সংবাদ শিরোনাম
নরসিংদীতে প্রথমবারের মতো সর্বাধুনিক কার ওয়াশ ও সার্ভিসিং সেন্টার উদ্বোধন | রাজধানীতে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে ‘ফইন্নি গ্রুপের’ ৬ সদস্য আটক | এবার চমেক চিকিৎসকদের জন্য ‘নোবেল’ চাইলেন মেয়র নাছির | তানোরে অবৈধ এসটিসি ব্যাংক সিলগালা | ফাঁড়িতে আসামির মৃত্যু: পুলিশ-এলাকাবাসীর সংঘর্ষে আহত ৩৩, পাঁচ পুলিশ প্রত্যাহার | লালমনিরহাটে সহকারী পরিচালকের বেত্রাঘাতে স্কুলছাত্রী অজ্ঞান | সাগরে মৎস আহরণে নিষেধাজ্ঞা, ফিশারিঘাট হারিয়েছে চিরাচরিত রুপ | ‘আবরার পানি খাইতে চাইলে পানি দেওয়া হয় নাই’ | নান্দাইলে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ রাখায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা | মাগরিবের আজানের ২০ মিনিটের মধ্যে ছাত্রীদের হলে ঢোকার নির্দেশ! |
  • আজ ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রয়াত এক মুক্তিযোদ্ধার সহায়-সম্পদ বেদখল: মুক্তিযোদ্ধার প্রতিভাময়ী স্ত্রীর মানবেতর জীবন

৯:০১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৮, ২০১৬ দেশের খবর, রাজশাহী, স্পট লাইট

জামাল জাহেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক-  পাবনার এক প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার সহায় সম্পদ প্রভাবশালীদের দখলে নেয়ায় বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে জানা যায়। দেশ-মাতৃকার টানে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়ে বিজয়ী হলেও জীবনযুদ্ধে হয়েছেন পরাজিত এক সৈনিকের নাম মরহুম এম এ মতিন খান রেজ্জাক।pabnaস্বাধীনতার ৪৩ বছরেও মুক্তিযোদ্ধারা পাচ্ছেনা তাদের অধিকার, পাচ্ছেনা তাদের পরিববার নাগরিক সুযোগ সুবিধা,বর্তমান সরকার ব্যাপক সাহায্য সহযোগিতার চেষ্টা করেও সফল হতে পারছেনা সঠিক মুক্তিযোদ্ধার পরিবারবর্গদের রক্ষনাবেক্ষণে দুরন্ত চেষ্টা। কারন বারবার কোন না কোন আগ্রাসনের মুখে মুক্তিযোদ্ধাদের বেঁচে থাকা।

জনাব এম এ মতিন খান রেজ্জাক পাবনা জেলার শিবরামপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একজন। যার জম্ম ১৯৫৯ সালে যদিও তিনি একাধারে ভালো ফুটবলার ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসাবে বেশ পরিচিত ছিলেন পুরা পাবনা জেলায়। বাবার নাম মরহুম আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ খান।

তথ্যসুত্রে জানা যায়, যার মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট স্মারক নং মু,বি,ম/সা/পাবনা/প্র/৩৮/২০০২/৮৭৫। যিনি ২০০৩সালে ঢাকায় কঠিন রোগে মৃত্যু বরণ করেন। বর্তমানে তার প্রতিভাময়ী বিধবা স্ত্রী ও এক ছেলে কঠিন মানবেতর জীবন যাপন করেছেন মুক্তিযোদ্ধার রেখে যাওয়া সম্পদ হারিয়ে।indexঅন্যদিকে প্রতিভাময়ী নারী জিনিয়া খান ‘‘সততা, কর্মস্পৃহা, আত্নসচেতনতা,নিজ প্রতিভা একজন নারীকে উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করার দৃঢ় চেষ্টায় এখনো অটল যেহেতু মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী বলে কথা। নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য একজন নারীকে হতে হয় দৃঢ় প্রত্যয়ী। পথ চলতে হয় সতর্কতার সাথে। নিজস্ব বুদ্ধি মত্তা দিয়ে জীবনের জটিলতা গুলো কাটিয়ে ওঠতে হয়, অতিক্রম করতে হয় বাঁধার প্রাচীর।

