মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে থানা ঘেরাও, জিআরপি ওসিসহ গ্রেফতার দুই

২:২১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুলাই ১২, ২০১৬ দেশের খবর, ময়মনসিংহ

আবদুল লতিফ লায়ন, জামালপুর সংবাদদাতা- জামালপুর রেলস্টেশনে টিকিটের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেলওয়ে থানা পুলিশের মুক্তিযোদ্ধাদের প্যারেড কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল বারী (৭০) সোমবার সকালে নিহত হন।

এঘটনার পর বিক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধা নিহতের স্বজনরা জামালপুর রেলওয়ে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এঘটনায় রেলওয়ে থানা পুলিশের ওসি এবং একজন কনস্টেবলকে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও জামালপুর রেলওয়ে থানার ৮ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

সরেজমিন ঘুরে জানাগেছে, মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল বারী নিহত হওয়ার পর সোমবার বেলা সাড়ে ৩ টায় নিহতের বড়ভাই শফিকুল ইসলাম ও ছোট ভাই কাউছারসহ একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এবং জামালপুরের মুক্তিযোদ্ধারা প্রথমে জামালপুর জিআরপি থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকে। ওই সময় ওসি গৌড় চন্দ্র মজুমদার এর সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়ায় যায়নি। তবে এসময় জিআরপি থানার নিরাপত্তায় জামালপুর সদর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে থানায় অবস্থান নেয়।

এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল বারী নিহতের ঘটনা চারিদিক ছড়িয়ে পড়লে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা এবং নিহতের স্বজনরা ছুটে এসে জামালপুর রেলওয়ে থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তখন উপস্থিত জেলার বিভিন্ন এলাকার মুক্তিযোদ্ধা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড নেতৃবৃন্দ এবং নিহতের স্বজনরা স্টেশনের প্লাট ফরমে এবং রেলওয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে।

পরে বিক্ষুব্ধরা থানা ঘেরাও করে এবং বিক্ষোভ সমাবেশ করে। ওই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম, ডেপুটি কমান্ডার সুজায়েত আলী ফকির, নিহতের বড় ভাই শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা সকলেই নিহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারীকে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেছেন। ওই সময় জেলা পুলিশ সুপার মোঃ নিজাম উদ্দিন ঘটনাস্থলে এসে নিহত মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা ঘটনায় জড়িত সকলকে গ্রেফতার পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধরা শান্ত হন এবং ঘেরাও কর্মসুচী প্রত্যাহার করে নেন।

জামালপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জানান, তুচ্ছ ঘটনায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশের আঘাতে নিহত হওয়ার ঘটনাটি অত্যান্ত অমানবিক। এ ঘটনায় জড়িত সকল পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ায় তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জামালপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বৃহৎ কর্মসুচী ঘোষনা করা হবে।

জামালপুরের জেলা পুলিশ সুপার মোঃ নিজাম উদ্দিন জানান, নিহত মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রেলওয়ে থানার ওসি গৌড় চন্দ্র মজুমদার ও কনস্টেবল তপন বড়–য়াকে গ্রেফতার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জামালপুর রেলওয়ে থানার ৮ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও রেলওয়ে থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।jamalpurএব্যাপারে জামালপুর জেলা প্রশাসক মোঃ শাহাবুদ্দিন খান জানান, মুক্তিযোদ্ধা নিহতের ঘটনা তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাসেল সাবরিন এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও একই ঘটনা তদন্তের জন্য রেলওয়ে পুলিশের পৃথক একটি তদন্তদল কাজ করছেন। ইতিমধ্যেই দুই জনকে গ্রেফতার ও আট জন পুলিশ সদস্যকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।