সেবা নিশ্চিত করতে ভেড়ামারা ভূমি অফিসে স্মাইলি কার্ড চালু

৪:৪৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, জুন ২৯, ২০১৬ খুলনা, দেশের খবর

news pic ac land-jakiw-

এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, কুষ্টিয়া থেকে: আপনি যে সেবাটি পেলেন, তার মান কেমন? খুব ভালো, ভালো, না নিম্নমানের ? কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেমন ব্যবহার করেছেন ? কেউ অতিরিক্ত টাকা বা ঘুষ নিয়েছে কি না, এমন কথা লেখা স্মাইলিং কার্ড সেবাগ্রহীতার হাতে দিয়ে মন্তব্যের ঘরে টিকচিহ্ন দিতে বলা হচ্ছে। এমন জবাবদিহিমূলক সেবা দিচ্ছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ভূমি কার্যালয়।

ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে ভূমি কার্যালয়ে ভূমি-বিষয়ক বিভিন্ন ধরনের সেবা নিয়ে ৬৭ ভাগ সেবাগ্রহীতা বলেছেন, সেবার মান খুব ভালো। ২৫ ভাগ বলেছেন, সেবার মান ভালো। ৮ ভাগ সেবাগ্রহীতা বলেছেন, সেবার মান নিম্নমানের। এরপরই জরুরি সভা ডেকে কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। ফলাফল পাওয়া যায় মে মাসে। এ মাসে ১৬০ জন সেবাগ্রহীতা সেবা নেওয়ার জন্য আসেন ভূমি অফিসে। এর মধ্যে মাত্র একজন সেবাগ্রহীতা বলেছেন ভূমি অফিসের সেবার মান নিম্নমানের। ১৫৯ জন সেবাগ্রহীতা ভূমি অফিসের সেবা নিয়ে খুশি।

ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সেবাগ্রহীতা সেবা নিতে ভূমি অফিসে এলেই তাঁর নাম-ঠিকানা রেজিস্টারভুক্ত করা হয়। দেওয়া হয় একটি স্মাইলিং কার্ড। সেবাগ্রহীতাকে বলা হয়, প্রাপ্ত সেবা শেষে সন্তুষ্টি অনুযায়ী কার্ডে স্বাক্ষর করে তিনি যেন সেবাকেন্দ্রের বাইরে রাখা সন্তুষ্টি বাক্সে কার্ডটি ফেলে যান। সপ্তাহ শুরু হওয়ার দিনে বাক্সটি খুলে সেবার মান পরিমাপ করা হয়। এরপর সেবার মান বাড়াতে তাৎক্ষণিক সভা ডেকে সেবা প্রদানকারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ভূমি কার্যালয়কে দুর্নীতিমুক্ত, দালালমুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহি, গতিশীল রাজস্ব প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভেড়ামারা ভূমি কার্যালয়ে গত বছরের প্রথম দিকে আটটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) বসানো হয়েছে। এ ছাড়া এসিল্যান্ড অফিস ভেড়ামারা নামে একটি ফেসবুক পাতাও খোলা হয়েছে। সেখানেও সেবাগ্রহীতারা অভিযোগ জানাতে পারেন।

গতকাল দুপুরে ফারাকপুর গ্রাম থেকে আসা সেবাগ্রহীতা রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি জমির ডিসিআর (জমি নামজারির টাকা জমা দেওয়ার পর রসিদ) কাটতে আসছেন। এখানে এসেই তিনি রেজিস্ট্রি খাতায় নাম-ঠিকানা লিখেছেন। এরপর সেবাটি সেবার পর স্মাইলিং কার্ড পূরণ করেছেন। তিনি মনে করেন, এটা দেওয়ায় যেকোনো সমস্যার বিষয়ে অভিযোগ জানাতে পারছেন। গাছিয়া দৌলতপুর গ্রাম থেকে আসা সেবাগ্রহীতা আরিফ হোসেন বলেন, বেশ কয়েক মাস আগে জমিজমার কাজ করতে এসে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। এখন কর্মকর্তা-কর্মচারী খুব সহজে সবকিছু বুঝিয়ে কাজ করে দিচ্ছেন। আর সমস্যা হলে তো অভিযোগ দেওয়ার জায়গা আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের চন্ডীপুর গ্রামের জহুরুল ইসলাম বলেন, জবাবদিহিমূলক সেবা হওয়ায় মানুষ অনেক সুবিধা পাচ্ছে। এটা অব্যাহত রাখলে জনগণ ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবে। ভেড়ামারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিহাব রায়হান বলেন, জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেনের উদ্ভাবনী চিন্তায় সেবাগ্রহীতাদের মুখে হাসি ফোটাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এটা নিয়মিত করা হবে।

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শান্তি মণি চাকমা বলেন, প্রতি মাসে সেবাগ্রহীতাদের ফেলা স্মাইলিং কার্ড বাক্স থেকে খুলে পড়া হয়। সব কার্ড পড়ে যদি কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সব কার্ডের মূল্যায়ন করা হয়। যে-কেউ সেবাগ্রহীতা সেজে এটা পরীক্ষা করতে পারে।

Loading...