প্রত্যয়ী হতে হয় নিজেকে নারী জাতির গৌরব হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াসে’’-বলছিলেন কথা গুলো মহিয়সী নারী কন্ঠশিল্পী জিনিয়া খান। তিনি পাবনার এক বিখ্যাত ওষুধ প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান এডরুক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মরহুম আব্দুল হামিদ খানের ছেলে একসময়ের খ্যাতিমান ফুটবলার, পিপ ম্যানুফেকচ্যারিং কেমিষ্ট এর উত্তাধিকারী ও পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন খান রাজ্জাকের গর্বিত স্ত্রী।

একমাত্র পুত্র সন্তানের জননী জিনিয়া। একজন বহুমুখী প্রতিভাময়ী নারী ও কণ্ঠ শিল্পী হিসেবে জিনিয়া খান বিশেষ ভাবে পরিচিত। মেধাবী ও প্রতিভাময়ী জিনিয়া কুষ্টিয়ার মেয়ে।

বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের স্ত্রী হিসাবে প্রতিভাময়ী কন্ঠশিল্পী। তিনি ছিলেন আড়োয়া পাড়া গার্লস স্কুলের মেধাবী ছাত্রী। ওই স্কুল থেকেই তিনি এস.এস.সি পাশ করেন এবং কৃতিত্বের সাথে এইচ.এস.সি পাশ করেন কুষ্টিয়ার ইসলামিয়া কলেজ থেকে।

ছোট বেলা থেকেই তিনি সঙ্গীতের প্রতি বিশেষ অনুরাগী। সঙ্গীতে ভাল দখল দেখিয়ে আসছেন তিনি। পুরষ্কৃত হয়েছেন নানা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়। বাংলাদেশ শিশু একাডেমী আয়োজিত জাতীয় মৌসুমী শিশু প্রতিযোগিতায় তিনি একাধিকবার পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশনে তাঁর পরিবেশনা বিমুগ্ধ করে অগণিত দর্শক শ্রোতাকে। জিনিয়া একজন আদর্শ গৃহিনী। সঙ্গীত শিল্পী জিনিয়া খান একজন আত্নপ্রত্যয়ী এগিয়ে যাওয়া নারী। জিনিয়া নারীদের অহংকার, জিনিয়া আমাদের মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সকলের অহংকার। কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হয়েও এই গুণী নারী জিনিয়া খান নানা কারণে বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে জানালেন তিনি নিজেই।

দেশ স্বাধীনের স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭১ সালে এম এ মতিন খান রেজ্জাক মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে রক্ত দিয়ে স্বাধীন সবুজ পতাকা হাতে নিয়ে যুদ্ধ শেষে দেশ স্বাধীন করে বাংলাদেশকে হানেদার মুক্ত করলেও তার মৃত্যুর পরপরেই তার ভূমি সম্পদ ও বসত ভিটা স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

একটি স্বার্থান্বেষী মহল আজ জিনিয়ার জীবনকে বিষিয়ে তোলেছে। সহায় সম্পত্তি থেকে তাকে বন্ঞিত করার জন্য একটি মহল আজ তৎপর হয়ে উঠেছে। ইতিপূর্বেই এই মহলটি দখল করে নিয়েছে তার ব্যবসা ও সহায় সম্পত্তি। তাকে ব্যবসার সকল অধিকার থেকে বঞ্জিত করে কুক্ষিগত করে নিচ্ছে সব টাকা পয়সা।

অর্থ সংকটে আজ এই মহিয়ষী নারীর জীবন আজ বিপন্ন হয়ে উঠেছে। এমনি অবস্থায় জিনিয়া খান সরকার ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হিসাবে বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে সহযোগিতার হাত বাড়াতে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের ও সহযোগিতা কামনা করেন কন্ঠশিল্পী জিনিয়া।

গনমাধ্যম ও গনমানুষের অনেকে আশা করেন, সরকার তার মানবিক আকুতিতে সাড়া দেবেন এবং তার ন্যায্য অধিকার হরণকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন এবং অন্যদিকে মানবেতর জীবন থেকে উত্তরনের জন্য সরকার তড়িৎ গতিতে মহান মুক্তিযোদ্ধা পরিবার রক্ষার আবেদনে সাড়া দেবেন।