‘হামলার মদদদাতাদের খুঁজে বের করা সময়ের ব্যাপার মাত্র’

সময়ের কণ্ঠস্বর- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ও শোলাকিয়ায় হামলাকারীদের আড়ালে মদদদাতা, পরামর্শদাতা, পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতা দেশি-বিদেশি যারাই হোক- তাদেরকে খুঁজে বের করা হবে। এটা কঠিন কিছু না, সময়ের ব্যাপার মাত্র।’ সবাইকে ধরে আমরা অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পারবো।Hasina1453900534বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্দার অন্তরালে থেকে দেশি-বিদেশি মদদদাতা, পরামর্শদাতা, পরিকল্পনাকারী ও যারা অস্ত্র-অর্থ দিচ্ছে তাদের খুঁজে বের করা হবে। জঙ্গি অপরাধীদের খুঁজে পাওয়া কঠিন না। তাদের খুঁজে বের করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমরা আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ে সমর্থন পাচ্ছি। তারা যৌথভাবেই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ।

জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে বাংলাদেশ রেলওয়ের সাফল্য, ব্যর্থতা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানান, দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে নেওয়া সরকারের উদ্যোগের কথা।

তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো সৃষ্টি নয় বরং বিদেশিদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে সচেতনতা কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৭৭টি অঞ্চলের স্থান নির্বাচন করা হয়েছে আগামী ১৫ বছরের মধ্যে এক’শটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এরপর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় আক্রান্ত হয়ে উন্নয়ন সহযোগি প্রতিষ্ঠানের সদস্য এবং বিনিয়োগকারী নিহত হওয়ার উদাহরণ টেনে করা সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদ এখন বৈশ্বিক ঘটনা। আর সে কারণেই অনেক দেশ এখন বাংলাদেশের পাশে আছে।

তিনি আরো বলেন, নিখোঁজদের যারা সনাক্ত করতে পারবে তাদের আমি আহ্বান জানাব এই তথ্যগুলো আমাদেরকে জানান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্যগুলো জানালে যারা হামলার সঙ্গে জড়িত তাদেরকে তো ধরা যাবেই; পাশাপাশি পর্দার আড়ালে যারা এর মদদদাতা, যারা এই পরিকল্পনাকারী, যারা প্রশিক্ষণ প্রদান করছে, যারা অর্থ দিচ্ছে তাদেরকেও খুঁজে বের করতে হবে এবং তাদেরকে উপযুক্ত শাস্তি ব্যবস্থা করতে পারব।

২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের জ্বালাও-পোড়াও, ধ্বংসযজ্ঞ ও শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা তুলে ধরে বলেন, এসব ঘটনা বাংলাদেশকে প্রশ্নের মুখোমুখি পড়তে হয়। ওইসব ঘটনা দ্রুত মোকাবেলা করে সুশাসনের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি যখন উজ্জ্বল করেছি, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যখন আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে- তখন আবারও এই হামলার ঘটনা ঘটলো।

মেট্টোরেলের জাপানি পরামর্শক, ৩৫ ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী একজন ইটালী নাগরিকসহ বেশ ক’জন বিদেশি নাগরিককে হত্যা করা হলো। তবে জড়িতরা কেউ রেহাই পাবে না। তাদের আমরা শাস্তির মুখোমুখি করবোই ইনশাল্লাহ।