সাংসদ রানাসহ ১০ জনকে হাজির হওয়ার নির্দেশ আদালতের

tangail.mp.s

অন্তু দাস হৃদয়, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারী, টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইসহ ১০ পলাতক আসামিকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও হাজির না হলে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ সম্পাদন করা হবে বলেও আদেশ দেন। টাঙ্গাইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম গোলাম কিবরিয়া এ আদেশ দেন।

আদালত পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, গত ৩ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এমপি রানাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে ফারুক হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে গত ১৫ মে রানাসহ পলাতক ১০ আসামির অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং তাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারির আদেশ দেন। পুলিশ অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ সম্পাদনের লক্ষ্যে তাদের নামে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারির আদেশ দেন।

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সাংসদ রানা, তার ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা ও ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান, সাংসদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবির হোসেন, ছানোয়ার হোসেন, আলমগীর হোসেন চাঁনে, নাসির উদ্দিন নুরু, সাবেক পৌর কমিশনার মাসুদুর রহমান ও এমপির দারোয়ান বাবু পলাতক রয়েছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আনিসুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, সমীর মিয়া ও ফরিদ মিয়া কারাগারে আছেন।

উলেখ্য, বিগত ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে শহরের কলেজপাড়া এলাকায় বাসার সামনে থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ফারুক আহমদের স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২০১৪ সালের আগস্টে আনিসুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করে। পরে আদালতে দেয়া তাদের জবানবন্দিতে ফারুক আহমেদ হত্যার সঙ্গে সাংসদ রানা ও তার ভাইদের জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে।