এতিম ও পথশিশুদের নিয়ে শিবার ইফতারে মুস্তাফিজ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর – পবিত্র রমজানের এই মাসে এতিম ও পথশিশুদের সঙ্গে ইফতার করলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। রাজধানীর ‘শিবা ফাউন্ডেশন’ নামের সংগঠনের আয়োজনে অতিথি হয়ে উপস্থিত হন ক্রিকেটের বিস্ময় ‘কাটার মাস্টার’ খ্যাত মুস্তাফিজ।

রবিবার মিরপুর ১০ এলাকার সমাজসেবা অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত ইফতারের আয়োজনে মুস্তাফিজের সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের অন্যতম দল প্রাইম ব্যাংকের ক্রিকেটার মাহবুবুল আলম রবিন।

mustafiz-etim-iftar

অনুষ্ঠানে উপস্থিত “শিবা ফাউন্ডেশন ” এর প্রতিষ্ঠাতা শেখ মোঃ আমান উল্লাহ আমান বলেন, ”শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য আর তাই এভাবেই শিশু সেবা করে যেতে চাই । “শিবা ” একটি সামাজিক সংগঠন। “শি”- শিক্ষা, “বা”- বাসস্থান। এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা লগ্নের পর থেকেই এর সদস্যরা শিশুদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।”

শুনে অবাক হবেন কিনা জানিনা আপনার আমার মত বেশ কিছু তরুণ তরুণীরাই করছে এই দারুণ কাজটি। ওদের শিক্ষা দেওয়া, ঈদে নতুন পোশাক দেয়া, ওদের ছোট ছোট শখ পূরণ করা… এগুলোই যেন সেই তরুণ তরুণীর সুখের মূলমন্ত্র।

ভাবতে ভালো লাগে, যে সময়ে বড়লোক ছেলেটা চাইলে আভিজাত্যের প্রমাণ দিতে দামী বারে গিয়ে দুই পেগ মদ গিলতে পারতো সেই ছেলেটাই কিছু টাকা দান করছে ওদের জন্য যেন ওরা একটু আম খেতে পারে বা একটু নতুন পোশাক করতে পারে।

যে সময় মেয়েটা মেকআপ করে সেলফি তুলতে পারতো সে সময় মেয়েটা ফুটপাথে বসে একই থালায় ভাত খাচ্ছে পথশিশুদের সাথে। শীতবস্ত্র বিতরণ, শিক্ষাদান, শিক্ষার উপকরণ বিতরণ কিংবা ঈদের পোশাক বিতরণের মতো সামাজিক কাজগুলো নিয়মিত করে যাচ্ছে তারা। এরূপ নানাবিধ সামাজিক কর্মকাণ্ড করে ইতোমধ্যে সমাজের অনেকের নজর কেরেছে এই সংগঠনটি।

mustafiz-etim-shisu-iftar

অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুস্তাফিজ বলেন, ‘শিবা মানবতার উজ্জ্বলের প্রতীক।’ সংগঠনটির এমন উদ্যগে ভবিষ্যতে অংশগ্রহণ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

মুস্তাফিজ ও রবিনের সঙ্গে সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শান্তা জাহান ও চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠের কণ্ঠশিল্পী ইউসুফ আহমেদ খান, নাসিমা আক্তার, উপ-তত্ত্বাবধায়ক, সরকারি শিশু পরিবার মিরপুর (বালক), ঢাকা ।

প্রসঙ্গত, ঈদের পরেই সাসেক্সে যোগ দেবেন ‘দ্য ফিজ’। তাই জাতীয় দলের অন্যান্য ক্রিকেটাররা যখন ঈদকে সামনে রেখে ২৫ দিনের ছুটি কাটাতে ব্যস্ত, মুস্তাফিজ তখন হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের (এইচপি) কোচের সঙ্গে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আর বোলিং অনুশীলন করে সময় কাটাচ্ছেন। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে মুস্তাফিজের জন্য ইংল্যান্ডের ভিসা প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে।