সংবাদ শিরোনাম
নরসিংদীতে প্রথমবারের মতো সর্বাধুনিক কার ওয়াশ ও সার্ভিসিং সেন্টার উদ্বোধন | রাজধানীতে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে ‘ফইন্নি গ্রুপের’ ৬ সদস্য আটক | এবার চমেক চিকিৎসকদের জন্য ‘নোবেল’ চাইলেন মেয়র নাছির | তানোরে অবৈধ এসটিসি ব্যাংক সিলগালা | ফাঁড়িতে আসামির মৃত্যু: পুলিশ-এলাকাবাসীর সংঘর্ষে আহত ৩৩, পাঁচ পুলিশ প্রত্যাহার | লালমনিরহাটে সহকারী পরিচালকের বেত্রাঘাতে স্কুলছাত্রী অজ্ঞান | সাগরে মৎস আহরণে নিষেধাজ্ঞা, ফিশারিঘাট হারিয়েছে চিরাচরিত রুপ | ‘আবরার পানি খাইতে চাইলে পানি দেওয়া হয় নাই’ | নান্দাইলে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ রাখায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা | মাগরিবের আজানের ২০ মিনিটের মধ্যে ছাত্রীদের হলে ঢোকার নির্দেশ! |
  • আজ ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের হাতে ভিক্ষার থালা

৬:৪৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, আগস্ট ৭, ২০১৬ দেশের খবর, রাজশাহী

কামাল হোসেন, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: শিরোনামটি অবাক করার মত হলেও ঘটনাটি একেবারে সত্য যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে একজন মুক্তিযোদ্ধা সরকারি সুযোগ সুবিধা না পেয়ে জীবন জীবিকার তাগিদে বেছে নিয়েছে ভিক্ষার থালা। তিনি ১৯৭১ সালের যেভাবে দেশকে শত্র“ মুক্ত করতে বেছে নিয়েছিলেন রাইফেল। সে অস্ত্র (রাইফেল) চালিয়ে টানা ৯ মাস পাকহানাদার বাহিনীর হাত থেকে দেশকে শত্র“ মুক্ত করতে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। যুদ্ধ শেষে জয়ী হয়ে পেয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধার খেতাব।Shibganj Fredom Picture

সেই মুক্তিযোদ্ধাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান উপাধি দিয়ে রাষ্ট্র তাদের নানান সুযোগ সুবিধা চালু করেন। সেই সুযোগ সুবিধা পেয়ে ভালই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা বেলাল উদ্দিন। বেলাল উদ্দিন শিবগঞ্জ পৌর এলাকার দৌলতপুর হাজিপাড়া গ্রামের মৃত ওসমান আলীর ছেলে। সরেজমিনে এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে মুক্তিযোদ্ধা বেলাল উদ্দিন জানান, আমি ২৭ বছর বয়সে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের প্ররোচনায় মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর আমাকে প্রশিক্ষণের জন্য প্রথমে ভারতের মালদাহ পাঠান। সেখানে প্রায় ১৫ দিন প্রশিক্ষণ শেষে ৭নং সেক্টর তরঙ্গপুর, কালিয়াগঞ্জ পুনরায় এক মাস প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। প্রশিক্ষণ শেষে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ও মেজর নুরুজ্জামানের অধীনে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। টানা ৯ মাস শিবগঞ্জ উপজেলার আড়গাড়াহাট ও ধোবড়া এলাকায় যুদ্ধ করে দেশকে শত্র“মুক্ত করি। যুদ্ধ শেষে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি হিসেবে সনদপত্র দেয়া হয়।

এছাড়া অস্ত্র (রাইফেল) জমা দেয়ার টোকেনটিও গ্রহণ করি। সেগুলো বর্তমানে আমার কাছে রয়েছে। সরকার যখন মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা, সম্মানী দেয়া শুরু করে তখন থেকে আমি নিয়মিত সুযোগ সুবিধা পেয়ে আসছিলাম। কিন্তু আমার সমস্ত কাগজপত্র থাকার পরও গত ১০ মাস থেকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বলেও আমার সমস্ত সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দেয়া হয়। তাছাড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কর্মচারী বুলবুল আমার মুক্তিযোদ্ধার বহিসহ যাবতীয় কাগজপত্র কেড়ে নেয়। তখন থেকে আর কোন সরকারি সুযোগ সুবিধা আমি আর পাইনি। এনিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে গিয়েও কোন কাজ না হওয়ায় আমাকে এখন ভিক্ষা করতে হচ্ছে। চার ছেলে ও তিন মেয়ে নিয়ে আমার সংসারটি চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অসুস্থ শরীর নিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন রাস্তায় ও বাজারে বাজারে ঘুরে আমাকে ভিক্ষা করতে হচ্ছে। ভিক্ষা করে যা আয় হয় তা দিয়ে ঔষধ পত্র কেনাসহ সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বজলার রশিদ সনু বলেন, সরকারি যাচাই বাছাইয়ের সাময়িক সার্টিফিকেট, সর্বশেষ সরকারি গেজেট অনুযায়ী মুক্তিবার্তায় নাম থাকতে হবে। ভারতীয় নাম্বার তালিকায় নাম থাকবে হবে। সেগুলো কিছু না থাকায় তার সমস্ত সুযোগ সুবিধা বন্ধ রয়েছে।