ভারতের রাজধানীর নাম শুনে চোখ কপালে উঠলো পরিদর্শকদের!

kolkata

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- অসদুপায় অবলম্বন করে ভারতের বিহার রাজ্যের পাবলিক পরীক্ষায় মেধা তালিকার এক নম্বরে থাকা রুবি রায়কে আটক করার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। সেই ধারাবাহিকতায় বিহারের কয়েকটি স্কুল পরিদর্শন করেছে জেলা শিক্ষা দফতর।

স্কুল স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন করছেন আর উত্তর যখন পাচ্ছেন তখন অবাক হচ্ছেন। এবং বুঝতে পারছেন এখানকার শিক্ষায় গোড়ায় গলদ ঠিক কতটা। আসল সমস্যটা কোথায়।

পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ক্লাসরুমে প্রবেশ করে স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করেছিলেন, ‘বলো তো, ‘ভারতের রাজধানীর নাম কী?’ উত্তর শুনে পরিদর্শকদের চোখ রীতিমতো কপালে। র্ধমানের কাশিয়ারা-রাইপুর হাইস্কুলের এক ছাত্র জটপট বলে দিলো, ‘বাংলাদেশ!’ কয়েক জন ছাত্র জানালো, উত্তর জানা নেই।

বিহারে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কলা বিভাগে প্রথম স্থান অধিকারী রুবি রায় এক সাক্ষাৎকারে পলিটিক্যাল সায়েন্সকে ‘প্রডিক্যাল সায়েন্স’ বলার পরে সাড়া পড়েছে সেখানকার পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে। ওই ছাত্রীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে স্কুলের সমস্যা, পড়াশোনার মান খতিয়ে দেখতে আচমকা স্কুলে হানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসককে প্রধান রেখে তৈরি হয়েছে ‘মনিটরিং কমিটি’। মাস খানেক ধরে নানা স্কুলে যাচ্ছেন কমিটির সদস্যরা।

জেলাশাসক সৌমিত্র মোহন এ দিনই সোমবার প্রথম পরিদর্শনে যান। সঙ্গে ছিলেন জেলা প্রাথমিক স্কুল সংসদের সভাপতি অচিন্ত্য চক্রবর্তী ও জেলা পরিকল্পনা কর্মকর্তা (সর্বশিক্ষা অভিযান) শারদ্বতী চৌধুরী।

প্রথমে মেমারির কুচুট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে যান পরিদর্শকরা। তারা শিক্ষার্থীদের ‘আই লিভ ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল’ লিখে দেখাতে বলেন। কিছু শিক্ষার্থী ‘আই লিভ ইন’ পর্যন্ত পারলেও কেউ ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’ লিখতে পারেনি।

পাশের হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বই দেখে ইংরেজি ‘রিডিং’ পড়তে বলা হলে সে পারেনি। কর্মকর্তারা ক্লাসের শিক্ষককেই ‘রিডিং’ পড়ে দেখিয়ে দিতে বলেন। তার উচ্চারণ শুনেও বিরক্ত হন তারা। কাশিয়ারা-রাইপুর হাইস্কুল ও আউশা প্রাথমিক স্কুলে যান জেলা প্রশাসক।

জেলা পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারদ্বতী দেবী জানান, এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে শিক্ষা দপ্তর। শিক্ষকের গাফিলতি পেলে ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে। এ দিনই এক প্রধান শিক্ষক ও এক শিক্ষককে নিয়ম ভেঙে ছুটি নেওয়ার জন্য শো-কজ করা হয়। টিফিনের পরে স্কুল ছুটি দিয়ে দেওয়ায় শো-কজ করা হয়েছে আর এক প্রধান শিক্ষককে।