেন অর্ধরাত পর্যন্ত নামাজ আদায় করলো। আর যে এশা এবং ফজর নামাজ জামাআতে আদায় করলো, তবে ঐ ব্যক্তি সারা রাত নামাজ আদায় করলো। (তিরমিজি)

দান-খয়রাত করা

প্রতি রাতে গরিব অসহায়দের মাঝে দান করা। কারণ এ দশকে রয়েছে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রজনী লাইলাতুল ক্বদর।

সুতরাং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এসব নেক আমল বেশি বেশি করে করতে হবে। এছাড়া গোটা রমজানজুড়েই হজরত মুহাম্মদ (সা.) চারটি কাজ অধিক হারে করার জন্য বলেছেন-

১. কালেমার জিকির,

২. ইস্তেগফার,

৩. জান্নাত চাওয়া,

৪. জাহান্নাম থেকে মুক্তির প্রার্থনা করা।

রমজানের এই শেষ দশকেও এই চারটি কাজ অধিকহারে করতে হবে। সর্বোপরি নিজের গোনাহের জন্য কান্নাকাটি করে দোয়াও করতে হবে। কারণ আল্লাহর ভয়ে কন্দনরত মানুষের চোখের পানি আল্লাহ তাআলা বড় বেশি পছন্দ করেন।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর ভয়ে যে চোখের অশ্রু ঝরে সে চোখ জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে না। চোখ আগুনে না জ্বলার অর্থই হচ্ছে, লোকটি জাহান্নামে যাবে না। কারণ লোকটা জাহান্নামে গেল আর তার চোখ জ্বলল না- এমন তো আর হয় না। অন্তত পরকালে সেটা হবেই না।

এই দশকে মহান আল্লাহ তায়ালা বিশ্বের সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে নাজাত দান করুন। আমীন