‘কোন ট্রফি চাই না আর্জেন্টিনাতে মেসিকে চাই’

mess_boss_n

রবিউল ইসলাম, নিউজ রুম এডিটর, সময়ের কণ্ঠস্বর- কোপা আমেরিকার শতবর্ষী আসরের ফাইনালে চিলির বিপক্ষে টাইব্রেকারে হারের পর বুকভরা কষ্ট নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার নিয়মিত অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

২০০৫ সালে তার অভিষেকের পর আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি ১১২ বার খেলেছেন। চিলির বিপক্ষে আজ গোল মিস করার পর মেসিকে প্রচন্ডভাবে হতাশ দেখা গেছে। খেলার শেষে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলেন না।

সাইডবারে পেছন হয়ে দাড়িয়ে কাঁদতে লাগলেন। স্টাফদের কেউ একজন তাকে সামলাতে থাকলেন কিন্তু এখন যে আর নিজেকে সামলাতে পারবেন না মেসি। পারলেনও না। টপ টপ করে চোখের জল গড়িয়ে পড়ল। পড়তেই থাকল…।

শুধু নিজে নয় সাথে বিশ্ব ফুটবলকে কাঁদিয়ে গেলেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের পর দু’বার কোপা ফাইনালে হার। মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি। শুটআউটে আজকের গোল মিসটা যেন তাতে ইন্ধনের কাজ করল। গোলটা মিস করার পর থেকেই ছটফট করছিলেন। মাঠের ভিতর দলের সঙ্গে দাঁড়াতে পারছিলেন না। একা একাই বসেছিলেন রিজার্ভ বেঞ্চে। হয়তো নিজেকে তৈরি করছিলেন এত বড় একটা সিদ্ধান্তের জন্য।

দক্ষি‌ণ আমেরিকার এক টেলিভিশন চ্যানেলকে সাক্ষাৎকারের সময় যখন জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণা করলেন তখন তাঁর গলা ভিজে গিয়েছিল কান্নায়। ২৯ বছরের মেসির ঝুলিতে তো রেকর্ডের অন্ত নেই। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে দেশকে বিশ্বের সেরা ট্রফির যে একটাও দিতে পারেননি। এ বার কোপা আমেরিকার শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিলেন তিনি। দারুণ ছন্দে ছিল পুরো দল। কিন্তু দুর্ভাগ্যটা সঙ্গ ছাড়ল না মেসির।

সেই চিলির কাছেই হেরে রানার্স হয়ে থাকতে হল আর্জেন্তিনাকে। দেশের হয়ে এর আগেই পেনাল্টি নিয়েছেন। কিন্তু, কখনও মিস করেননি। এই প্রথম। ২০০৫-এ শুরু করেছিলেন আন্তর্জাতিক কেরিয়ার। বার্সেলোনার তারকা, বহু সাফল্যের কারিগর মেসি দেশকে কিছু দিতে পারেননি শুনতে হয়েছে সব সময়। ভেবেছিলেন বদলে দেবেন সব ধারণা। কিন্তু, শেষ বেলায় হতাশাই জুটল তাঁর ভাগ্যে। দেশের জার্সি খুলে রাখলেন নিজের ১১৩-তম ম্যাচে। সঙ্গে রয়ে গেল দেশের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড।

খেলা শেষে আর্জেন্টিনার নেটওয়ার্ক টিওয়াইসি কে মেসি বলেন “ চারটি ফাইনাল খেলেছি, আমি চেষ্টা করেছি কিন্তু এটা আমার জন্য ছিল না। এটাই (চ্যাম্পিয়ন হওয়া) একমাত্র বিষয় যেটা আমি সবচেয়ে বেশি চেয়েছি। কিন্তু আমি পাইনি, তাই আমি মনে করছি এটা শেষ হয়ে গেছে”।

এদিকে হঠাৎ করে মেসির এমন সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মেসিভক্ত। আর তার অবসর নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে ঝড়। সারাবিশ্বের মতো অনেকেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে মেসিকে ফিরে আসতে বলেছেন। তারা জানান, এখন মেসির অবসরের উপযুক্ত সময় নয়।

সৈয়দ সাব্বির আহমেদ নামে এক মেসিভক্ত লিখেছেন, ‘জিনিয়াসের বিদায় এমন ভাবে হতে পারে না। অবশ্যই হতাশা কাটিয়ে মেসি ফিরবে। ২০১৮ বিশ্বকাপে মেসির মধ্যে ২০০৬ এর জিদানকে দেখতে চাই। তবে ফাইনালের চিত্রনাট্যটা অবশ্যই যেন জিদানের মতো না হয়।’

মেসিকে ফেরানোর জন্য ‘কাম ব্যাক মেসি (Come Back Messi)’ নামে একটি ইভেন্ট খোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে সহস্রাধিক মেসিভক্ত সেখানে জয়েন করেছেন। সবার আকুতি একটাই ফিরে আসো মেসি।

সাকিব আহমেদ নামে একজন লিখেছেন, কোপা আমেরিকা ২০১৬ তে মেসি যখন ইন্জুরিতে পড়েছিল তখন খুবই চিন্তিত ছিলাম যে মেসিবিহীন আর্জেন্টিনা চিলির সাথে কেমনে জিতবে? রাত ১ টা বা ২ টা বস মেসির আর্জেন্টিনার খেলা দেখার জন্য রাতের পর রাত জেগেছি! সে যেদিন খেলেনি প্রচুর মিস করেছি তাকে!

messssssssss

তিনি আরও বলেন, আজ টানা তৃতীয় বারের মত ফাইনাল হারলাম আমরা! অতটাও দু:খ পাইনি যতটা দু:খ পেয়েছি তার ২৯ বছর বয়সের অবসরের কথা শুনে! খবর টা শোনার সাথে সাথে চোখ দিয়ে পানি ঝরছে! নিজেকে সামলাতে পারছি না। কি বলে নিজেকে শান্তনা দেব? বুঝতে পারছি না কিছুই! এইরকম পরিস্থিতিতেও দেখছি অনেকজন মেসিকে নিয়ে ট্রল করছে! তারা খুব শীঘ্রই বুঝতে পারবে যে মেসি কি ছিল!

তিনি ফেসবুকে আরও লেখেন, ম্যারাডোনা, পেলে থেকেও মেসি অনেকাংশে এগিয়ে! আর্জেন্টিনা গত ২৪ বছর কোন ট্রফি জিততে পারেনি! কিন্তু তারা হয়তো জানে না তারা তাদের টিম এ মেসির মত একজন লিজেন্ড খেলোয়াড় পেয়েছে! বস তুমি তোমার মত ফিরিয়ে নাও! তুমি ছাড়া আর্জেন্টিনা কল্পনা করা যায় না! প্লিজ বস আমাদের কোন ট্রফি চায় না আমরা তোমাকে চাই।