আমতলী ও তালতলীর হাটবাজারগুলো নকল কসমেটিকে সয়লাব

nakol-posadoni

বরগুনা প্রতিনিধি:  বরগুনার আমতলী তালতলী উপজেলাসহ উপকূলের বিভিন্ন হাটবাজারে কসমেটিক দোকানগুলোতে নকল কসমেটিকে সয়লাব হয়ে গেছে। ঈদ মৌসুমে দেশি এবং বিদেশি কসমেটিক কোম্পানির চাহিদাসম্পন্ন পণ্য নকল তৈরি করে বাজারে দেদারসে বেচাকেনা হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার নকল কসমেটিক উপজেলা দু’টির সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন দোকানে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। এসব নকল পণ্য কিনে প্রতারিত হচ্ছে নিরীহ মানুষ। তারা বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অথচ প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব নকল পণ্য বেচাকেনা হলেও বিশেষ কারণে প্রশাসন থাকে নীরব। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে নামকরা কোম্পানির পণ্য মার খাচ্ছে। এক কসমেটিক ব্যবসায়ী জানান, ক্রেতা আসল-নকল চিনতে না পেরে এসব নকল কসমেটিক কেনার জন্য দোকানে ভিড় জমাচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব কসমেটিক ঢাকার চকবাজার থেকে আনা হয়। ঢাকার চকবাজারের প্রায় চার শতাধিক ব্যবসায়ী এসব নকল পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। তারা দেশের বিভিন্ন কোম্পানি ও বিদেশি নামকরা কোম্পানির পণ্য হুবহু নাম অথবা নামের একটি অক্ষর পরিবর্তন করে থাকে। যেমন মেরিলের অনুকরণ মারিল, মেরিট, মরিল, মরিন। জুঁই নারিকেল তেলের অনুকরণ জুহি, জুন।

তিব্বতের অনুকরণ বিব্বাত, তিব্বত, অ্যারোমেটিকের অনুকরণ অ্যারোমা, অ্যারোমেকি, অ্যারোমেরিট ইত্যাদি। বিদেশি পণ্যের ক্ষেত্রে খালি কৌটা কিনে নকল পণ্য ঢোকানো হয়। যখন এসব পণ্য দোকানে বিক্রি করা হয় তখন আসল পণ্যের সঙ্গে এগুলোর দামের অনেক পার্থক্য থাকে। আসল নকল বুঝতে না পেরে এগুলো কিনে নিরীহ মানুষ হচ্ছে প্রতারিত। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের উচ্চমহলের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার ভূক্তভোগী মহল।

আমতলীতে ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত দর্জিরা

বরগুনা প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আমতলীতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দর্জিপাড়ার কারিগররা। তাদের হাতে মোটেও সময় নেই। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তৈরি পোশাক সরবরাহ করতে হবে। তাই পছন্দের পোশাক বানাতে দর্জির দোকানগুলোতে ভিড় করছেন শৌখিন গ্রাহকরা। কেননা বাজার থেকে কেনা বাহারি পোশাকের দাম যেমন চড়া তেমনি মাপেও ঠিক হয় না।

আমতলী উপজেলার বিভিন্ন বাজার মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, প্রায় তিন শতাধিক দর্জির দোকানে অর্ডারিরা ভিড় করছেন। উৎসব আসলেই এ মার্কেটগুলোতে নারীদের পদচারণাও বাড়তে থাকে। রবিাবর দর্জির দোকানগুলোতে নারীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। মার্কেটে আসা দুজন গৃহিণী সালমা ও কনক জানান, ছেলেমেয়েদের চাহিদা অনুযায়ী একটু ভালো কাপড় কিনে বাহারি পোশাক তৈরির জন্য দর্জির দোকানে এসেছি। কিন্তু দর্জিরা অর্ডারের ভিড়ে মজুরিও অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। এরপরও বাধ্য হয়ে পোশাক তৈরির জন্য তাদের কাছে আসছি। সাবিহা বস্ত্রালয়ের মালিক মো. আবুল মিয়া জানান, এ বছর ক্রেতারা কাপড় কিনে বিভিন্ন দর্জির দোকানে তাদের পছন্দমাফিক পোশাক বানাচ্ছে।এদিকে দর্জি দোকান গুলোতে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করে বিরতিহীনভাবে রাতভর পোশাক তৈরির কাজ চলছে। ফলে তাদের ফুরসত নেই। দর্জিদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মানসম্পন্ন পোশাক তৈরির জন্য অর্ডারিরা ছুটছেন শহরের বিভিন্ন দোকানে।

বিভিন্ন দর্জির দোকানে ক্রেতাদের অর্ডার নিতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে। পুরান বাজারের মান্নান টেইলার্সের মালিক আঃ মান্নান জানান, প্রথম রমজান থেকেই কাজের চাপ শুরু হয়েছে এবং ব্যস্ততা বেড়ে যাবার পরও এখনো অর্ডার নিচ্ছি। কারণ, দর্জি কারিগর বেশি থাকার ফলে কাজের কোনো অসুবিধা নেই।দর্জির দোকানে আসা কয়েকজন অর্ডারি জানান, কাপড়ের দাম বাড়ার পাশাপাশি মজুরিও বেড়ে যাওয়ায় এবার ঈদে বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।