(মৃত্যুর পর জেগে ওঠা) অমরত্বের সিড়ি নাকি শুধুই রহস্য !

ইসতিয়াক আহমেদ, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটার, সময়ের কণ্ঠস্বর।

ধরুন কোন মানুষ মারা গেল। মারা যাওয়ার দু একদিন পর তাকে সমাহিত করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্ত মাঝপথে দেখা গেল লোকটা উঠে বসেছে। অবাস্তব মনে হচ্ছে? অবাস্তব মনে হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং ইতিহাস কিন্ত বলছে এরকম ঘটনা ঘটা খুব সম্ভব।

ঘটনা ১: ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৬। ঘটনাস্থল হান্টিংডন,ইংল্যান্ড। ড্যাফনি ব্যাংকস নামের এক মহিলাকে হাঞ্চিংব্রুক হাসপাতাল থেকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত ঘোষণার ৩৪ ঘন্টা পর দেখা গেল ভদ্রমহিলা নাক ডাকছেন।

ঘটনা ২: মে ২০০৭।Lewes, Delaware , United States। Judith Johnson (৬১) হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে Beebe Medical Center এ ভর্তি করা হয়। তার পালস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ইলেকট্রিক শক দিয়েও তার পালস ফিরিয়ে আনা যাচ্ছিল না। অবশেষে তাকে 8:34 p.m. এ মৃত ঘোষণা করা হয়।কিন্ত মর্গে রাখার পর দেখা গেল মহিলা নিঃশ্বাস নিচ্ছেন।

উইকিপিডিয়া জানাচ্ছে ১৯৮২ সাল থেকে এরকম ঘটনার সংখ্যা ৩৮ টা।এরকম ঘটনা ঘটার কারণ হল Lazarus syndrome. যীশু খ্রিস্টের মৃত্যুর চারদিন পর তাকে পুনর্জীবিত করেন এক সাধু যার নাম ছিল লাজারুস। তার নাম অনুসারেই এই প্রক্রিয়ার নামকরণ করা হয় Lazarus syndrome.

death arrive

কোমা, কিংবা অন্যান্য প্রায়-মৃত সিন্ড্রোমের সাথে এর মূল পার্থক্য হচ্ছে, এক্ষেত্রে রোগীকে প্রায় মৃত নয়, মৃত বলেই ঘোষণা করা হয়। এই অবস্থায় হৃদযন্ত্র কাজ করা বন্ধ করে দেয়, মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, আক্ষরিকভাবেই বলা যায় এ অবস্থায় মস্তিষ্কের মৃত্যু ঘটে। Lazarus Syndrome অন্য একজন সাধারণ মৃত মানুষের সাথে তার কোন পার্থক্য থাকেনা। এবং তাকে মৃত বলেই ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্ত কিছু সময় পর দেখা যায় রোগী বেচে উঠেছে।

Lazarus Syndrome-এর কিছু কারণ বিজ্ঞানীরা সনাক্ত করার চেষ্টা করেছেন। এরকম ঘটনার এখন পর্যন্ত কোন গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতামত হল, আক্রান্ত ব্যাক্তির বন্ধ হয়ে যাওয়া হৃৎপিন্ড কোনভাবে এপিনেফ্রিন হরমোনের প্রভাবে পুনরায় শক্তি অর্জন করে, এবং পাম্পিং শুরু করে। উল্লেখ্য, এপিনেফ্রিন হরমোন হৃৎপিণ্ডের পাম্পিং নিয়ন্ত্রণ করে, রক্তনালীর মধ্য দিয়ে বাতাস চলাচলের পথ তৈরী করে ঠিকভাবে রক্ত চলাচলের জন্যে। কিন্ত অনেক মানুষের মৃত্যুর পর তাদের শরীরে উচ্চ মাত্রার এপিনেফ্রিন দিয়েও জীবিত করা যায়নি। তাই এপিনেফ্রিন থিওরি কতটা যুক্তিসম্মত তা নিয়ে সন্দেহ রয়েই যায়।

ধারণা করা হয়, প্রাচীন মিশরে এ সিন্ড্রোমের কয়েকটি ঘটনার কারণেই পিরামিডে মৃতকে মমি করে রাখার ব্যাপারটা শুরু হয়। এমনকি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনও এ সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল ছিলেন, যে কারণে তিনি আদেশ দিয়েছিলেন তাঁর মৃত্যুর অন্তত দু সপ্তাহ পরে তাঁকে দাফন করতে।

যাই হোক বিজ্ঞানীরা, Lazarus Syndrome রহস্য খুজে বের করার জন্য গবেষণা করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এর রহস্য উন্মোচিত হলে মানবজাতির অমরত্বের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে।

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া আর রিপ্লিস বিলিভ নট অর ইট।