সংবাদ শিরোনাম
রাঙ্গা সম্পর্কে কটূক্তি করার প্রতিবাদে রংপুরে ফিরোজ রশীদের কুশপুত্তলিকা দাহ | ময়মনসিংহে অনলাইন জিডির উদ্বোধন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | ইবির ভর্তি পরীক্ষাঃ ‘এ’ ইউনিটে জিরো থেকে হিরো এক শিক্ষার্থী | মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠির দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি বাকৃবি প্রশাসন | ঠাকুরগাঁওয়ে বাল্যবিবাহের চেষ্টা, কাজী ও বরকে কারাদণ্ড | টাঙ্গাইলে আবারো কালীমন্দিরে ভাংচুর | ৫ কেজি চালের দামে ১ কেজি পেঁয়াজ! | ‘সিগন্যাল ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণে উল্লাপাড়ায় দুর্ঘটনা’- রেল সচিব | ‘জঙ্গিদের কাছে কোরআন-হাদিসের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে’- গণপূর্ত মন্ত্রী | পেঁয়াজের দাম বাড়ানো ব্যবসায়ীদের ক্রসফায়ারের দাবি সংসদে |
  • আজ ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নিহত পাঁচ জঙ্গীর লাশেও অনীহা স্বজনদের, চারদিন পেরুলেও খোঁজ নেয়নি কেও

১১:০০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুলাই ৫, ২০১৬ Breaking News, আলোচিত, আলোচিত বাংলাদেশ, জাতীয়, স্পট লাইট

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর

গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিযান রেস্টুরেন্টে বিভীষিকাময় জঙ্গী হামলার সময় রাতভর সারাদেশের মানুষের সাথে রুদ্ধশ্বাস প্রতিমুহুর্ত সময় কাটে গোটা বিশ্বের মানুষের । আর অভিযানের শুরু থেকে শেষ অবধি জঙ্গীদের হামলায় নিহত হন দুই পুলিশ অফিসার ও তিন বাংলাদেশি সহ ১৭ বিদেশী নাগরিক ।

শনিবার সকালে জঙ্গীদের ১২ ঘন্টার জিম্মিদশা থেকে মাত্র ১৩ মিনিটের অভিযানে জীবিত উদ্ধার করা হয় তিন বিদেশি নাগরিকসহ ১৩ জিম্মিকে। এসময় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনীর ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ অভিযানে নিহত হয় পাঁচ বাংলাদেশী জঙ্গী তরুন। অভিযান শেষ হবার পর জিম্মিদের উদ্ধার করে দুপুরের পর নিহত জঙ্গীদের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় সিএমএইচ-এ ।

সে রাতেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পাঁচ জঙ্গীর ছবি প্রকাশের পর রাতারাতিই বেরিয়ে আসে বিস্ময়কর নানা তথ্যের সাথে প্রায় সবার পরিচয়।

এদিকে, ঘটনার চারদিন পেরিয়ে গেলেও এখন অবধি অভিযানে নিহত পাঁচ জঙ্গির লাশ নিতে যোগাযোগ করেননি তাদের স্বজনরা। শনিবার বিকাল থেকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) মরচুয়ারিতে এই পাঁচটি লাশ রাখা হয়েছে।

নিহত প্রত্যেক জঙ্গির বিস্তারিত নাম ও পরিচয় পাওয়া গেলেও তাদের কোনও স্বজন লাশ নিতে (মঙ্গলবার রাত ৯ টায় এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত) সিএমএইচ কর্তৃপক্ষ কিংবা পুলিশের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করেননি বলে জানা গেছে।

গুলশান থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সালাহ উদ্দিনের কাছে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সময়ের কণ্ঠস্বরকে  জানান, ”লাশগুলো মূলত পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। আমরা কেবল রাখার সুযোগ করে দিয়েছি। পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত করছে। পুলিশের সিদ্ধান্ত পেলেই তারা লাশ হস্তান্তর করবেন।

ওসি সালাহ উদ্দিন আরও জানান, ” সিএমএইচ-এর মরচুয়ারিতে রাখা পাঁচ জঙ্গির লাশের কোনও স্বজনই এখনও পর্যন্ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। কেউ যোগাযোগ না করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

somoyerkonthosor-gulshan

পুলিশের দেয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী,  যে পাঁচ জনের লাশ সিএমএইচ মর্গে রয়েছে তারা হলো, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, স্কলাসটিকার সাবেক ছাত্র মীর সামিহ মোবাশ্বের, মালয়েশিয়ার মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নিবরাস ইসলাম, বগুড়ার বিগিগ্রাম ডিইউ সেন্ট্রাল ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র খায়রুল ইসলাম পায়েল, বগুড়ার সরকারি আযিযুল হক কলেজের ছাত্র শফিকুল ইসলাম উজ্জল।

এ ছাড়া হলি আর্টিজানের কর্মচারি বলে পরিচিত সাইফুল ইসলাম চৌকিদারের লাশও সিএমএইচে রয়েছে। তার স্বজনরা দাবি করেছেন তিনি জঙ্গি নন,ওই রেস্টুরেন্টের শেফ। তার বাড়ি শরিয়তপুরে।সাইফুল ছাড়া নিহত অন্য পাঁচজনের ছবি আইএস-এর বাংলা ওয়েব সাইট আত তামকিনেও প্রকাশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, জঙ্গি হামলায় নিহত তিন বাংলাদেশির লাশ রবিবার সকালে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন ফারাজ হোসেন, ইশরাত আখন্দ ও অবিন্তা কবীর। তাদের লাশ দাফন করা হয়েছে। এছাড়া ১৭ বিদেশির লাশও একইদিনে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাদের পরিবার ও নিজ নিজ দেশের দূতাবাস কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদের মধ্যে ইতালির ৯ জন, জাপানের ৭ জন ও ভারতের একজনের লাশ রয়েছে।

নিহত জঙ্গীদের পরিবারের প্রতিক্রিয়া

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জঙ্গি মীর সামিহ মোবাশ্বেরের বাবা মীর হায়াত কবীর এ হামলার সঙ্গে তার ছেলের জড়িত থাকার বিষয়ে সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেন, রবিবার পুলিশ তাকে ফোন করে জানায়, সিএমএইচ-এ গিয়ে লাশ শনাক্ত করতে। কিন্তু সেখানে যাওয়াটা ছিলো খুবই কষ্টের।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জঙ্গি খায়রুলের বাবা আবুল হোসেন ও মা পিয়ারা বেগমকে বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে উজ্জলের বাবা বদিউজ্জামান ও ভাই আসাদুল ইসলামকে বগুড়ায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে ।

বগুড়ার ধুনট থানার ওসি মিজানুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, এই দুই জঙ্গির পরিবারই হতদরিদ্র। কৃষি কাজ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করে। খায়রুল ও উজ্জলের লাশ শনাক্তসহ তাদের বিষয়ে আর কোনও তথ্য আছে কিনা সেটা জানতেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

ওসি মিজানুর রহমান নিহত জঙ্গী খায়রুলের পরিবার ও প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, ” খায়রুলের স্বজনরা জানতেন, বগুড়ার ডিইউ সেন্ট্রাল ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস করার পর খায়রুল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। কিন্তু ঢাকায় এসে খায়রুল সেখানে ভর্তি না হয়ে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। গত ছয়মাস যাবত তার সঙ্গে স্বজনদের কোনও যোগাযোগ হয়নি বলেও জানান স্বজনরা।

অন্যদিকে, উজ্জলের স্বজনরাও জানান, প্রায় ছয় মাস আগে ধুনটের বাড়ি থেকে তাবলিগের চিল্লায় যাচ্ছে বলে উজ্জল বেরিয়ে যায়। সে বগুড়ার আযিযুল হক ডিগ্রি কলেজের মাস্টার্স ১ম বর্ষের পরীক্ষা দিয়ে এক বছর আগে ঢাকায় আসে।

প্রসঙ্গত, গুলশানের হলি আর্টিযান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার ঘটনায় সোমবার রাতে গুলশান থানায় একটি মামলা হয়েছে। রাত ১১টার দিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এ মামলা (নং-১ (৪/৭/২০১৬) করা হয়। এতে নিহত পাঁচ হামলাকারীসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

এরমধ্যে মামলাটির তদন্ত শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটি)।ওই রেস্টুরেন্ট থেকে উদ্ধার পাওয়া মোট ৩১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে তারা। এখনও তিনজন তাদের হেফাজতে রয়েছেন। ঘটনার ছায়া তদন্ত করছে র‌্যাব, সিআইডি, পিবিআইসহ অন্যান্য সংস্থার সদস্যরাও।

Loading...