জেলা প্রশাসকের নোটিশ: থেমে নেই কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের সরকারি জমি দখল

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি: হাইকোর্টের রিট পিটিশনের আদেশক্রমে সাতদিনের মধ্যে এসব বিলবোর্ড কিংবা সাইন বোর্ড অপসারনের জন্য পটুয়াখালীর জেলা প্রশসক বিভিন্ন আবাসন কোম্পানিকে ২০১১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর নোটিশ দিয়েছিল। শুধু বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড নয় বর্ণিত ভূমির উপরে যাবতীয় গৃহ ও অন্যান্য ইমারত কিংবা তার অংশ বিশেষ অপসারনের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। নইলে সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এসব বাজেয়াপ্ত করবে। কিন্ত আজ অবধি অধিকাংশ সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড কিংবা কোন স্থাপনা আবাসন কোম্পানি অপসারন করেনি।

kuakata-jomi-dokhol

কুয়াকাটার খাজুরা থেকে কাউয়ার চর পর্যন্ত সমুদ্র সৈকত এরিয়ায় কোন ধরনের স্থাপনা তোলা যাবে না। তোলা হলেও তা উচ্ছেদে কিংবা অপসারনে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন (নং-৫১৬২/২০১১) আদেশ দেয়া রয়েছে। কিন্তু এরপর থেকে শুধু নোটিশ আর চিঠি চালাচালি করেই স্থানীয় প্রশাসন তাদের দৌড়ঝাপ শেষ করেছেন। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এমনকি সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড ছাড়াও চিহ্নিত সমুদ্র সৈকত এরিয়ায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পাকা আধাপাকা নির্মানাধীন স্থাপনা। কেউ কেউ দেয়াল বানাচ্ছে। মোট কথা কাউয়ার চরে চলছে সরকারি জমি দখলের হিড়িক।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের সীমানা নির্ধারনের পরে কাউয়ারচর এলাকায় বেড়িবাঁধের বাইরে কুয়াকাটা এসেট, বসুধা সহ বিভিন্ন আবাসন কোম্পানি এক নম্বর খাস খতিয়ানের বিভিন্ন দাগের উপরে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়। স্থানীয় এক শ্রেনীর ভ’মি দালালের সহায়তায় হচ্ছে এসব। এ জমির দখল নিয়ে আবার কখনও চলে মোটর সাইকেলে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া। এতে করে গ্রামের মানুষ হয়ে পড়েন ভীতসন্ত্রস্ত। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরে জেলা প্রশাসন সরকারী ভূমির অবৈধ দখল ছেড়ে দেয়ার জন্য সৈকত এরিয়ার সকল আবাসন ব্যবসায়ী কিংবা কোম্পানিকে নোটিশ প্রদান করে। কিন্তু ওই নোটিশের কার্যকর কোন ব্যবস্থা প্রায় পাঁচ বছরেও গৃহীত হয়নি। ভূমি প্রশাসনের অবহেলার কারনে এসব সাইনবোর্ড কিংবা বিলবোর্ড এখনও খাস জমির ওপরে দাড়িয়ে আছে এমন অভিযোগ এলকাবাসীর। ফলে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা যেমন উপেক্ষিত হচ্ছে তেমনি সরকারি শত শত একর খাস জমি স্থায়ীভাবে বেহাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কুয়াকাটা এসেট, বসুধা সহ অসংখ্য আবাসন কোম্পানি কিংবা ব্যবসায়ীর সাইনবোর্ড-বিলবোর্ড দাড়িয়ে আছে। রয়েছে বহু ব্যক্তিগত সাইনবোর্ড। নিজেদের জমি দাবি করে এসব স্থাপন করা হয়েছে। বসুধা কোম্পানি দাবি করেছে তারা সরকারি কোন জমিতে সাইনবোর্ড তোলেননি। এদের পাল্টা অভিযোগ কুয়াকাটা এসেট জোর করে ভাড়াটে সন্ত্রাসী লাগিয়ে তাদের জমিতে সাইনবোর্ড টানিয়েছে।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক এ কে এম শামীমুল হক সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানান, শীঘ্রই উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে এসব দখলবাজদের উচ্ছেদ করতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।