পশ্চিমবঙ্গের মালদায় ছাত্র খুনের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, জনতা-পুলিশ সংঘর্ষ

4bk65075cd45e89fms_800C450


আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার কালিয়াচকে এক স্কুল ছাত্রকে নৃশংসভাবে হত্যা করার প্রতিবাদে আজ সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে উত্তেজিত জনতার সঙ্গে তাদের কার্যত খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে গুলিও চালাতে হয়।

সোমবার রাতে কালিয়াচকের নওদা যদুপুরের বাসিন্দা সাবির হোসেন (১৪) নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রকে নৃশংসভাবে হত্যা করে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। গভীর রাতে স্থানীয় এক প্রাথমিক স্কুলের পাশে আমবাগান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হয় ওই ছাত্রের গুলিবিদ্ধ দেহ।

নিহত ওই ছাত্রের বাবা ইব্রাহিম মোমিন অভিযোগ, ভাগলপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় কতিপয় দুর্বৃত্ত সাবিরকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। বকুল শেখ নামে এক দুর্বৃত্তের সঙ্গে পুরোনো শত্রুতার জেরে সাবিরকে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা বকুল শেখ, আজমল শেখ, সাদ্দাম শেখ এবং সারজন শেখের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন ইব্রাহিম মোমিন।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে ভাগলপুর স্ট্যান্ডে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে এলাকার ক্ষুব্ধ মানুষজন। ঘটনার খবর পেয়ে কালিয়াচক থানার পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে ক্ষুব্ধ জনতার রোষ আছড়ে পড়ে পুলিশকর্মীদের ওপরে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুঁড়লে কার্যত উভয় পক্ষের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। এই ঘটনায় ৩ পুলিশ কর্মী আহত হন। পুলিশের একটি গাড়িতেও ভাঙচুর করে অবরোধকারীরা। মারমুখী জনতার আক্রমণে রাইফেল ফেলে রেখে পালিয়ে যায় পুলিশ কর্মীরা। পরে অবশ্য উদ্ধার হয় ওই রাইফেল।

অন্য একটি সূত্রে প্রকাশ, একটি রাইফেল এবং একটি কার্বাইনসহ বেশ কিছু কার্তুজ ছিনিয়ে নেয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে পুলিশের ভাঙ্গা গাড়ির সামনে থেকে ওই সব অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ তুলতে গিয়ে পুলিশ নিগৃহীত হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে পুলিশ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক মোদি জানিয়েছেন।