স্বপ্ন ভেঙে খান খান: কাঁদলেন ভক্তরা, কাঁদলেন মেসি (ভিডিওসহ)

messi-crying-

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- তখন উৎসবে মাতোয়ারা চিলি। খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে অনেকক্ষণ। মাঠের মধ্যে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত ভাবে ছড়িয়েছিটিয়ে রয়েছেন আগুয়েরো, মাসচেরানোরা। লিওনেল মেসি তখনও একা বসে রিজার্ভ বেঞ্চের এক কোণায়। থমথম করছে মুখ। বার বার দু’হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলছেন। এটাই কি সেই মেসি? যার কোটি কোটি ভক্ত এই গোলার্ধে! বিধ্বস্ত মেসি বারবার জামার হাতা দিয়ে চোখ মুছছিলেন তখন।

দলের হয়ে প্রথম পেনাল্টি নিতে এসেছিলেন তিনিই। মেরেছেন ওপর দিয়ে। যে মেসি সেমিফাইনালে ২৫ গজ দূর থেকে ফ্রি-কিকেই স্বপ্নের মতো গোল করেছিলেন! মেলাতে কষ্ট হচ্ছিল। ফুটবলের রাজপুত্রের দুর্বল শট গোলের ধারে কাছেই গেল না! ওখানেই ভেঙে গেল আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাস, স্বপ্ন। গত বছরের ইতিহাস আবার ফিরে এল কোপা ফাইনালে। আর্জেন্তিনাকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল চিলি।

ইতিহাসকে উস্কে দিয়ে কোপা আমেরিকার ফাইনালে পৌঁছেছিল আর্জেন্টিনা ও চিলি। সেই ইতিহাসের পাতায় শুরুতেই লেখা থাকল রেফারি হেবার রবার্তো লোপেজের নাম। পুরো ম্যাচে মেসি, স্যাঞ্চেজদের গর্জে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু, সেই গর্জন দেখা গেল লোপেজের মধ্যেও। প্রথমার্ধে জোড়া লাল কার্ড নাও দেখানো যেত। কিন্তু, তিনি দেখালেন। প্রথমে চিলি পরে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধেই ১০ জনে হয়ে গেল দুই দল। ৯০ মিনিটে গোলের মুখ খোলার মতো পরিস্থিতিও যে খুব একটা তৈরি হল তেমনটা নয়। খেলাও চলল সমানে সমানে— কিছুটা রক্ষনাত্মক।

যেন টাইব্রেকার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়ার একটা অদম্য প্রচেষ্টা সবার মধ্যে। দিয়াজ রোজাসের জোড়া হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার ১৩ মিনিটের মধ্যেই অ্যালবার্তো রোজোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে দিলেন রেফারি। যেন আগের ভুলের খেসারত দিতে গিয়ে আরও একটা ভুল করে বসলেন তিনি। গোলশূন্য প্রথমার্ধে গোলমুখী আক্রমণের থেকে শরীরী আক্রমণেই বেশি মনোনিবেশ করতে দেখা গেল দুই পক্ষের ফুটবলারদেরই। যার ফল প্রথমার্ধে জোড়া লাল কার্ডের সঙ্গে লেখা থাকল তিনটি হলুদ কার্ডও।

চোটের জন্য লাভেজ্জির না থাকার মধ্যেই দলে ফিরেছিলেন ডি’মারিয়া। কিন্তু, সেই চেনা ডি’মারিয়াকে খুঁজে পাওয়া গেল না পুরো ম্যাচে। দ্বিতীয়ার্ধে তাকে তুলে নিতে বাধ্যই হলেন আর্জেন্টিনা কোচ। বরং দ্বিতীয়ার্ধে গোলের মুখ খুলতে সেমিফাইনালের জোড়া গোলদাতা হিগুয়াইনকে তুলে মাঠে নামলেন সার্জিও আগুয়েরোকে। তাতে আর্জেন্টিনার আক্রমণে ধার বাড়ল ঠিকই কিন্তু, কাজের কাজ তেমন কিছু হল না। বরং ৮৪ মিনিটে সহজ সুযোগ নষ্টের তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেললেন আগুয়েরো।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর্জেন্টিনা বক্সে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিলেন স্যাঞ্চেজ। কিন্তু, বাঁচিয়ে দিল রেফারির বাঁশি। ফাউল। ৫০ মিনিটের এই আক্রমণের পর আবার ৯০ মিনিটে একই পরিস্থিতি তৈরি হলেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি চিলি। বরং কাউন্টার অ্যাটাকে চিলি বক্সে পাল্টা আক্রমণ হেনেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু, সব কিছুরই ফল শেষ পর্যন্ত শূন্য। এর মধ্যেই রোমেরোর একটি অসাধারণ সেভ স্বস্তি দিল আর্জেন্টাইন শিবিরকে। ম্যাচ গড়াল অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে চিলি গোলের নীচে ব্রাভোর হাত ত্রাণকর্তা নেমে না এলে তখনই আগুয়েরোর হেডে লেখা হয়ে যেতে পারত আর্জেন্টিনার জয়ের কাহিনি। আর্জেন্টাইন গোলে অবশ্য প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের ঝলক দেখিয়ে গেলেন রোমেরো। ঝুঁকি নিলেন বেশ কয়েকবার। যাতে রক্ষা হল আর্জেন্টাইন দুর্গ।

শেষ পর্যন্ত খেলা গড়াল পেনাল্টিতে। গ্যালারি ভর্তি আর্জেন্টাইন ভক্ত আর মেসি ভক্তরা দুরু দুরু বুকে তাকিয়ে মাঠের দিকে। আর্জেন্টিনা কি পারবে শিরোপা খরা কাটাতে? মেসি কি চুমু খেতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকে? কি হবে, না হবে- এই নানা প্রশ্নে ঘিরে ফেলে তাদের। ওদিকে পেনাল্টির সময় হয়ে এলো।

প্রথম এলো চিলি। বল ছুঁড়তেই আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক রোমেরো আটকে দিলেন। উচ্ছ্বাস আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের। তা ছুঁয়ে গেলো গ্যালারিভর্তি দর্শকদের। এখন পালা আর্জেন্টিনার। এলেন লিওনেল মেসি। উত্তেজনার পারদ আরো বেড়ে গেলো। মেসি বল ছুঁড়লেন…। এরপর যা হয়েছে, তা সবার জানা। লক্ষ্যে পৌঁছায়নি বল। ফস্কে গেলো।

messi-final_1

ভেঙে পড়লেন মেসি। জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে ফেললেন। যেন লুকাতে চাইছেন। কিন্তু শেষ মেষ যা হওয়ার তা-ই হলো। কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে খান খান। গ্যালারিভর্তি মেসি ভক্তদের চোখে জল। বিশ্বাস করতে পারছেন, একি হল! একই অবস্থা মেসিরও। ম্যাচ শেষে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলেন না।

সাইডবারে পেছন হয়ে দাড়িয়ে কাঁদতে লাগলেন। স্টাফদের কেউ একজন তাকে সামলাতে থাকলেন কিন্তু এখন যে আর নিজেকে সামলাতে পারবেন না মেসি। পারলেনও না।

টপ টপ করে চোখের জল গড়িয়ে পড়ল। পড়তেই থাকল…। মেসির চোখে জল দেখে যে তার ভক্তদের চোখেও জল গড়িয়েছে, তা তো নিশ্চিত-ই।

ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন….