গাইবান্ধায় নদীর বাঁধ ভেঙে ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদে পানি!

৯:২৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, জুলাই ৩১, ২০১৬ আলোচিত, দেশের খবর, রংপুর

মোঃ ফরহাদ আকন্দ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি: ব্রহ্মপুত্র নদের সিংড়িয়ার রতনপুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধভাঙ্গা পানির তোড়ে আলাই নদীর তালুককানুপুর ও সদর উপজেলার চুনিয়াকান্দির সোনাইল বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধটি রোববার দুপুরে ভেঙ্গে গেছে।gaibandaফলে সদর উপজেলার বোয়ালি, বাদিয়াখালি, সাঘাটার পদুমশহর, ফুলছড়ির কঞ্চিপাড়া ও উদাখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এদিকে বাঁধ ভাঙ্গা পানির তোড়ে কালিরবাজারের গোটা ফুলছড়ি উপজেলা চত্ত্বর এখন বন্যার পানিতে নিমজ্জিত।

এছাড়া ফুলছড়ি উপজেলার সকল সড়ক জলমগ্ন হওয়ায় উপজেলা পরিষদটি জেলা শহরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কাতলামারির উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এখন জলমগ্ন। ফলে নৌকা ছাড়া উপজেলা পরিষদ ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাতায়াতের কোন ব্যবস্থা নেই।

বাঁধ ভাঙ্গা বন্যার পানির তোড়ে ফুলছড়ির কালিরবাজার-গুণভরি সড়কের পূর্ব ছালুয়া এবং কালিরবাজার কাঠুর সড়কের ব্রীজ দুটি ভেঙ্গে গেছে। ফলে ওই এলাকায় মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে।

বাঁধ ভাঙ্গা বন্যা কবলিত মানুষ বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে আশ্রয় নিয়ে বিশুদ্ধ পানি, টয়লেট এবং গবাদি পশুর খাদ্য সংকটে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এছাড়া রান্না করার কোন ব্যবস্থা না থাকায় তারা খাদ্য সংকটে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সরকারি উদ্যোগে যে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে তা চাহিদার চাইতে নিতান্তই অপ্রতুল।

ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ পর্যন্ত ২৬ লাখ টাকা ও সাড়ে ৮শ’ মে. টন চাল এবং ১ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সেসব ত্রাণ সামগ্রী দুর্গত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। বেসরকারি উদ্যোগে এখন পর্যন্ত কোন ত্রাণ সহায়তা বন্যা কবলিত এলাকায় বিতরণ করা হয়নি।

গাইবান্ধা সিভিল সার্জন ডাঃ নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান, বন্যা কবলিত ৪টি উপজেলায় ৬৫টি মেডিকেল টিম স্বাস্থ্যসেবায় কর্মরত রয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কুমার সরকার জানান, সিংড়িয়া ও সোনাইল বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয় লোকজনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।