মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীতে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য

y


মোঃ রুবেল ইসলাম, (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ দেশের দীর্ঘতম নদী ধলেশ্বরী অন্যতম মেঘনা, পদ্মা বেষ্টিত মুন্সীগঞ্জ জেলা।এই মেঘনা, ধলেশ্বরী ও পদ্মা নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ পাওয়া যেত। যা দিয়ে জেলার মানুষ মাছের চাহিদা নিবারন করত। এই নদীতে মাছ ধরে হাজারও জেলে পরিবার জীবিকা নির্বাহ করিত। কিন্তু আজ মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে
মুন্সীগঞ্জের কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নদীর তীর ঘেষে রাইস মিলসহ বিভিন্ন কলকারখানা প্রতিষ্টা করেছে। তাছাড়া মুক্তারপর ব্রিজের পশ্চিমপাশে নদীতে বাঁশ দিয়ে বেঁড়া দিয়ে বালু ফেলে ভরাট করে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। প্রতিযোগিতামূলক ভাবে দেশের দীর্ঘতম মেঘনা অববাহিকার ধলেশ্বরী অংশের হাটলক্ষীগঞ্জ,নয়াগাও,মুক্তারপুর,মালির পাথর, ফিরিঙ্গি বাজার ও মিরকাদিম এলাকায় নদীতে ফেলা হচ্ছে কলকারখানার বর্জ্য।

জানাযায়, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার, মিরকাদিম পৌরসভা এলাকায় প্রায় ৭ টি অটো  রাইস মিল গড়ে উঠেছে।পাশাপাশি ধান সিদ্ধ- শুকানোসহ নানা প্রক্রিয়ার জন্য চাতালও রয়েছে ৪০ টি। এসব চাতাল গুলোতে প্রতি সাপ্তাহে প্রায় ৪৫  হাজার মেট্রিক টন চাল প্রক্রিয়াজাত করা হয়। আর এসব চাল উৎপাদন করিতে প্রতিদিন প্রায় ২০ মেট্রিক টন চালের কুরা জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এতে জ্বালানি শেষে প্রায় ৯ মেট্রিক টন ছাই সৃষ্টি  হয় ।আর এসব ছাই মিল মালিকরা রাতের আঁধারে ধলেশ্বরী নদীতে ফেলছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

আর তাদের কারখানার বর্জ্য ফেলার কারনে নদীগুলো আজ ভরাট হয়ে যাচ্ছে।শুধু তাই নয় মুন্সীগঞ্জের অধিকাংশ কলকারখানাগুলো নদী কেন্দ্রীক প্রতিষ্টা করা হয়েছে। যার অধিকাংশ কারখানায়ই বর্জ্য পরিশোধনাগার প্রকল্প(ইটিপি) নাই। যার কারনে সেই সকল কারখানার বর্জ্য ও কেমিক্যাল মিশ্রিত বিষাক্ত পানি নিজস্ব পাকা ড্রেনের মাধ্যমে নদীতে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে অনবরত। বর্তমানে ধলেশ্বরী নদীর মাছ খাওয়া এখন দুঃস্বপ্ন ছাড়া কিছুই নয়। মানুষ নদীতে গোসল করতে গেলে দুর্গন্ধে নাক ডেকে পানিতে নামতে বাধ্য হয় জরুরি প্রয়োজনে।

নদীর পানিগুলো এখন অনেকটা কালো এরাপ্লেন মার্কা আলকারতরার মতো রূপ নিয়েছে। মানুষ নদীর পানি দিয়ে গোসল করলে তাদের গাঁয়ে খাজলী পাঁচরাসহ নানা ধরনের চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে নদীর তীরবর্তী এলাকার লোকজন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকার মুন্সীগঞ্জ ফাইবার, মুক্তারপুর এলাকার শাহ আলমের রাইস মিল, ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় বোগদাদ অটোরাইস মিল, সততা রাইস মিল সহ প্রায় ৭টি রাইসমিল রয়েছে।

তাছাড়া ধান প্রক্রিয়াজাত করনের জন্যও রয়েছে প্রায় ৪০ টি চাতাল রয়েছে। আর এসব চাতালের ব্যবহৃত তুষ পুঁড়ে ছাই হলে সেগুলোও সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। মেইলএছাড়া মেঘনা নদীর প্রান ধলেশ্বরীর বিভিন্ন অংশে বালু দিয়ে ভরাট করে বালুসহ অন্যান্য প্রায় ২০ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার বাসিন্ধা করিম মোল্লা বলেন, ধুলাবালি আর মিলের ছাইয়ের কারনে ঠিকমতো নি:শ্বাস নিতে পারছিনা। রাস্তা দিয়ে হাটার সময় ধুলাবালি ছাই নাক , মুখ দিয়ে ঢোকে । আর এসব মিলের ছাই রাতের আধাঁরে নদীতে ফেলছে মিল মালিকরা। এখন নদীতে ডুব দিয়ে দেখুন ছাই ছাড়া একমুঠো মাটি বা বালু খুঁজে পাবেন না।

স্থানীয় মুরুব্বি বাবুল মিয়া বলেন, মিল মালিকরা সরাসরি নদীতে কারখানার বর্জ্য ও ছাই ফেলছে আমরা ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছিনা। তারা প্রত্যেকে এক একজন প্রভাবশালী। আমরা নদীতে গোসল করার অধিকার হারিয়ে ফেলেছি। নদীটিকে বাঁচাতে হলে প্রশাসনের শক্ত ভূমিকা প্রয়োজন। প্রতিটি কারখানাকে বাধ্যতামূলক ভাবে বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনে জোড় দিতে হবে।

মুন্সীগঞ্জের কলকারখানার এসকল অনৈতিক কাজের ফলে সৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে মুন্সীগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা কেমিষ্ট মিয়া মাহফুজুল হক বলেন, নদী দূষনের বিষয়ে কয়েকটি মিল মালিককে নোটিশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আরো তদন্ত করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একেএম শওকত আলম মজুমদার বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে