সংবাদ শিরোনাম
সেন্টমাটিনে ভাসমান ট্রলার থেকে মালয়েশিয়াগামী ১২২ রোহিঙ্গা উদ্ধার | রাঙ্গা সম্পর্কে কটূক্তি করার প্রতিবাদে রংপুরে ফিরোজ রশীদের কুশপুত্তলিকা দাহ | ময়মনসিংহে অনলাইন জিডির উদ্বোধন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | ইবির ভর্তি পরীক্ষাঃ ‘এ’ ইউনিটে জিরো থেকে হিরো এক শিক্ষার্থী | মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠির দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি বাকৃবি প্রশাসন | ঠাকুরগাঁওয়ে বাল্যবিবাহের চেষ্টা, কাজী ও বরকে কারাদণ্ড | টাঙ্গাইলে আবারো কালীমন্দিরে ভাংচুর | ৫ কেজি চালের দামে ১ কেজি পেঁয়াজ! | ‘সিগন্যাল ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণে উল্লাপাড়ায় দুর্ঘটনা’- রেল সচিব | ‘জঙ্গিদের কাছে কোরআন-হাদিসের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে’- গণপূর্ত মন্ত্রী |
  • আজ ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মিতু হত্যা : মুছার স্ত্রীর দাবি পুলিশ তার স্বামীকে গুম করেছে

২:৫৯ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুলাই ৫, ২০১৬ আলোচিত

mitu-hotta

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   মিতু হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুছার স্ত্রী পান্না আক্তার দাবি করেছে পুলিশ তার স্বামীকে গুম করেছে।

মুসাকে ফাঁসানো হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাকে ফাঁসানো হচ্ছে একথা আমি বলব না। তবে মুসা বিএনপি করত, এটাই তার দোষ।

হত্যাকাণ্ডের সময় মুসা নিজের বাসায় ছিল দাবি করে পান্না আক্তার বলেন, এসময় সে বসে বসে টিভি দেখছিল। সে খুব নরমাল ছিল।

সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাস্থলে মুসাকে দেখা গেছে বলা হলে পান্না বলেন, এটা সন্দেহ। মুসা কিনা নিশ্চিত নয় পুলিশ।

সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করে তিনি বলেন, গত ২২ জুন মুসাকে আটক করেছে। কিন্তু পুলিশ এখন অস্বীকার করছে।

সংবাদ সম্মেলনে পান্না আক্তার জানান, মুসা দোষ করলে অবশ্যই আইনের মাধ্যমে তার সাজা হবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তাকে আটক রাখা হলো কেন? তাকে মেরে ফেলার কথা আসছে কেন? মুসার ভাগ্যে কি ঘটেছে তা প্রকাশ করার জন্য জোর দাবি জানান মুসার স্ত্রী। মুসার আটক অভিযানে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বন্দর থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিম এবং পুলিশ পরিদর্শক নেজাম উদ্দিন ছিলেন। পুলিশ এখন অস্বীকার করছে। মুসার স্ত্রীর অভিযোগ মিথ্যা উল্লেখ করে বন্দর থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিম বলেছেন, আমি তো মামলার তদন্ত করছি না, আমি কেন তাকে গ্রেফতার করতে যাব?

সংবাদ সম্মেলনে মুসাকে গ্রেফতারের বর্ণনায় পান্না আক্তার বলেন, ২২ জুলাই সকাল ৭টার দিকে মুছা, পান্না ও তাদের দুই ছেলে এবং মুছার বড় ভাই সাইদুল ইসলাম সিকদার নগরীতে এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়েছিলেন। সকাল ৯টার দিকে একদল পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে হাজির হয়। পুলিশ সবাইকে বন্দর এলাকায় একটি বাসায় নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে। সকাল ১১টার দিকে মুসা ও তার ভাইকে রেখে বাকিদের ছেড়ে দেয়। মুসার পরিবারের সদস্যদের পুলিশ কয়েকদিন নজরবন্দি করে রেখেছিল বলেও দাবি পান্না আক্তারের।

মুসার স্ত্রী বলেন, আটকের ১০ দিন পর গত শুক্রবার সাইদুল ইসলাম সিকদারকে পুলিশ রাঙ্গুনিয়া থানার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে। কিন্তু গত ১৩ দিন ধরে মুছার কোন খোঁজ পাচ্ছি না। আমি রাঙ্গুনিয়া থানায় জিডি করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমার জিডি গ্রহণ করেনি।

মুসা ২০০৩ সাল থেকে প্রশাসনের সোর্স হিসেবে কাজ করছিল বলে বলে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে জানান পান্না আক্তার। তবে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে মুসা কাজ করত কিনা সেটা জানা নেই বলে জানিয়েছেন পান্না।

ছেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বাবুল আক্তার মুসার বাসায় অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা ঘরোয়াভাবে জন্মদিন করেছি। ভালভাবে আত্মীয়স্বজনদেরও বলিনি। প্রশাসনের কাউকে বলার প্রশ্নই আসে না। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, বাবুল আক্তারকে চিনি না। কখনও তার নাম শুনিনি। কখনও তার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। বাবুল আক্তারের বিষয়ে কখনও আমার স্বামী আমাকে কিছু বলেনি।

এক প্রশ্নের জবাবে পান্না বলেন, বাবুল আক্তারের সঙ্গে যদি আমার স্বামীর ভাল সম্পর্কই থাকে তাহলে তার স্ত্রীকে সে মারবে কেন? অনেক অফিসারের সঙ্গেই তো মুসার ভাল সম্পর্ক ছিল। কিন্তু বাবুল আক্তারের কথা তো আমি তার মুখে কখনও শুনিনি। ‘এখন শুনছি মুসা নাকি খুনের নির্দেশদাতা। মুসা কেন খুন করতে যাবে? তার কি স্বার্থ? মুসাকে আদালতে হাজির করা হোক। তারপর সবকিছু পরিষ্কার হবে। বলেন পান্না আক্তার।

প্রসঙ্গত, মিতু হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা ওয়াসিম ও আনোয়ার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছে, মুসা মিতুকে গুলি করে, নবী ছুরিকাঘাত করে। মুসার ভাড়াটে হিসাবে তারা অংশ নেয় কিলিং মিশনে। মিতু এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী তা তারা জানতো না। পরে বাসায় গিয়ে টেলিভিশনের স্ক্রল নিউজে দেখেছে।

সংবাদ সম্মেলনে মুসার দুই ছেলে শামসুদ্দোহা সিকদার সানি (১০) ও নূরুদ্দোহা সিকদার সানজু (৭) এবং শ্বশুর ফারুক সিকদার উপস্থিত ছিলেন।

Loading...