সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি : ১৪৫ প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিতে ভাসছে

৪:৪৭ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুলাই ২৬, ২০১৬ দেশের খবর, রাজশাহী

আশরাফুল ইসলাম রনি, তাড়াশ প্রতিনিধি: যমুনা নদীর অব্যহত পানি বৃদ্ধি ও ভারী বর্ষণের কারণে সিরাজগঞ্জের চলনবিল অধ্যাষিত, নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের প্রায় ১৪৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক স্কুল কলেজ প্রায় ১৫ টি সহ লাখো মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় ২৫শ হেক্টর আবাদি জমি তলিয়ে গেছে।

taras-taras

বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা যায়, বন্যা কবলিত নদী তীরবর্তি জেলার ৫ টি উপজেলা সদর ১৭ টি, কাজিপুর ১৬ টি, বেলকুচি ১২ টি, চৌহালী ২০ টি, শাহজাদপুর ২৫ টি ও নিম্নাঞ্চল চলনবিল অধ্যুষিত উল্লাপাড়া ৪৫ টি এবং তাড়াশ ১০ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার প্রায় ৭ শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

গত ২৪ ঘন্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় প্রতিদিনই জেলার নদী তীরবর্তি নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি নদীর ভাঙ্গনও প্রকট আকার ধারণ করছে।

তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কামারশোন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, লারুয়ামাঝীড়া সপ্রাবি, চাকরৌহালী কোনাবাড়ী দেবীপুর সপ্রাবি সহ ১০টি স্কুল পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। এসব বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি একেবারেই নেই। শিক্ষক / শিক্ষিকারা স্কুল বা আশপাশের নিরাপদ উচু স্থানে বসে অলস সময় পার করছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, বন্যার প্রস্তুতির বিষয়ে উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রত্যেক উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা সহ শিক্ষকদের সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। যে সমস্ত স্কুলে বা আঙ্গিনায় পানি উঠেছে সেই স্কুলগুলোর শিক্ষকদেরকে শিশু শিক্ষার্থীদের যারা সাতার জানে না তাদেরকে বাদ দিয়ে যারা সাতার জানে তাদেরকে নিয়ে পার্শবর্তি স্কুল বা নিরাপদ জায়গায় ক্লাস নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু স্কুল বন্ধ রাখা যাবে না। সেই সাথে বন্যা কবলিত জনগনের পাশে থাকতেও বলা হয়েছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম জানান, জেলায় প্রায় ১৫ টি মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় পানি উঠেছে। যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানি উঠেছে সেই সমস্ত প্রতিষ্ঠান গুলোর পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ ওমর আলী শেখ জানান, কাজিপুর, বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলা প্রায় ১২শ হেক্টর আবাদি জমি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

অপরদিকে তাড়াশ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, চলনবিল অধ্যাষিত এ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের ভাদাস, বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া, কুসুম্বী, আষানবাড়ী, মনোহরদী, সদর ইউনিয়নের সোলাপাড়া গ্রাম সহ প্রায় ১০-১২ টি গ্রামের প্রায় ৭ শত হেক্টর জমির রোপনকৃত ধান ও বীজ তলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মোঃ বিল্লাল হোসেন বলেন, বন্যা মোকাবেলার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। দুর্গতদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণও মজুদ রয়েছে।