ফেসবুকে ‘প্রেমের ফাঁদে’ পড়ে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানো নবম শ্রেণীর ছাত্রী রক্ষা পেলো যেভাবে !

রংপুর প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্বর

অবশেষে রক্ষা পেলো ফেসবুকে ‘প্রেমের ফাঁদে’ পড়ে বাবা-মা পরিজন সবাইকে ছেড়ে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানো নবমশ্রেণিতে পড়া এক ছাত্রী!

যদি কেউ ভেবে থাকেন আমি কোন মিষ্টি প্রেমের গল্প বলতে যাচ্ছি, তাহলে তাদের জন্য শুরুতেই সতর্কবাণী। সাবধান ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদ!

ফেলে আশা পেছনের কিছু সৃতিগুলোকে একটু উঁকি মেরে দেখে আসলেই আগের দিনের প্রেমের কথাগুলো মনে পড়ে যাবে আমাদের। সেই দিনগুলোতে প্রেমের প্রথম ধাপ বলতেই বুঝতাম – কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানটিনে, চত্বরে, আড্ডার ফাঁকে অথবা নির্জন কোনো এক পরিসরে বুকের দুরু দুরু ভাব নিয়ে পছন্দের প্রিয় মানুষটিকে জানান দেওয়া। আকস্মিক কোন সময় লজ্জায় মুখোমুখি হওয়া আবার কখনো বা কাগজের পাতায় ছোট্ট একটি চিরকুট।

এরপর হয়তো ক্যাম্পাস ছেড়ে পার্ক বা কফি শপ। তখনকার দিনগুলোতে প্রেম বলতে ছিল ঈদ এলে প্রিয় মেয়েটির বাড়ির সামনে গিয়ে কারণ ছাড়াই এদিক ওদিক পথ চলা বা বারান্দায় তাকে দেখে লুকিয়ে তাকানো। পরে অভিভাবকদের চোখ ফাঁকি দিয়ে মন দেওয়া-নেওয়ার পালা। অনেকের হয়তো এমন অথবা অন্যরকম অনেক সৃতিই মনে পড়ে যাবে। তবে এখন কিন্তু সময় পাল্টেগেছে।

তথ্যপ্রযুক্তির এই দিনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠছে সামাজিক যোযোগের মাধ্যমগুলোতে। বর্তমান প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা প্রেম করছে অনলাইনে, যার অন্যতম মাধ্যম ফেসবুক। সম্পর্ক গড়া এবং ভাঙা সব কিছুই নির্ভর করছে একটি ছোট্ট মাউসের ক্লিকের ওপরে। মুহূর্তে পাল্টে যাচ্ছে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস। ভার্চুয়াল এই জগতটিতে সিঙ্গেল থেকে কখনো ইন অ্যা রিলেশনশিপ আবার দেখা যায় কখনো এনগেইজড থেকেও সিঙ্গেল!

অনেকে ফেসবুকে মেয়েদের ছবি নিজের প্রোফাইলে ব্যবহার করে হ্যায়, হ্যালো দিয়ে শুরু। এরপর প্রেম নিবেদন। অবশেষে সরাসরি সাক্ষাতের আহ্বান। ওদিকে দেখা করতে গেলেই ওত পেতে বসে থাকে অপহরণকারীর চক্ররা। পরে আটকে রেখে দাবি করা হয় মুক্তিপন এবং এর থেকেও আরও ভয়ানক কিছু ঘটে।

সম্প্রতি এই ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদে পা বাড়িয়ে পাকিস্তানে নিশ্চিত পাচার হয়ে যাওয়া আর ভবিষ্যৎ অন্ধকার থেকে আপাতত রক্ষা পেয়েছে ঢাকার ধামরাইয়ের এক নবম শ্রেণির ছাত্রী। গতকাল রাত ১০টার দিকে রংপুর নগরীর কামারপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ঐ ছাত্রীটিকে উদ্ধার করেছে রংপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ।

facebook-pream

কোতোয়ালি থানার পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ঢাকার ধামরাইয়ের গুম গ্রাম যাদবপুরের মোশারফ হোসেনের কন্যা নবম শ্রেণির এই ছাত্রীটির সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় পাকিস্তানি নাগরিক রাফি খানের। ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে গভীর হয়। একপর্যায়ে রাফি খান মুক্তিকে পাকিস্তান চলে আসার প্রস্তাব দেয়।

রাফি খান ফেসবুকে জানায়, রংপুরে সুমন নামে এক যুবক তাকে হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারত হয়ে পাকিস্তান নিয়ে যাবে। কথিত প্রেমিক পুরুষ রাফি খানের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে সে সোমবার রাতে রংপুরের কামারপাড়া বাসস্ট্যান্ডে এসে পৌঁছায়। এ সময় সুমন তাকে হিলি সীমান্তে নিয়ে যাওয়ার জন্য টানাহেঁচড়া করতে থাকে।

আর এতেই ঘটে বিপত্তি। সন্দেহজনক এ বিষয়টি কোতোয়ালি থানার এসআই তরিকুল ইসলামের নজরে এলে তিনি মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এসময় ঐ ছাত্রীটিকে নিজের হেফাজতে রাখলেও কৌশলে পালিয়ে যায় সুমন। সেই সময় সুমনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

কোতোয়ালি থানার ওসি এ বি এম জাহিদুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার অভিভাবককে খবর দেওয়া হয়েছে।

এত ঘটনার পরও অনেকের প্রেমের ভরসা ফেসবুক!

বিষণ্ন আর হতাশার মধ্যে ফেসবুক যেন আরও বেশি করে কাছে টানে অনেককেই। আজকের এই অতিব্যস্ত জীবনে অনেকেই ফেসবুকে খোঁজেন দম ফেলার ঠাঁই। অনেকে আবেগে বসিয়ে দেন তাঁদের স্ট্যাটাস, ব্যক্তিগত ছবি; আবার অনেকেই খুঁজে ফেরেন প্রিয় কোনো মুখ। সামনাসামনি যে কথা বলে উঠতে পারা যায় না, চ্যাটে সেই কথাগুলো কত সহজে বলে ফেলা যায়৷ কারও সঙ্গে সম্পর্ক না রাখতে চাইলে, তাকে বন্ধু তালিকার বাইরে পাঠিয়ে বা ব্লক করে সম্পর্কে অনাগ্রহের কথাও জানানো সহজ। এখন যেন ফেসবুক হয়ে উঠেছে পরিচিত আর অপরিচিত ১০০ কোটি মানুষের মিলনস্থল।

অবশ্য এ বিশাল জনসংখ্যার সাইটটির সবগুলো কিন্তু আসল প্রোফাইল নয়। এ ক্ষেত্রে অনেকেই ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করে পেতে রেখেছে প্রতারণার ফাঁস। গলায় ঝুলে পড়লেই বিপদ। ফেসবুকে প্রতারণার খবর আমরা এখন হরহামেশাই শুনতে পাই। তাই সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে অনলাইন যোগাযোগে সব সময়ই ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানিয়েছেন, ইন্টারনেটে জীবনসঙ্গী খুঁজে দেয়ার সাইটগুলোতে ৮০ শতাংশ মানুষই তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও বাড়িয়ে বলছে অথবা সত্য গোপন করছে।

তাই অনলাইনে অচেনা কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব জমানোর আগে সাবধান হোন৷ ফেসবুকে প্রেমে পড়ার আগেই তাই অপর পক্ষের সব তথ্য সঠিক কি না, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হোন। ব্যক্তিগত সব তথ্য শেয়ার করার আগে সাবধান থাকুন।