‘দেশে আইনের শাসনের অভাব প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে’

সময়ের কণ্ঠস্বর – বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে জনশৃংখলার নিরাপত্তার জন্য ৬.২ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু দেশে স্বচ্ছতা, সুশাসন, জবাবদিহিতা আইনের শাসনের অভাব প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে।

সোমবার দুপুরে সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। সকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা অব্যাহত থাকে।

তাজুল ইসলাম বলেন, সার্বিক বিবেচনায় বলা যায় প্রস্তাবিত এই বাজেটে কোনো চমক নেই। এ বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। উনি এতো বিশাল বাজেট দিয়েছেন কিন্তু আমরা এর বাস্তবায়নের কোন পথ দেখছি না। বাজেটে পারোক্ষ করের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের ওপর করের বোঝা চাপানো হয়েছে। এটা সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার কোনো লক্ষণ নয়। বাজেটে শ্লোগান ছাড়া সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার কোনো উদ্যোগ নেই। এর ফলে বিভিন্নভাবে জনগণের ব্যয় বেড়ে যাবে।

tajul-islam-japaতিনি বলেন, এখানে শুধু আমরা একটা কথা বলতে পারি। শিক্ষাখাতে উনি যে গুরুত্ব দিয়েছেন ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু আমরা কি শিক্ষার মান বাড়াতে পেরেছি? আমাদের শিক্ষার মান কী বেড়েছে? দিন দিন শিক্ষার মান কমে গেছে এবং যারা জিপিএ ফাইভ পেয়েছে, গোল্ডেন ফাইড পেয়েছে তারা বলতে পারে না দেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম, তারা বলতে পারে না দেশের প্রেসিডেন্টের নাম, তারা বলতে পারে না রাজধানীর নাম। এই হলো আমাদের শিক্ষার মান। আমরা যেভাবে টাকা-পয়সা বাড়িয়েছি কিন্ত শিক্ষার মান বাড়াতে না পারলে সবকিছু নষ্ট হয়ে যাবে।

আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখছি এমপিওভুক্ত হচ্ছে না, শিক্ষকরা দীর্ঘদিন বেতন পাচ্ছে না। যদি শিক্ষার কারিগর বেতন না পায়, এমপিওভুক্ত না হয় তাহলে কিভাবে আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে পারবো। নতুন করে এমপিওভুক্ত করার ব্যবস্থা করা উচিত হবে।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, আমরা দেখছি আমাদের অর্থমন্ত্রী চিরকালের স্বল্পবিলাসী লোক। তিনি নিজেও এটা স্বীকার করেছেন তিনি স্বল্পবিলাসী। আমরা তথ্যে দেখছি যে, টাকা দরকার তার ৬০ শতাংশ যোগান দেবে জাতীয় রাজস্ববোর্ড। মোট বাজেটের ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫২ কোটি টাকার মধ্যে এনবি আরের ভাগে পড়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। আমরা দেখছি ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে সরকারের মোট রাজস্ব আদায়ে অবদান ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসেবে বৃদ্ধির পরিমাণ ৩৫.৪ শতাংশ। মোট রাজস্বের হিসেবে দেখা যায়, বিগত ৭ বছরে জিডিপির শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধি করেছে মাত্র ১.১ ভাগ। ২০১৬-১৭ বছরে রাজস্ব বৃদ্ধি করবে ২.১ ভাগ। এটা কি শুধু কল্পনা নয়? এটা বাস্তব সম্মত হয়নি। রাজস্বের ক্ষেত্রে যদি এরকম হয় তাহলে কিভাবে এ টাকা আমরা অর্জন করতে পারবো।

তিনি বলেন, বাজেটের ৭১ শতাংশ অর্থ আসবে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে। পারোক্ষ করের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের ওপর করের বোঝা চাপানো হয়েছে। এটা সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার কোনো লক্ষণ নয়। প্রস্তাবিত শ্লোগান ছাড়া সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার কোনো উদ্যোগ নেই। এর ফলে বিভিন্নভাবে জনগণের ব্যয় বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, জনশৃংখলার নিরাপত্তার জন্য ৬.২ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু স্বচ্ছতা, সুশাসন, জবাবদিহিতা আইনের শাসনের অভাব প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে। এই সব আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। মাথাভারী প্রশাসন পুষতেই যদি সিংহভাগ রাজস্ব ব্যয় হয় তাহলে উন্নয়ন হবে কিভাবে?

তাজুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগের জন্য কোন সুখবর নেই। তারল্য প্রবাহ এখানে বাড়বে। শেয়ার বাজারকে উনি নিজেই ফটকাবাজি বলেছেন। আর তিনি বলেছেন, ফটকাবাজির অবসান হলে বাজার জেগে উঠবে। কিভাবে ফটকাবাজির অবসান ঘটবে শেয়ার বাজারে সেটা সুষ্পষ্টভাবে বলা হয়নি। যদি এর অবসান ঘটাতে হয় তাহলে সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে। শেয়ার বাজারে লুটপাটের জন্য তদন্ত কমিটি হয়েছে। কমিটি রিপোর্ট পেশ করেছে কিন্তু সেই লুটপাটের কোনো বিচার হয়নি। ব্যাংকিং খাতে যে অনিয়ম হয়েছে কিভাবে নিরসন হবে, কিভাবে আমরা যাব তাও দেখিনি আমরা। অর্থমন্ত্রী নিজেই বলেছেন সাগরচুরির কথা। তারপরও তিনি কিভাবে অস্বীকার করবেন জিনিসগুলো। কিভাবে সাগর চুরি বন্ধ হবে কিভাবে ফটকাবাজি বন্ধ হবে একথা তো অবশ্যই অর্থমন্ত্রীকে বলতে হবে। বিদেশে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে সেটাও বন্ধের কোন ব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকে যে ঘটনা ঘটে গেল, বাংলাদেশের ইতিহাসে যে ঘটনা ঘটে গেল এটার কি কোনো সুষ্ঠু বিচার হবে না? আমরা কি আামাদের টাকা ফেরত পাব না? টাকা কিভাবে ফেরত পাব কিভাবে হবে তারও কোনো দিকনির্দেশনা বাজেটে দেয়া হয়নি। আমরা চাই যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। যাতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয় তার অনুরোধ জানাচ্ছি।

সুশাসন নিশ্চিত, পাবলিক সেক্টরে শৃংখলা নিশ্চিত করতে না পারলে এই বাজেট বাস্তবায়নের কোনো সম্ভাবনা নেই। দুর্নীতি বন্ধ করেন, সুশাসন নিশ্চিত করেন তাহলে বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।