ভেবেছেন কি? আগের মত পথশিশুরা উচ্ছিষ্ট নিতে কেন ইফতারের সময় আর মহল্লায় আসেনা!

নিশীতা মিতু, সময়ের কণ্ঠস্বর।

একটা সময় রোজায় ইফতারের সময়টা পুরো মহল্লাটায় শোরগোল পড়ে যেত। ‘আফা, ইফতারি দিবেএএএএন’, ‘খালাম্মা, ইস্তারিইইইই দিবেন’- এমন ছোট ছোট গলার চিৎকার গুলো বেশ কানে লাগতো। আমাদের খাওয়ার পর বেঁচে যাওয়া খাবারগুলো লুফে নিতে ছোট ছোট পিচ্চিগুলো অধীর আগ্রহে থাকতো।

আজ দুই বছর এদের সংখ্যা খুব কমে গেছে। এবার তো একজনও নেই! ব্যাপারটা একটু দুঃখ দিলেও আমাকে আনন্দ দেয় বেশি। জানেন ওরা কেন আসেনা? কারন ওরা লোভী নয়। ওরা ততটুকুই চায় যতটুকু ওদের প্রয়োজন। আর সেই প্রয়োজন মিটছে বলেই ওরা আর আপনার আমার দুয়ারে উচ্ছিষ্ট খাবার নিতে আসেনা 🙂

কে মেটাচ্ছে ওদের প্রয়োজন?

শুনে অবাক হবেন কিনা জানিনা আপনার আমার মত বেশ কিছু তরুণ তরুণীরাই করছে এই দারুণ কাজটি। ওদের শিক্ষা দেওয়া, ঈদে নতুন পোশাক দেয়া, ওদের ছোট ছোট শখ পূরণ করা… এগুলোই যেন সেই তরুণ তরুণীর সুখের মূলমন্ত্র।

ভাবতে ভালো লাগে, যে সময়ে বড়লোক ছেলেটা চাইলে আভিজাত্যের প্রমাণ দিতে দামী বারে গিয়ে দুই পেগ মদ গিলতে পারতো সেই ছেলেটাই কিছু টাকা দান করছে ওদের জন্য যেন ওরা একটু আম খেতে পারে বা একটু নতুন পোশাক করতে পারে।

যে সময় মেয়েটা মেকআপ করে সেলফি তুলতে পারতো সে সময় মেয়েটা ফুটপাথে বসে একই থালায় ভাত খাচ্ছে পথশিশুদের সাথে।

procesta
ছবি- প্রচেস্টার সৌজন্যে

প্রচেষ্টা, লাইটার, সরোবর, অভিযাত্রিক… এই নামগুলো অনলাইনে বেশ পরিচিত। এক ঝাক মানুষ দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে কিছু দুঃস্থ শিশুর মুখে হাসি ফোটাবে বলে। যে যেখান থেকে যতটুকু পারছে সাহায্য করছে সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকা মানুষদের। আর তারা সাহায্য করছে অসহায় মানুষদের।

আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি, পথে ভিক্ষুককে ৫/১০টাকা না দিয়ে এই সংগঠনগুলো কিছু সাহায্য করা শ্রেয়। আপনার দেয়া সাহায্যে ওরা পড়বে, খাবে, হাসবে। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে!

procesta1233

অনেকে মনে মনে ভাবেন, আমার সামর্থ্য না হয় ১০টাকা হবে। এই টাকা দিয়ে কার কি হবে! অথচ, আপনার মত ১০ জনের ১০টাকা দিয়েই কিন্তু ১০০টাকা হয়ে যায়। 🙂

আসুন, যে যার অবস্থান থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই। নোংরা সমাজকে বদলে দেয়ার ক্ষমতা আমাদেরই আছে। সেই ক্ষমতাকে কাজে লাগাই। 🙂