জলদস্যুদের উপদ্রব, আতঙ্কে ভোলার জেলেরা

jolodossu-600x432

এস আই মুকুল, ভোলা প্রতিনিধি: ইলিশের ভরা মৌসুমে মেঘনায় প্রচুর ইলিশ ধরা পড়লেও জলদস্যুদের আতঙ্কে ভোলার জেলেরা। জেলেদের জালে রূপালী ইলিশ ধরা পরায় জলদস্যুদের উপদ্রব বেড়ে চলায় ভোলার উপকূলের ১৯০ কি.মি জলসীমা আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।

একাধিক জেলেরা জানায় গত কয়েকদিন আগে মেঘনার বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত ৫টি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ইহাতে ৪ জেলের অপহরণসহ লুট হয়েছে ৩টি ট্রলার। মুক্তিপণ দিয়ে জেলে ও ট্রলারগুলো উদ্ধার করলেও আতঙ্ক কাটছেনা জেলেদের মাঝে। উপকূলের বেশ কয়েকটি মৎস্য ঘাট ঘুরে জানা যায় জলদস্যুদের উপদ্রব বেড়ে চলায় গভীর নদীতে জেলেরা মাছ শিকারে গেলেই দস্যুদের কবলে পরতে হয়। জলদস্যুদের কারণে সাড়াদিন নদীতে জাল ফেলে সেই মাছ নিয়ে ফিরতে পারবে কিনা সেই নিশ্চয়তা নেই তাদের। নাম প্রকাশ না করা স্বত্ত্বেও কয়েকজন জেলে জানিয়েছেন মেঘনার মদনপুরা, চর তোফাজ্জল, বয়ারচর, চেয়ারম্যানের ঘাট, সন্দিপ, বাসন ভাঙ্গার চর, চর উড়িল, চর কুকরি-মুকরি, আলেকজান্ডের সহ বিভিন্ন পয়েন্টে জলদস্যুদের আস্তানা রয়েছে। সেখান থেকে জলদস্যুরা ডাকাতির পরিকল্পনা করে জেলেদের উপর অতর্কিত হামালা চালায়। তারা আরো জানান পুলিশ ও কোষ্ট গার্ডের নিয়মিত টহল না থাকায় হাতিয়া, সন্দিপ ও নোয়াখালীতে গড়ে উঠা বেশ কিছু দস্যু সমগ্র উপকূলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। যে কারণে অনেক জেলেই রাতের বেলায় মাছ শিকারে যেতে ভয় পাচ্ছে। মৎস্য আড়তদার খোকন, সুজন ও সিরাজ উদ্দিন বলেন ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন জেলাতে ইলিশের চাহিদা অনেক বেশি থাকায় এ সময় বেশি মুনাফার আশায় জেলেরা দিন-রাত ইলিশ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পরে। উক্ত বিষয়ে কোষ্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের অপারেশন অফিসার লে. নাজিউর রহমান বলেন দস্যু দমনে কোস্ট গার্ড যথেষ্ট সক্রিয় আছে। আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি জুনের পরে আর কোন ডাকাত দল জেলেদের উপর হামলা করতে পারবে না।

এ ব্যাপারে ভোলার পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুজ্জামান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন পুরানো সে সব জলদস্যু ছিল আমরা তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। কিছু দস্যু পলাতক রয়েছে। এই সুযোগে নতুন কিছু অপরাধী চক্র তৎপর হয়েছে বলে তিনি জানান। তাদের বিরুদ্ধে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। এদেরকে গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব। চলতি মৌসুমে যাতে জেলেরা নিরাপদে ইলিশ শিকার করতে পারে সে জন্য পুলিশ, কোষ্ট গার্ড ও জেলা প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।