তজুমদ্দিনের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, আশ্রয় খুঁজছে ঘর হারা মানুষ

b5c2cebe-bf74-42b2-bca2-a4bcd2451b9a


এস আই মুকুল, ভোলা প্রতিনিধিঃ

অধিক বৃষ্টিপাত ও মেঘনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে পুনরায় প্লাবিত হয়েছে ভোলার তজুমদ্দিনের নিম্নাঞ্চল। প্লাবিত হওয়ায় এসব এলাকার প্রায় বিশ হাজার মানুষ গত তিনদিন ধরে জোয়ারের পানির সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে চলছে। প্রতিদিন জোয়ারের পানির সাথে ভেসে যাচ্ছে ভিটামাটি সহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস। ইতোমধ্যে, অনেক পরিবার জোয়ার প্লাবিত এলাকা ছেড়ে পার্শ্ববতী এলাকায় আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র ও সরেজমিন ঘুরে জানাযায়, পাউবোর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ২৭৫ মিটার ভেঙ্গে যায়। ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ সংস্কার না করায় নিয়মিত জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে তজুমদ্দিনের চিহ্নিত নিম্নাঞ্চল গুলো।

প্লাবিত গ্রাম কেয়ামূল্লার পানিবন্দি মোঃ শাহজাহান (৬০) বলেন “বার বার নদী ভাঙ্গনের কবলে সবকিছু হারিয়ে এখন নিঃস হয়ে গেছি। এ পর্যন্ত আমি ছয়বার ভিটা বদল করেছি। কেনা জমিতে পানি উঠায় থাকতে না পেরে গত দেড় মাস ধরে পরিবার নিয়ে ঘর ভাড়া করে অন্যত্রে বসবাস করতে হচ্ছে”। একই গ্রামের শহিদও এরকম অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিলেন অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে।

তজুমদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বেরিবাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। দ্রুত বেরিবাঁধ নির্মাণ না হলে লবনাক্ত জোয়ারের পানির কারণে আমন আবাদ না হওয়ার পাশাপাশি মাটিতে লবনাক্ততা বেড়ে যাবে। এতে মাটি উর্বরতার শক্তি হারিয়ে ফেলে পতিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমির হোসেন বলেন জোয়ারের পানিতে প্রায় পাঁচ শতাধিক পুকুড়ের মাছ ভেসে গেছে। যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি টাকার সমতুল্য। এভাবে লোকসান হলে মৎস্য চাষিরা মাছ চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে।

এ বিষয়ে উপজেলার পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, পানি বন্ধ করতে আমরা আমাদের প্রধান কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করেছি। তাদের মৌখিক নির্দেশে দ্রুত গতিতে চার পাঁটি স্পটে বেরিবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। আশাকরি আগামী পনের দিনে এ কাজ সম্পন্ন হবে।