বছরের পর বছর ভাসছে যে গ্রাম!

মেহেদী হাসান গালিব, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটার, সময়ের কণ্ঠস্বর।

কচুরিপানা কিংবা নৌকা পানিতে ভাসমান হয়ে থাকে। বড় জোর আপনি কিছুক্ষণের জন্য বড় ভেলা বানিয়ে পানির উপর ভাসমান অবস্থায় থাকতে পারেন। কিন্তু পুরো একটি গ্রাম যদি ভাসমান হয়, তখন চোখ কপালে উঠানো ছাড়া আর উপায় থাকে না! হ্যাঁ, শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই সত্যি। চীনের নিঙদে শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সান্তাদু নামের গ্রামটি হল ভাসমান একটি গ্রাম।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি বোমার আঘাতে তছনছ হয়ে যায় চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের এই গ্রামটি। জলের তোড়ে ভেসে যায় সবকিছু। কিন্তু এই ধ্বংসের মাঝেও অদ্ভুতভাবে সৃষ্টি হয় আশ্চর্য এক গ্রাম, যার নাম সান্তাদু।

সান্তাদু গ্রামের বাসিন্দারা কখনো ডাঙার স্বাদ উপভোগ করেনি। তাদের সব কাজকর্মই পানিতে ভেসে ভেসে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধকল সামলে নিয়ে গ্রামের বাসিন্দারা বাঁশ, ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক ব্যবহার করে নতুন গ্রাম গড়ে তুলল। থাকার জন্য তৈরি করল কাঠের বাড়ি। বাড়িগুলোর মধ্যে প্লাস্টিকের সুনিপুণ ব্যবহার বাড়িগুলোকে ভাসতে সাহায্য করে। গ্রামটিতে কাঠের বাড়ির সংখ্যা অনেক। শুধু বাড়িই নয়, ভাসমান এই গ্রামটিতে আছে একটি রেস্তোরাঁ এমনকি আছে একটি থানাও।

flood-village
গ্রামের বাসিন্দাদের মূল জীবিকা হল মাছ ধরা। পানিতেই যাদের বাস, মাছের সাথে তাদের সখ্যতা বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক। চিংড়ি, কুচো চিংড়ি, গলদা চিংড়ি থেকে শুরু করে নানা ধরনের মাছে ভরপুর গ্রামের পানির তলদেশ। তাই তো গ্রামবাসীরা দিনভর মাছ ধরে বেড়ায়। চীনের সেরা ‘সি ফুড’ পাওয়া যায় এখানেই।

প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকায় সান্তাদু গ্রামের বাসিন্দাদের মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করতে হয়। তবুও তারা নিরাশ হয় না। সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার জন্য। তাদের সূচনাই যে হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংস থেকে। তাই তারা কোন প্রতিকূলতাকেই ভয় পায় না। তাদের সংগ্রামের কাছে সবকিছুই হার মেনে যায়।

flood-village2

এই সংগ্রাম ও পরিশ্রমের কারণে তাদের জীবন থেকে যে আনন্দ উবে গিয়েছে, তা কিন্তু নয়। সারাদিন ধরে মাছ ধরার পর রাতে পুরো গ্রামজুড়ে চলে উৎসব। গ্রামবাসীরা আনন্দে মেতে ওঠে। দূর থেকে দেখলে সে দৃশ্য ভারী অপরুপ দেখায়!

সত্যিই ভাবতেই ভালো লাগে যে কিছু মানুষ প্রকৃতির সাথে নিয়মিত লড়াই করে প্রকৃতিকে আলিঙ্গন করে কত কাছ থেক।