ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন ঘটিয়ে ইউরো থেকে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে দিল আইসল্যান্ড

dublo-england

স্পোর্টস ডেস্ক –   ছোট্ট একটি দেশ ,  আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট জেলা মেহেরপুরের জনসংখ্যাই আইসল্যান্ডের প্রায় দ্বিগুণ  সেই ‘পুঁচকে’ দেশটিই পরশু গড়ল অনন্য ইতিহাস। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন ঘটিয়ে ইউরোর শেষ ষোলো থেকেই বিদায় করে দিল ইংল্যান্ডকে।

বরফ আর আগ্নেয়গিরিতে ঢাকা দেশটির জনসংখ্যাই এত কম, ফুটবলার বেশি আসবে কোত্থেকে? সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকার মজা করে টুইট করেছিলেন, ‘আইসল্যান্ডে অত ফুটবলারই নেই, যতগুলো আগ্নেয়গিরি আছে।’ সব মিলিয়ে নিবন্ধিত ফুটবলারের সংখ্যা ২১ হাজারের মতো। অবশ্য নিবন্ধনই শুধু, বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই খণ্ডকালীন ফুটবলার, জীবিকা চালান মূলত অন্য কাজ করে। ইউরোর দলের গোলকিপার হ্যানেস হ্যালডোরাসন ফুটবলারের পাশাপাশি একজন চলচ্চিত্রনির্মাতা। দুই কোচের একজন হেইমার হালগ্রিমসন পেশায় দন্তচিকিৎসক। ক্লিনিক থেকে এসেছেন ছুটি নিয়ে। দলের কোনো খেলোয়াড়ই আইসল্যান্ডের ঘরোয়া লিগে খেলেন না। দলের সবচেয়ে বড় তারকা গিলফি সিগুর্ডসনই শুধু আছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে।

আইসল্যান্ডে ফুটবল খেলা হয় মোট ১১টি কেন্দ্রে। বরফ-ঢাকা দেশটির এই ১১টি জায়গাতেই রয়েছে বিশেষ তাপানুকূল পরিবেশ। শীতকাল ৯ মাসের হওয়ায় খোলা মাঠ বরফে ঢাকা থাকে, এই সময়টায় তারা ফুটবল খেলে ছাদঘেরা কেন্দ্রগুলোতে।
তবে এবারের ইউরোতে তাদের উত্থানকে ঠিক চমকও বলা যাচ্ছে না। অনেক দিন ধরেই এই মুহূর্তটির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল আইসল্যান্ড। ২০১২ সালের এপ্রিলে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৩১তম ছিল দেশটি, বর্তমানে অবস্থান ৩৪। এই উন্নতির পেছনে পরিকল্পনা ছিল অনেক। ঘরোয়া লিগে তরুণ খেলোয়াড়দের মূল একাদশে সুযোগ দেওয়াটা সেখানে ‘নিয়ম’। কোচদের জন্যও আছে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। ৩০ শতাংশ কোচই উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী, বাকি ৭০ শতাংশের আছে উয়েফা ‘বি’ লাইসেন্স।
২০১৪ বিশ্বকাপে খেলারও খুব কাছে গিয়েছিল আইসল্যান্ড, প্লে-অফে ক্রোয়েশিয়া বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় হয়নি। কিন্তু এবার ওসব ঝামেলাতেই যেতে হয়নি। বাছাইপর্বে হল্যান্ড-চেক প্রজাতন্ত্রের গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে উঠেছে ইউরোতে। মূল মঞ্চে এসেও এখনো ভয়-ডরহীন। গ্রুপে তিন ম্যাচে অপরাজেয় থাকার পর নকআউটেও সৌরভ ছড়াচ্ছে ‘পুঁচকে’ আইসল্যান্ড। সূত্র: ফক্স স্পোর্টস।