সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

গুলশান হামলায় নিহত এসি রবিউলের অনাগত সন্তানের মুখ দেখা হলো না

৩:২১ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, জুলাই ২, ২০১৬ Breaking News, আলোচিত বাংলাদেশ, জাতীয়

robiul

সময়ের কণ্ঠস্বর –    রাত পৌনে নয়টার দিকে গুলশানের আর্টিসান রেস্তোরাঁয় ১০ জন যুবক অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর তারা ওই রেস্তোরাঁয় যারা ছিলেন তাদের জিম্মি করে।

গুলশান-২ এর আর্টিসান রেস্তোরাঁয় গোলাগুলিতে পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম আহত হওয়ার খবর শুনেই তার আত্মীয়স্বজন সাভার থেকে রওনা দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন রবিউলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও সাত বছরের ছেলেও। পথিমধ্যে জানতে পারেন মারা গেছেন এসি রবিউল ইসলাম।

এ দিকে এ ঘটনায় দুর্বৃত্তদের গুলি ও বোমায় বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিনও নিহত হয়েছেন।

রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে রবিউলের মামা মোহাম্মদ জালালউদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে , ‘আমার ভাগনেকে আল্লাহ তুলে নিছে। আমরা গুলি লাগার খবর পেয়ে সাভার থেকে রওনা দিই। পথেই জানতে পারি রবিউল মারা গেছেন।’

জালালউদ্দিনের সঙ্গে রবিউলের স্ত্রী, সন্তান ও অন্যান্য সদস্যরাও হাসপাতালে এসেছেন।

জালালউদ্দিন জানান, রবিউলের সাত বছরের একটি ছেলে আছে। রবিউলের স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। তাঁর গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের কাটিবাড়ি।

সন্ত্রাসী হামলার খবর পেয়ে রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। হাসপাতাল থেকে রবিউলের সহকর্মী ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, রবিউল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর-মাদক টিমে কর্মরত ছিলেন। রবিউল বিসিএস পুলিশের ৩০ তম ব্যাচের সদস্য। রবিউল পরিবার নিয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে থাকতেন।

গুলশানের জিম্মি পরিস্থিতি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তদারক করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সরকারের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, জিম্মিকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের দাবি দাওয়া জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। সবচেয়ে কম ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে জিম্মিদের উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে আর্টিসান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা চালিয়ে দেশি বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস (ইসলামিক স্টেট)।

Loading...