সংবাদ শিরোনাম
নোবিপ্রবি’তে ‘বিশ্ব ডিএনএ দিবস’ পালিত! | গরমে ভোগান্তি চরমে, শুক্রবার আরও বাড়তে পারে তাপমাত্রা! | নোবিপ্রবিতে ২য় আন্তর্জাতিক ফিসারিজ শীর্ষক সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত | ‘একটি ছবি তোলার জন্য অনেক সময় জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়’- তথ্যমন্ত্রী | আমতলীতে জমিজমার বিরোধকে কেন্দ্র করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে মারধর | জন্মদিন ভুলে যাওয়ায় বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে শিক্ষিকার আত্মহত্যা! | শপথ পড়লেন আমতলী উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা | হবিগঞ্জ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন | ধান ফলায় কৃষক, মুনাফা লুটে মজুতদার ও মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা! | কক্সবাজারে বিল বকেয়া থাকার অভিযোগে কয়েকটি মসজিদে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন |
  • আজ ১২ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পুলিশের ধাওয়ায় নিহত এক : অভিযানে ডিবি পরিচয়ে থানার ওসি (তদন্ত) !

১১:৪২ অপরাহ্ণ | শনিবার, জুলাই ২৩, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

রেজাউল সরকার(আঁধার), গাজীপুর প্রতিনিধি : জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তরপুর ইউনিয়নের ফালাইনা মিয়ারটেক এলাকায় ডিবি পরিচয়ে থানার ওসি (তদন্ত)’র অভিযানের ধাওয়ায় পানিতে পড়ে নিহত হন সোলাইমান (৫২) নামে একজন ।

শনিবার তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ।

নিহত সোলাইমান উপজেলার বক্তরপুর ইউনিয়নের গোয়ালীয়াবাড়ী রয়েন গ্রামের মৃত হাসিম উদ্দিন হাসুর ছেলে।

স্থানীরা জানায় , শুক্রবার বিকেলে সাদা পোষাকে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) এমএ হক একটি সাদা মাইক্রো নিয়ে বক্তরপুর ইউনিয়নের ফালাইনা মিয়ার টেকের এলাকায় একটি জুয়ার আসরে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে অভিযান চালায়।

অভিযানে পুলিশের ধাওয়ায় গোয়ালীয়াবাড়ী গ্রামের সরোয়ার ও সোলাইমান নামের দুই জুয়ারী ঝাপ দেয় পাশের নাওয়ানের বিলের পানিতে।

আর গোয়ালীয়াবাড়ী গ্রামের তালু (৫০), লিটন (৪০) ও রয়েন গ্রামের তাইজুলকে (৫৫) আটক করে থানায় না নিয়ে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেয় ওসি (তদন্ত) এমএ হক ।

এ সময় সরোয়ার সাঁতরে ডাঙ্গায় উঠলেও সোলাইমান নিখোঁজ ছিল।

পরে স্থানীয় ও পরিবারের লোকজন শুক্রবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত খোঁজাখুজি করে সোলাইমানের সন্ধান পায়নি।

todontoপড়ে শনিবার দুপুরে ওই বিলে তার লাশ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মো. হাবিবুর রহমান তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। কোন আঘাতে নয়, পানিতে পড়েই সোলাইমানের মৃত্যু হয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই এসআই।

আটক হওয়া লিটন ও তাইজুলের পরিবারের লোকজন জানায়, জুয়ার আসর থেকে তাদের তিনজনকে আটক করে গাড়ীতে নিয়ে বিভিন্নস্থানে ঘুরাঘুরি করে ওসি (তদন্ত)। পরে উপজেলার জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের দেওতলা মোড়ে তাদেরকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার আগেই ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে নিহত পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের ধাওয়ায় সোলাইমানের মৃত্যু হলেও অপমৃত্যুর মামলা করার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে বেড়াচ্ছে ওসি (তদন্ত) এমএ হক।

তারা আরো জানান, কোন প্রকার ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাদের কাছে মরদেহ হস্থান্তর করেন। পরিবারের লোকজন তা গ্রহণ না করলে পরে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ব্যাপারে ইন্সিপেক্টর (তদন্ত) এমএ হকের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে, প্রথমে বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেলেও পরে ঘটনার কথা স্বীকার করেন এবং বলেন, আমি গাজীপুরে আছি নিউজ করার দরকার নাই। অন্য সাংবাদিকদেরকে নিউজ করতে বন্ধ করেন। সন্ধ্যায় আমার অফিসে দেখা কইরেন।

কালীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলম চাঁদ আমাকে জানিয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি ওসি তদন্তকে জিজ্ঞেস করলে তার কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলেও তিনি জানান। তিনি আরো জানান, এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্য মামলা হবে।