তাঁত শিল্পে মন্দা: পেশা বদলে কেউ গার্মেন্টস ও রিক্সা শ্রমিক, অনেকে পুঁজি হারিয়ে পলাতক

tata silpo

মোঃ হৃদয় খান, স্টাফ রিপোর্টার: তাঁতের লুঙ্গির জন্য বিখ্যাত নরসিংদী। এখানে তৈরি তাঁতের শাড়ি-লুঙ্গি সারাদেশে সমাদৃত ছিল। রাজধানী ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, দিনাজপুর, নোয়াখালী, ময়মনসিংহসহ সারাদেশ থেকে পাইকারি ক্রেতারা নরসিংদীতে এসে ট্রাক ভর্তি করে নিয়ে যেতেন তাঁতের শাড়ি-লুঙ্গি। কিন্তু আজ হস্তচালিত সেই তাঁতের জায়গা দখল করে নিয়েছে বিদ্যুৎচালিত পাওয়ারলুম। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি না হওয়ায় লোকসানের পড়ে তাঁত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। পুঁজি হারিয়ে অনেকেই পেশা বদল করে অন্য পেশায় চলে গেছেন। এর প্রভাব সকল ব্যবসার উপর পড়ছে। গত দুই বছর ধরে এই অবস্থা শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ বলেছেন, এভাবে লোকসান অব্যাহত থাকলে এই শিল্প অচিরেই বিলীন হয়ে যাবে। বিদেশে রফতানি এবং দেশে চাহিদা কমে যাওয়ায় বাজার প্রতিদিন নিম্ন মুখি হচ্ছে। সরকারিভাবে পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যত অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারন করবে। বেশিরভাগ নারীরা সালোয়ার কামিজ বেশী ব্যবহার করায় শাড়ীর ব্যবহার কমে যাচ্ছে। আর এতেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

তাঁত মালিক ও ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৩ সাল থেকে তাঁতের ব্যবসায় মন্দা ভাব শুরু হয়। ২০১৪ সাল থেকে মন্দাভাব স্থায়ী রূপনেয়। একই সঙ্গে তাঁতের উৎপাদিত পণ্য (শাড়ী লুঙ্গী) বিক্রি অর্ধেকে নেমে আসে। উৎপাদিত পণ্য লোকসানে বিক্রি করায় তাঁতিরা পুজি হারাতে থাকে। বিশেষ করে প্রান্তিক তাঁতিরা (১ থেকে ১০ পর্যন্ত) চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেকেই তাঁত বিক্রি করে দিয়ে কেউ পোষাক শিল্পে, কেউ রিক্সা চালকের কাজ নিয়েছেন। অনেকেই পুঁজি হারিয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যান।

বর্তমানে প্রায় অর্ধেক তাঁত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঋণগ্রহিতরা তাদের ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না। তাঁত বিক্রি করতে না পারায় অনেকেই খড়ি হিসেবে তাঁতের কাঠ ও ভাঙ্গুরীর দোকানে লোহা বিক্রয় করছে।

জার ব্যবসার পরিবর্তন ও তাঁতের উপকরণের সহজলভ্য করতে হবে। তা না হলে তাঁত শিল্প নতুন জীবন ফিরে পাবে না বলে মনে করছেন তাঁতবোর্ডের কর্মকর্তারা।