শিবগঞ্জে ১১ হাজার মানুষের জন্য একজন পুলিশ !

৪:৫১ অপরাহ্ণ | বুধবার, জুন ২৯, ২০১৬ দেশের খবর, রাজশাহী

কামাল হোসেন, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:
পুলিশের জনবল সংকটের কারনে একদিকে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিবগঞ্জ উপজেলাবাসী। অপরদিকে বে-আইনী কাজও দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ জনবল অনুযায়ী শিবগঞ্জ থানায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ৪শ’ ৬২ জন পুলিশ থাকার নিয়ম থাকলে আছে মাত্র ৫৮ জন। তাই দিয়ে চলছে পুলিশ প্রশাসনের কাজ। শেষ আদমশুমারী অনুযায়ী শিবগঞ্জের জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৯১ হাজার জন। আয়তন হলো ৫২৪ বর্গকিলোমিটার।

এ থানায় প্রায় ১৫টি বিজিবি ক্যাম্প, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনামসজিদ স্থলবন্দর, বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে নদী পথ। এ উপজেলার স্বাধীনতর পর থেকে দূর্নীতি, চোরাচালান ও বিভিন্ন ধরনের অবরাধ প্রবনতা এলাকা ও স্বাধীনতা বিরোধী চক্র কর্তৃক দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন ধরনের নাশকতামূলক ঘটনা ঘটিয়ে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হলেও এখানে পুলিশ স্টেশন মাত্র একটি। যেখানে প্রায় ১১ হাজার জনগণের জন্য গড়ে একজন পুলিশ রয়েছে। অথচ সূত্রানুযায়ী অন্যান্য থানায় প্রতি ১৩শ’ জনে একজন পুলিশ রয়েছে।

sibganjফলে জনগণ পুলিশী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অন্যদিকে অপরাধপ্রবনতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। থানার দায়িত্বশীল পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, শিবগঞ্জ থানায় ১ জন অফিসার ইনচার্জ ১ জন পরিদর্শক (তদন্ত), ১১ জন উপপরিদর্শক (এসআই) ৭ জন সহকারী উপপরিদর্শক(এএসআই) ও ৩৮ জন কনস্টেবলসহ মোট ৫৮জন পুলিশ জনবল রয়েছে। জানাগেছে, সারা দেশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে প্রতি ১৩শ’ জন মানুষের জন্য একজন পুলিশ থাকলেও শিবগঞ্জে রয়েছে প্রায় ১১ হাজার মানুষের জন্য একজন পুলিশ। ফলে দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত কষ্টকর। সূত্র জানায়, শিবগঞ্জ থানায় মাত্র ১টি পুলিশ ভ্যান থাকলেও তা মান্দত্য আমলের হওয়ায় ঘন ঘন অচল হয়ে যায়।

বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ঘটনার তদন্তে যেতে অফিসারদের জন্য কোন মোটরসাইকেল বা অন্য কোন গাড়ী বরাদ্দ না থাকায় নিজস্ব গাড়ীতে বা ভাড়া গাড়ীতে যেতে হয়। উপযুক্ত নিজস্ব যানবাহন না থাকায় অনেক সময় দূর্গম এলাকায় অপরাধমূলক ঘটনা ঘটলেও যাবার আগেই অপরাধীরা গা ঢাকা দেয়। অন্যদিকে শিবগঞ্জ থানার মনাকষা, দূর্র্লভপুর, পাকা, উজিরপুর ও ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়ন নিয়ে বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে নদী পথ ও নদী ভাঙ্গন এলাকা। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্যি যে শিবগঞ্জ থানায় নদী পথে পাড়ি জমার জন্য কোন নৌযান নেই।

ফলে নদীর ওপারে গিয়ে অপরাধীদের আটকা বা গ্রেফতার করা কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময় নদীর ওপার দূর্গম এলাকা হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধীরা সেখানে গিয়ে আত্মগোপনে থাকে। এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আতাউর রহামান জানান, যেহেতু শিবগঞ্জ একটি বিশাল, ঘনবসতি, অপরাধ প্রবণতা, জঙ্গীসহ স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের সক্রিয় এলাকা এবং নদী ভাঙ্গন ও দূর্গম এলাকা, সেহেতু দেশের প্রচলিত নিয়ন অনুযায়ী শিবগঞ্জ থানায় আনুপাতিক হারে পুলিশ জনবল দেয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসন ও সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।