সংবাদ শিরোনাম
নরসিংদীতে প্রথমবারের মতো সর্বাধুনিক কার ওয়াশ ও সার্ভিসিং সেন্টার উদ্বোধন | রাজধানীতে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে ‘ফইন্নি গ্রুপের’ ৬ সদস্য আটক | এবার চমেক চিকিৎসকদের জন্য ‘নোবেল’ চাইলেন মেয়র নাছির | তানোরে অবৈধ এসটিসি ব্যাংক সিলগালা | ফাঁড়িতে আসামির মৃত্যু: পুলিশ-এলাকাবাসীর সংঘর্ষে আহত ৩৩, পাঁচ পুলিশ প্রত্যাহার | লালমনিরহাটে সহকারী পরিচালকের বেত্রাঘাতে স্কুলছাত্রী অজ্ঞান | সাগরে মৎস আহরণে নিষেধাজ্ঞা, ফিশারিঘাট হারিয়েছে চিরাচরিত রুপ | ‘আবরার পানি খাইতে চাইলে পানি দেওয়া হয় নাই’ | নান্দাইলে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ রাখায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা | মাগরিবের আজানের ২০ মিনিটের মধ্যে ছাত্রীদের হলে ঢোকার নির্দেশ! |
  • আজ ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এবছর পাবনায় সোনালী আঁশের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

৬:৩১ অপরাহ্ণ | রবিবার, আগস্ট ৭, ২০১৬ দেশের খবর, রাজশাহী

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা জেলার নয় উপজেলায় সোনালী আঁশ পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি আর অনুকুল আবহাওয়ার কারণে এমন সম্ভাবনা বলে জানিয়েছে কৃষি কর্মকর্তারা। পাশাপাশি এবছর খরিফ-১ মৌসুমে পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। এরই মধ্যে দেশী জাতের পাট বেশ বড় হয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে এবার জেলায় পাটের আশাতীত ফলন হবে বলে আশা করছে কৃষি অধিদপ্তর।Pabna Jute Photo

জেলায় চলতি মৌসুমে ৩৭ হাজার ২৪২ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। এর বিপরীতে উৎপাদন লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার ৯৫৯ বেল। পাবনা জেলায় চলতি খরিফ-১ মৌসুমে ১৫৩ হেক্টর জমিতে দেশী জাতের পাট আবাদ হয়েছে। আর তোষা ও মেস্তা পাট আবাদ হয়েছে যথাক্রমে ৩৬ হাজার ৯৭৯ ও ১১০ হেক্টর। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভূতি ভূষণ সরকার জানান, পাবনা সদর উপজেলায় চলতি খরিফ-১ মৌসুমে ৮ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। এর বিপরীতে ৯০ হাজার ৫০১ বেল পাট উৎপাদন হতে পারে। এর মধ্যে ১৩৯ বেল দেশী পাট, তোষা ৯০ হাজার ২৭৮ এবং ৮৪ বেল মেস্তা পাট উৎপাদন হতে পারে। আটঘরিয়া উপজেলার ৩ হাজার ৮৮৬ হেক্টর জমিতে ৪২ হাজার ৯২৮ দশমিক ৪ বেল পাট উৎপাদন হতে পারে। এর মধ্যে দেশী পাট ৪৬ বেল; তোষা ৪২ হাজার ৮৭৪ এবং ৮ দশমিক ৪০ বেল মেস্তা পাট। ঈশ্বরদী উপজেলায় ৫১০ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ৬১৩ বেল পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে দেশী পাট ৪৬ বেল, তোষা ৫ হাজার ৫২৫ এবং মেস্তা জাতের পাট উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪২ বেল।

চাটমোহরে মোট ৫ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমিতে ৫৯ হাজার ৩৭৫ বেল পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে দেশী জাতের পাট ৫৫৬ বেল, তোষা ৫৮ হাজার ৩৯৯ বেল ও মেস্তা জাতের পাট উৎপাদন হতে পারে ৪২০ বেল। ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ৫২৫ হেক্টর জমিতে পাটের উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ৫ হাজার ৬৮৫ বেলে। এ উপজেলায় ৪১৭ বেল দেশী জাতের পাট উৎপাদন হতে পারে। এছাড়া তোষা ও মেস্তা জাতের পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে যথাক্রমে ৫ হাজার ১৩৮ ও ১২৬ বেল। ফরিদপুর উপজেলার ৬৩১ হেক্টর জমিতে ৯ হাজার ৯২৯ দশমিক ৫ বেল পাটের ফলন পাওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে দেশী জাতের ১৮ দশমিক ৫ বেল; তোষা ৬ হাজার ৭৮৫ ও মেস্তা পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে ১২৬ বেল।
জেলার বেড়া উপজেলায় পাট আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬৮৩ হেক্টর জমি। আর উৎপাদন লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৫৯০ দশমিক ৩ বেল। এর মধ্যে দেশী পাট ১০ বেল; তোষা ১৮ হাজার ৫৬৪ এবং মেস্তা জাতের পাট উৎপাদন হতে পারে ১৭ বেল। সাঁথিয়া উপজেলার ৫ হাজার ৮৮২ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। এর বিপরীতে পণ্যটি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে ৬৪ হাজার ৯৮২ বেল। এর মধ্যে দেশী জাতের পাট ৪৬; তোষা ৬৪ হাজার ৯১৯ ও ১৭ বেল মেস্তা পাট উৎপাদন হতে পারে। সুজানগরের ১০ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৫৯ বেল পাট উৎপাদনের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে দেশী ১৩৯, তোষা ১ লাখ ১৬ হাজার ১৩৬ ও মেস্তা জাতের পাট উৎপাদন হতে পারে ৮৪ বেল। পাবনা জেলায় সুজানগর উপজেলায় এবারে সবচেয়ে বেশি পাটের আবাদ ও উৎপাদন হতে যাচ্ছে।

পাবনা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল খালেক জানান, গত মৌসুমের চেয়ে এবার ১ হাজার ২৪৯ হেক্টর বেশি জমিতে পাট আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সে হিসাবে পণ্যটির উৎপাদনও বাড়বে ২১ হাজার ৬১১ বেল। গত মৌসুমে জেলার নয় উপজেলার ৩৫ হাজার ৯৯৩ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। আর এর বিপরীতে উৎপাদন হয় ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৩৪৮ বেল। সরকার পাটের বস্তা ব্যবহারের ওপর জোর দেয়ার কারণে পণ্যটির আবাদ বাড়ছে। ফলে পাটচাষীরা ভালো লাভবান হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।