ভৌগলিক ও কৌশলগত সম্ভব্যতা আমতলীকে জেলায় রূপান্তরের দাবী

৯:০৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, আগস্ট ১৬, ২০১৬ দেশের খবর, বরিশাল

বরগুনা_3690



এম সাইদ খোকন ও খায়রুল বাশার বুলবুল:

প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনার আমতলী আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আমতলীর মানুষের উন্নয়নের স্বপ্ন দেখা মূলত জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে শুরু হয়। সে সময়ে বিএনপি-জামাত জোটের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেনি, পেশা, বর্ন, ধর্মের মানুষ ঔক্যবদ্ধ হয়ে ভোট দিয়ে জননেত্রীকে নির্বাচিত করেন। পরে বিএনপি-জামাত সরকারের ক্ষমতায় এলে এ জনপদের মানুষ শান্তি-উন্নয়ন থেকে কেবল বঞ্চিতও হয়নি নিত্য ভোগ করতে নির্যাতন-সহিংসতা ও মামলা। উন্নয়নের নাম গন্ধও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার সারাদেশের পাশাপাশি অবহেলিত দক্ষিন জনপদে ব্যাপক উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় পায়রা সমুদ্র বন্দর, ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, নৌ ঘাটি, দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন, কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র, বরগুনার তালতলী উপজেলায় তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র, জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প, সোনাকাটা ইকোপার্ক, পাথরঘাটার হরিণঘাটা, লালদিয়ার চরে পর্যটনস্পট এর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ১৩ আগস্ট শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে গণভবন থেকে স্বপ্নের নবনির্মিত পায়রা সমুদ্রবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন।

ভৌগলিক ও কৌশলগত কারনেই ব্যাপক এই উন্নয়ন কর্মকান্ডের সম্বন্বিত অংশিদার হতে যাচ্ছে কলাপাড়া, গলাচিপা, রাঙ্গাবালি, আমতলী এবং তালতলী উপজেলা। বাকী উন্নয়নশীল উপজেলাগুলোর সংযোগ পথ এবং জংশন হচ্ছে আমতলী উপজেলা। দেশের যে প্রান্ত থেকেই হোক না কেন পটুয়াখালী বা বরগুনা হয়ে ঐ উপজেলাগুলোতে যেতে হলে আমতলী উপজেলার ভিতর দিয়ে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার জায়গা অতিক্রম করতে হয়।

উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতায় এ অঞ্চলে একটি প্রশাসনিক জেলা ঘোষনা সময়ের ব্যাপার বলে স্থানীয় মানুষেরা মনে করছেন। সে ক্ষেত্রে যোগাযোগ, ভৌগলিক কারন, কৌশলগত সুবিধা, রাজনৈতিক পেক্ষাপটের বিচারে আমতলী উপজেলায় নতুন একটি জেলা সদর প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাইরের দাবী রাখে। আমতলীর আপামর জনগন দেড়শ বছরেরও পুরানো এই উপজেলাকে জেলায় রূপান্তরের দাবীতে সোচ্চার হয়েছেন। আমতলীর নাগরিক ফোরাম ইতিমধ্যে জেলা ঘোষনার দাবীতে গত ১০ আগস্ট আমতলী উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে।

আমতলী দক্ষিনাঞ্চলের প্রাচীনতম জনপদ। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে আমতলীতে (আমতলীর গুলিশাখালী গ্রামে) প্রশাসনিক থানা স্থাপন করা হয়। ১৯০৪ সালে থানার নামকরণ করা হয় আমতলী। বার্তমানের বরগুনা জেলা ও পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া ও মির্জাগঞ্জ উপজেলা আমতলী থানার অন্তর্গত ছিল। পরবর্তীতে আমতলীকে মহাকুমায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেয়া হলেও ১৯৬৫ সালে মৌলিক গণতন্ত্রের অধীনে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে আমতলীর প্রার্থী ডা. ফজলুর রহমান মাত্র এক ভোটে হেরে যান এবং বিজয়ী এমএনএ আবদুল আজিজ ১৯৬৯ সনে আমতলীর দাবীকে অগ্রাহ্য করে বরগুনা সদরকে মহাকুমায় উন্নীত করেন। ১৯৮২ সালের ৩ নভেম্বর বার (১২) টি ইউনিয়ন সম্মৃদ্ধ আমতলী থানা উপজেলায় রূপান্তরিত হয় এবং বরগুনাকে জেলা ঘোষনা করা হয়। সময়ের বিবর্তনে আমতলী থেকে বিভক্ত হয়ে বরগুনা পূর্নাঙ্গ জেলা এবং কলাপাড়া একটি উন্নত জনপদ।

রাজনৈতিক পরিমন্ডলে আমতলীর নেতৃবৃন্দের ঐতিহ্য আভিজাত্যের। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার পর প্রথম প্রতিবাদ উঠেছিল বরগুনা জেলা থেকে। সে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ আন্দোলনে অন্যতম নেতৃত্বে ছিলেন মরহুম নিজামউদ্দীন আহমেদ এমপি, বরগুনা কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল আলম, বরগুনা ১ আসনের বর্তমান সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। এদের সকলের বাড়ি আমতলী উপজেলায়। এছাড়া অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তখনকার তরুন ছাত্রনেতা বরগুনা ১ আসনের সাবেক সাংসদ দেলোয়ার হোসেন এবং বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক জাহাঙ্গীর কবির এর শ্বশুর বাড়িও এই আমতলীতে।

সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিকাশে আমতলী উপজেলা পটুয়াখালী-বরগুনা জেলার মধ্যে এক সময়ে নেতৃত্ব প্রদান করেছে। বিভিন্ন সংবাদ ও গণমাধ্যমে অন্যান্য উপজেলার মধ্যে আমতলী সারা দেশব্যাপী এক নামে পরিচিত।

আমতলীর নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ আলাপকালে জানিয়েছেন, বাস্তবায়নাধিন উন্নয়নের গেটওয়ে হলো আমতলী উপজেলা। এখানে একটি জেলা হেডকোয়ার্টার হলে প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনায় যতোটা সহায়ক হবে আর কোথাও তেমনটি সম্ভবপর নয়। তারা অবহেলিত দক্ষিন উপকূলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমতলীকে প্রশাসনিক জেলা ঘোষনা করার আবেদন জানাচ্ছেন।