এবার দিনাজপুরে মসজিদের ইমামকে হাত-পায়ের রগ ও গলা কেটে হত্যার হুমকি !

শাহ্ আলম শাহী,স্টাফ রিপোর্টার,দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুরের দক্ষিণ কতোয়ালীর মালিগ্রাম দীঘিপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সাদ্দাম হোসেনকে হত্যার হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।  গত সপ্তাহের সোমবার বিকেলে তিন সন্ত্রাসী ইমাম মাওলানা সাদ্দাম হোসেনকে হাত-পায়ের রগ ও গলা কেটে হত্যার হুমকি দেয়। ফলে ইমাম সাহেব গত ৮ দিন ধরে নিরাপত্তার অভাবে তার রুমে পারছেন না বসবাস করতে। বর্তমানে ইমাম সাহেব অন্যত্র রাত্রি যাপন করছেন। ফলে মুসল্লিদের নামাজ আদায়সহ তারাবির নামাজ আদায়ে বিঘ্নতা ঘটছে।

সরেজমিনে শতাধিক ব্যক্তির অভিযোগে জানা যায়, ২০ জুন বিকেল ৬টায় মালিগ্রাম দীঘিপাড়ার মৃত মছিরউদ্দিন এর ছেলে আবুল কালাম আজাদ ওরফে হেফাজতি আজাদুর, রহমত আলী মাষ্টার ও আছির উদ্দিন সোমবার সন্ধ্যায় বিনা কারণেই ইমাম সাদ্দামকে ওই মসজিদের ইমামতি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বলে। এর ফলে ইমাম এর কারণ জানতে চান। এক পর্যায়ে উল্লেখিত তিন ব্যক্তিসহ ৭-৮ জন ইমামকে জীবন নাশের হুমকি দিয়ে বের করে দিয়ে রুম তালাবদ্ধ করে দেয়।

threatস্থানীয়রা আরও জানায়, উল্লেখিত ব্যক্তিরা স্থানীয়ভাবে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য এবং স্থানীয় একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগসাজস থাকায় কেউ তাদের বিপক্ষে কথাবার্তা বলা তো দূরের কথা কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সাহস পাচ্ছে না। তবে এ ব্যাপারে ইমাম সাহেব নিজেই ২১ জুন ও মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে কোষাধ্যক্ষ এমাজ উদ্দিন ২৫ জুন কতোয়ালী থানায় দু’টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দু’টি অভিযোগেই ঊল্লেখিত ৩ ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযোগ আরো বলা হয়েছে, উল্লেখিত ব্যক্তিরাসহ তাদের সহযোগিরা ইমাম সাহেবকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে এবং ওই মসজিদ কমিটির লোকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ষড়যন্ত্র করছে বলে একাধিক সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে মসজিদ কমিটি সভাপতি আশরাফ আলী সরকার ও সেক্রেটারি আনিসুর রহমান সরকার-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, বিষয়টি নিয়ে থানায় কোন মামলা হয়নি। তারা ইমামকে হত্যার হুমকির ঘটনা এবং পরবর্তীতে রুমে তালা দেয়ার ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ, নিন্দা জানিয়েছেন।

তবে কতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রেজওয়ানুর রহিম জানান, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে আমি পুলিশ পাঠিয়েছি। পরবর্তীতে ওই এলাকার মুসল্লিদের একটি প্রতিনিধিদল, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সবাই রমজানের রোজা মুখে শপথ গ্রহণ করেন যে, বিষয়টি আমাদের ভুলবোঝাবুঝি তাই উভয়পক্ষ পরস্পরের সাথে কোলাকুলি করে বলেন, আমাদের এলাকায় আমরা শান্তিতে বসবাস করবো এবং কোন ধরনের বিবাদে জড়াবোনা।
ওসি আরো জানান, বর্তমানে মসজিদে মুসল্লিরা নামাজ শান্তিতে নামাজ আদায় করছেন। এর পরও যদি কেউ কোন ধরনের বিবাদ সৃষ্টি করে তবে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।