চাটমোহরে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

nobojatokbd

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহরে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তালহা নামে ২ দিন বয়সী নবজাতকটি মারা যায়। তবে চিকিৎসকের দাবি, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ও ভূমিষ্ট হওয়ার পর ওজন কম থাকায় শিশুটি মারা গেছে।

নবজাতকটির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়নের ধানুয়াঘাটা এলাকার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মাসুদ রানার স্ত্রী ও শরৎগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা পাপিয়া সুলতানা (২৫) শনিবার রাতে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন। পরে নবজাতকটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে এবং ওজন কম হওয়ায় চাটমোহর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক হাসপাতাল গেট সংলগ্ন সুমাইয়া ওষধ বিপণী নামের একটি ফার্মেসীতে শিশু বিশেষজ্ঞ (বর্তমানে রায়গঞ্জের ইউএইচও) ডাঃ রতন কুমার রায়ের কাছে নিয়ে যেতে বলেন।
পরে রোগীর স্বজনরা রবিবার বিকেলে ওই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি একটি ইনজেকশন লিখে দেন। পরে ওই নবজাতককে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ইনজেকশন পুশ করার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আবার ওই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসা হয়। এর পরে ডা. রতন কুমার নবজাতকটিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। পরে তার স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নেবার পূর্বেই নবজাতকটি মারা গেছে।

মৃত নবজাতকটির ‘মা’ পাপিয়া সুলতানা অভিযোগ করে বলেছেন, ‘ডা. রতন কুমার রায়ের লিখে দেওয়া ইনজেকশন পুশ করার পর থেকেই তালহা’র শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। আমরা তার চেম্বারে জীবিত অবস্থায় তালহাকে নিয়ে গিয়েছিলাম।’

এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সালাউদ্দিন জানান, ‘সোমবার যখন নবজাতকটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় আমি ওই সময় ডিউটিতে ছিলাম না। তবে হাসপাতালের রেজিস্টারে লেখা আছে, হাসপাতালে নিয়ে আসার পূর্বেই শিশুটি মারা যায়।’

এ ব্যাপারে ডা. রতন কুমার রায় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘রবিবার বাচ্চাটির শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে আমার চেম্বারে আসে তার স্বজনরা। বাচ্চাটির ওজন কম ছিলো। আমি একটি ব্যবস্থাপত্র লিখে দেই। তারা সেই মোতাবেক ইনজেকশন কিনে কোথায় গিয়ে পুশ করেছে তা আমার জানা নেই।
তিনি আরো বলেন, আমার চেম্বারে কোন ইনজেকশন দেওয়া হয়নি। পরে সোমবার সন্ধ্যার দিকে তারা ওই শিশুটিকে আমার চেম্বারে নিয়ে আসলে আমি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলি। পরে শুনেছি শিশুটি মারা গেছে।’